এক পক্ষ গ্রেপ্তার-আতঙ্কে, অন্য পক্ষে চলছে প্রস্তুতি

ঢাকা–৮ আসনে ক্ষমতাসীন জোটের প্রার্থীর পক্ষে চলছে নির্বাচনের পূর্বপ্রস্তুতি। অন্যদিকে বিএনপির অভিযোগ, নির্বাচনের প্রস্তুতি তো দূরের কথা, গ্রেপ্তার–আতঙ্কে নেতা–কর্মীরা বাসায় থাকতে পারছেন না।
মতিঝিল, শাহবাগ, পল্টন, শাহজাহানপুর থানা ও রমনা থানার একাংশ নিয়ে ঢাকা–৮ আসন। এই আসনে বর্তমান সাংসদ বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। রাশেদ খান মেনন এবারও এই আসনে ক্ষমতাসীন জোটের প্রার্থী।
আর এই আসনে বিএনপির প্রার্থী দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। গতকাল রোববার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সহসভাপতি সাজ্জাদ জহিরের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগের স্থানীয় কর্মীরা জানান, তাঁরা পূর্বপ্রস্তুতিমূলক কিছু কাজ করছেন। এর মধ্যে শান্তিনগর এলাকায় এই আসনের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় নির্বাচনী কার্যালয় করা হয়েছে। সেখানে সন্ধ্যার পর নেতা–কর্মীরা একসঙ্গে বসে আলাপ–আলোচনা করেন। এ ছাড়া গত শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে তোপখানা রোডের একটি ভবনে নির্বাচনের জন্য আরেকটি অস্থায়ী কার্যালয় খোলা হয়। বর্তমানে কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠনের কাজ চলছে। জানতে চাইলে পল্টন থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এনামুল হক প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ না করে তাঁরা নির্বাচনের পূর্বপ্রস্তুতিমূলক কাজ করছেন। পল্টন থানা আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা পল্টন কমিউনিটি সেন্টারে সন্ধ্যার পর বসে আলাপ–আলোচনা করছেন।
আর রমনা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোখলেছুর রহমান বলেন, ঘরোয়া পরিসরে তাঁরা সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। স্থানীয় নেতা–কর্মীদের দায়িত্ব বণ্টন করে দেওয়া হচ্ছে।
জানতে চাইলে রাশেদ খান মেনন প্রথম আলোকে বলেন, আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ঘরোয়া বৈঠক হচ্ছে। নির্বাচনের সাংগঠনিক প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে।
এদিকে মির্জা আব্বাসের অনুসারীদের অভিযোগ, ঘরোয়া কর্মসূচি তো দূরের কথা ‘পুলিশি হয়রানির’ কারণে অনেক নেতা–কর্মী এখনো বাসাবাড়িতে থাকতে পারছেন না। তফসিল ঘোষণার পর এই আসনের দেড় শতাধিক নেতা–কর্মীকে আটক করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবারও মির্জা আব্বাসের বাসা থেকে বের হওয়ার পর মুগদা থানা বিএনপির সভাপতি মো. আলীসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়।
পল্টন থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুর রহমান বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দলের কর্মীরা নির্বাচনী ক্যাম্প করে প্রচার–প্রচারণা চালাচ্ছেন। আর আমরা এলাকাতেই প্রবেশ করতে পারছি না। জামিনে থাকা নেতা–কর্মীদেরও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘একদিকে ক্ষমতাসীনরা নির্বাচনের পূর্বপ্রস্তুতি শুরু করেছে। অন্যদিকে আমরা আছি গ্রেপ্তার আতঙ্কে। এটাকে কি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলে?’
মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমার বাসা প্রতিদিন পুলিশ ঘিরে রাখছে। কেউ বাসায় প্রবেশ করতে চাইলেও আটক করা হচ্ছে। আবার বের হলেও আটক করা হচ্ছে। সাদাপোশাকের লোকজনের আনাগোনাও বাসার সামনে বেড়েছে।’
২০০৮ সালে আসন পুনর্বিন্যাস করে রমনার একাংশ, মতিঝিল, শাহজাহানপুর ও পল্টন থানা নিয়ে ঢাকা–৮ আসন গঠন করা হয়। এর আগে এই আসনটি ঢাকা–৯–এর সঙ্গে ছিল। এই আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৬৪ হাজার ৮৯৩। ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে অবিভক্ত ঢাকা–৯ থেকে নির্বাচন করেছিলেন মির্জা আব্বাস। এর মধ্যে ১৯৯১ ও ২০০১ সালে তিনি জয়লাভ করেন।