উৎসবের বাড়িতে এখন শুধুই কান্না

দুই ছেলের সুন্নতে খতনা অনুষ্ঠান উপলক্ষে বাড়িতে আত্মীয়স্বজন আগেভাগেই এসেছেন। আশপাশের লোকজনকে নিমন্ত্রণ করা হয়েছে। সাজানো হয়েছে বাড়ি। রান্নার আয়োজন, হইচইয়ে বাড়িজুড়ে উৎসবের আমেজ। সেই উৎসব মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয় একটি দুর্ঘটনায়।
ছেলেদের সুন্নতে খতনা অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য বাজারে মাংস কিনতে গিয়েছিলেন বাবা রিপন প্যাদা (৪২)। মাংস কিনে বাড়ি ফেরার পথে মালামালবোঝাই ট্রলিচাপায় মারা যান তিনি। গতকাল রোববার সকালে পটুয়াখালীর সদর উপজেলার লোহালিয়া ইউনিয়নের ইদ্রাকপুর গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে।
নিহত রিপন ইদ্রাকপুর গ্রামের আলিমন প্যাদার ছেলে। পেশায় কৃষক ছিলেন রিপন।
গ্রামবাসী জানান, নিহত রিপন প্যাদা তাঁর দুই ছেলে হৃদয় (১২) ও রিফাতের (৮) সুন্নতে খতনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন গতকাল। তাহের মিয়া নামের এক আত্মীয়কে নিয়ে অতিথিদের জন্য সকালে পাশের কাশীপুর বাজারে মাংস কিনতে যান। সেখান থেকে মাংস কিনে দুজন ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন। সকাল পৌনে আটটার দিকে মোটরসাইকেলটি সড়কের শৌলা সেতুর কাছাকাছি গাজিবাড়ি পেরোনোর সময় মালামালবোঝাই একটি ট্রলি পেছন দিক থেকে ধাক্কা দিলে মোটরসাইকেলটি সড়কেই ছিটকে পড়ে। এ সময় রিপন সড়কে পড়ে যান এবং ট্রলির চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
আহত হন মোটরসাইকেলচালক রুবেল গাজি (২৫) ও রিপনের আত্মীয় তাহের মিয়া। গুরুতর আহত রুবেল গাজিকে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাহের মিয়া হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
দুর্ঘটনার তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি জানান, ট্রলিটিকে জব্দ করা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
রিপন মারা যাওয়ায় উৎসবের বাড়িতে এখন শুধুই কান্না। নিহত রিপনের স্ত্রী পারভিন বেগম ও দুই সন্তানের কান্নায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।