এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধ কার্যক্রমে নানা বাধা আছে: কাজী রিয়াজুল হক

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেছেন, এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালনায় নানা বাধা রয়েছে। সামাজিক নানা কুসংস্কারের ফলে এই ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর মানবাধিকার অনেক সময় লঙ্ঘিত হয়। প্রচলিত নানা আইনও রয়েছে, যেগুলো এসব ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের অধিকার বাস্তবায়নের অন্তরায়।

‘এইচআইভি/এইডসের ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার’ শীর্ষক এক কর্মশালায় কথাগুলো বলেন তিনি। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জাতীয় এইচআইভি/এসটিডি কর্মসূচির (এনএএসপি) যৌথ উদ্যোগে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

কাজী রিয়াজুল হক বলেন, বৈষম্যবিরোধী আইনের যে খসড়া আছে, তাতে এইচআইভি/এইডস রোগীদের বিষয় উল্লেখ নেই। আক্রান্ত মানুষদের মানবাধিকার রক্ষায় আইনি রক্ষাকবচ তৈরি করতে হবে। আর এ জন্য রাষ্ট্রকে এগিয়ে আসতে হবে।

কর্মশালায় ‘এইচআইভি/এইডস পরিস্থিত এবং জাতীয় পর্যায়ে তৎপরতা’ শীর্ষক উপস্থাপনা তুলে ধরেন এনএএসপির সহকারী পরিচালক তড়িৎ কুমার সাহা। তিনি বলেন, ২০১৬ সালে দেশে ৫৭৮ জন ব্যক্তি এইচআইভি পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৭৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ ব্যক্তির বয়স ২৫ থেকে ৪৯ বছরের মধ্যে। গত বছর এইচআইভি পজিটিভ ব্যক্তির ৩২ শতাংশ অভিবাসী বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশে এইডস প্রতিরোধ কার্যক্রম বাধা সৃষ্টিকারী নিবর্তনমূলক নানা নীতির ও পরিবেশ নিয়ে আলোচনা করেন ইউএনএইডস, বাংলাদেশের কর্মসূচি পরামর্শক এস এম নাহিয়ান। তিনি বলেন, এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাতে গিয়ে মাঠকর্মীরা অনেক সময় বাধা পান। তাঁদের বহন করা নানা সামগ্রী পর্নোগ্রাফির উপাদান হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আটক করে, এমন উদাহরণ আছে।

ইউনিসেফের এইচআইভি/এইডস বিশেষজ্ঞ ম. যিয়া উদ্দীন বলেন, চিকিৎসকদের কারও কারও মধ্যে এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের সেবা দিতে কুণ্ঠাবোধ লক্ষ করা যায়।

এনএএসপির জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক মো. আকতারুজ্জামানের সঞ্চালনায় কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন মানবাধিকার কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য মো. নজরুল ইসলাম, সেভ দ্য চিলড্রেনের ফুরকান হোসেন প্রমুখ।