উবায়দুল্লাহ ফারুককে জামায়াতের সমর্থন

উবায়দুল্লাহ ফারুক
উবায়দুল্লাহ ফারুক

সিলেটের দুটি আসনে জামায়াত নির্বাচন করতে চেয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো আসনেই ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে তাদের দলের নেতাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় দলটির নেতা-কর্মীরা ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীর সমর্থনে প্রচার-প্রচারণায়ও যোগ দেননি। তবে জামায়াতের দাবি করা দুটি আসনের মধ্যে সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট) আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে দলের পক্ষ হতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়।

গতকাল সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গতকাল জামায়াতের সিলেট জেলা (উত্তর) ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের নেতাদের মধ্যে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ বৈঠক থেকে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুককে সমর্থন জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলা শাখা।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও সিলেট জেলার (উত্তর) আমির আনওয়ার হোসাইন খান। সভায় সিলেট-৫ আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ও জমিয়তের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি উবায়দুল্লাহ ফারুক বক্তব্য দেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘দেশ ও ইসলামের বৃহত্তর স্বার্থে আমাকে সহযোগিতা করুন। ইসলামি দলগুলোর মধ্যে বিভক্তির সুযোগ নেয় ইসলামবিরোধী শক্তিগুলো। দেশ এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। দেশের এই ক্রান্তিকালে সকল ইসলামি শক্তিকে এক হতে হবে। অতীত পেছনে ফেলে দল, জোট, দেশ ও ইসলামের স্বার্থে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধভাবে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। আগামী নির্বাচনে সম্মিলিতভাবে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করা উচিত।’

এ সময় জামায়াত নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা (উত্তর) জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ ফয়জুল্লাহ বাহার, সেক্রেটারি ইসলাম উদ্দিন, জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য এ টি এম শামসুদ্দীন, সাঈদুর রহমান, জয়নুল আবেদীন, নিজাম উদ্দিন খান, আনোয়ার হোসাইন, কানাইঘাট উপজেলা শাখার আমির আবদুল মালিক প্রমুখ।

সভায় জমিয়ত নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, সিলেট মহানগরের সভাপতি খলিলুর রহমান, সিলেট জেলার সহসভাপতি আবদুর রহমান সিদ্দিকী, সেক্রেটারি আতাউর রহমান, প্রার্থীর ভাই খালিদ সাইফুল্লাহ, কানাইঘাট জমিয়তের সহসভাপতি হেলাল আহমদ, সেক্রেটারি এবাদুর রহমান, নূর আহমদ কাশিমী প্রমুখ।

সিলেট-৫ আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা ফরিদ উদ্দীন চৌধুরী। ২০০৮ ও ২০০১ সালে তিনি এ আসনে জোটের মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। ২০০১ সালে তিনি এখান থেকে সাংসদও নির্বাচিত হন। কিন্তু আসন্ন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই এ আসনে বিএনপি ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের নেতারা জামায়াতের প্রার্থীকে মনোনয়ন না দেওয়ার আহ্বান জানান। এ অবস্থায় ঐক্যফ্রন্টের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে জমিয়তের নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এরপর অভিমান করে জামায়াত এত দিন ধরে প্রচারণায় নামেনি।