একটি ফেরি দিয়ে চলছে ভোলা-লক্ষ্মীপুর নৌপথ

তিনটি ফেরির একটি বিকল ও আরেকটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ায় ভোলা-লক্ষ্মীপুর নৌপথে গত বুধবার সকাল থেকে কিষানি নামের একটিমাত্র ফেরি চলাচল করছে। ফলে যাত্রী, ব্যবসায়ী ও গাড়িচালকদের ভোগান্তি চরমে উঠেছে।
গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে ভোলা ইলিশা ফেরিঘাটে দেখা যায়, বাস, ট্রাকসহ ছোট-বড় শতাধিক যানবাহন নদী পারের অপেক্ষায় রয়েছে। চট্টগ্রামমুখী কয়েক শ যাত্রী চরফ্যাশন থেকে বাসে এসে ফেরিঘাটে আটকা পড়েছেন। অনেকে গাড়ি থেকে নেমে ছোট ছোট ইঞ্জিন নৌকায় উত্তাল মেঘনা পার হচ্ছেন। অথচ বিআইডব্লিউটিসির নিয়ম অনুযায়ী মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত মেঘনায় ইঞ্জিনের নৌকা চলাচল করা সম্পূর্ণ নিষেধ।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মজু চৌধুরীর হাট ফেরিঘাট থেকে আসা একটি নৌকা ইলিশা ফেরিঘাটের সঙ্গে এসে ধাক্কা খায়। এতে একজন যাত্রী লোহার পন্টুনের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে নদীতে পড়ে যান। অন্য যাত্রীরা নেমে তাঁকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন। রাঙামাটি থেকে আসা যাত্রী আবদুল গফুরসহ (৪৩) ওই নৌকার যাত্রীদের ভাষ্য, তাঁরা ভোলায় নিজ বাড়িতে যাওয়ার জন্য চট্টগ্রাম থেকে বাসে ওঠেন। কিন্তু তাঁদের লক্ষ্মীপুর মজু চৌধুরীর হাট ফেরিঘাটে নামিয়ে দেওয়া হয়। বাধ্য হয়ে তাঁরা নৌকায় করে নদী পার হয়েছেন।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) ভোলা ইলিশা ফেরিঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক শিহাব উদ্দিন জানান, গত বুধবার কামিনী নামের ফেরিটি লক্ষ্মীপুর যাওয়ার পথে বিকল হয়ে পড়ে। সেটি লক্ষ্মীপুর ডকইয়ার্ডে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ভোলা ও লক্ষ্মীপুরের ফেরিঘাট দুটির গ্যাংওয়ে জোয়ারের সময় ডুবে যায়। এ জন্য দিনে ছয় ঘণ্টা গাড়ি ওঠা-নামা করতে পারছে না। এরপর ডুবোচর সমস্যা তো আছেই। গত ঈদে তিনটি ফেরি চলায় যাত্রী ও গাড়িচালকেরা সমস্যা অনুভব করেননি। কিন্তু ঈদের পরপরই কিশোরী নামের ফেরিটি কর্তৃপক্ষ সরিয়ে অন্যত্র নেওয়ায় এখন মাত্র একটি ফেরি চলছে। এটি একবারে ছোট-বড় ১০-১২টি যানবাহন পার করতে পারে।
বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘সারা দেশেই ফেরিসংকট। তার ওপর মাওয়া, দৌলতদিয়া ও আরিচা ফেরিঘাট নিয়ে সমস্যায় আছি। আশা করি, কয়েক দিনের মধ্যে ভোলা-লক্ষ্মীপুর নৌপথের বিকল ফেরিটি সচল হবে। আগামী অক্টোবর-নভেম্বর নাগাদ দু-একটি নতুন ফেরি সংযোজন করতে পারব। তখন আর সমস্যা থাকবে না।’