ইনমা অ্যাওয়ার্ডস কেন গুরুত্বপূর্ণ
যেকোনো মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক আসর থেকে পুরস্কার লাভ করাটা বেশ গৌরবের, আনন্দের। কিন্তু ‘ইনমা গ্লোবাল মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডস’–এর ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব ও ব্যাপকতা অন্য সব স্বীকৃতিকে ছাড়িয়ে, সবচেয়ে বেশি। সংবাদমাধ্যমের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় আসর ‘ইনমা গ্লোবাল মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডস’ প্রতিযোগিতা একটি মানদণ্ড নির্ধারণ করে। মানদণ্ডটি হলো—বিশ্বব্যাপী সেরার চেয়ে সেরা।
গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের জন্য সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই প্রতিযোগিতায় গত এক দশকে শতাধিক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় আট হাজার আবেদন জমা পড়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের বৃহত্তম বৈশ্বিক সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল নিউজ মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশন বা ইনমা। ১৯৩৭ সাল থেকে ইনমা ক্রমবর্ধমান পাঠক-দর্শক-শ্রোতা ও বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্র্যান্ডের শ্রেষ্ঠত্বের জন্য পুরস্কার প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছে। বর্তমানে ৮৩টি দেশের ৯ শতাধিক সংবাদমাধ্যমের ২০ হাজারের বেশি ব্যক্তি ইনমার সদস্য। সংবাদমাধ্যমের ব্যবসা, ব্র্যান্ড ও পাঠকদের নিয়ে কাজ করা বিশ্বের বৃহত্তম সংগঠন এটি।
বিশ্বের সংবাদমাধ্যমগুলোর উদ্ভাবনী ও বেস্ট প্র্যাকটিস, মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের যথার্থ ব্যবহার, সাবস্ক্রিপশন, ব্যবসায় উন্নয়ন, বিজ্ঞাপন, ডেটা ও ইনসাইটস, প্রোডাক্ট এবং নিউজ রুমসহ বিভিন্ন বিভাগে সেরা উদ্যোগগুলোকে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবার। এবারের আসরে বিশ্বের ২০টি দেশের ৫০ জন জ্যেষ্ঠ সংবাদমাধ্যম বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে গঠিত জুরিবোর্ড দুই মাসব্যাপী সব আবেদন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে ৩৩২টি আবেদন চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়।
অন্যান্যবারের তুলনায় এবারের আসরের দিকে সবার ছিল বিশেষ মনোযোগ। কারণ, করোনাকালীন সংবাদমাধ্যমশিল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বিশ্বব্যাপী। তারই প্রেক্ষাপটে করোনা এবং করোনা-পরবর্তী সময়ে সংবাদমাধ্যমের যেসব সৃজনশীল উদ্যোগ এই শিল্পকে বিশ্বব্যাপী ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে, সেসব চিত্র ফুটে উঠেছে এবারের আসরে।
এবারের পুরস্কার সম্পর্কে ইনমার নির্বাহী পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আর্ল জে উইলকিনসন বলেন, ‘পাঠকদের অধিকতর যুক্ত করতে এবং নতুন ধরনের সাবস্ক্রিপশন ও নতুন পাঠক তৈরিতে নানান উদ্যোগ ও যোগাযোগ কৌশলগুলোই এবারের গ্লোবাল মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডসে প্রাধান্য পেয়েছে।’
বৈশ্বিক মঞ্চে নিজেদের সেরা উদ্যোগ উপস্থাপন করার সবচেয়ে বড় মঞ্চ ইনমা গ্লোবাল মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডস। এর মাধ্যমেই নিজেদের সেরা সৃজনশীল উদ্যোগ, বৈশ্বিক কাতারে অন্যান্য স্বনামধন্য সংবাদমাধ্যমগুলোর সাম্প্রতিক উদ্যোগের সঙ্গে কোথায় অবস্থান করছে, তার একটি স্পষ্ট তুলনামূলক চিত্র পাওয়া যায়। বিশ্বব্যাপী সংবাদমাধ্যমগুলোর এই অনন্য উদ্যোগগুলো অন্যদের নিজেদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সাজাতেও বেশ সহায়ক।