পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌরসভার জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) একটি প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের বরাদ্দ পাওয়া নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে দেওয়া বরাদ্দের বিষয়ে কয়েকটি শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় এই অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
দ্বিতীয় পর্যায়ের বরাদ্দ না এলে একটি আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি, তিনটি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রসহ কয়েকটি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে পৌরবাসী।
তবে পৌরসভার মেয়র আবদুল ওহাব খলিফা বলেছেন, এডিবির বরাদ্দ পাওয়া যাবে। কারণ, তাদের কিছু শর্ত পূরণ করা হয়েছে। অন্যগুলোও শিগগিরই পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গলাচিপা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ধ্রুবলাল দত্ত বণিক জানান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ২০১৪-১৫ অর্থবছরে গলাচিপা পৌরসভাকে এডিবির উপকূলীয় শহর পরিবেশগত অবকাঠামো প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করে। প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ৪৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর আওতায় বিভিন্ন উন্নয়নকাজ চলাকালে এডিবি এ পৌরসভায় দ্বিতীয় পর্যায়ে অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্যে পরিবেশগত টেকসই একটি ডাম্পিং স্টেশন (ভাগাড়) নির্মাণ, প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, তিনটি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র এবং ১৩ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ ও সড়কবাতি স্থাপনের প্রকল্প হাতে নেয়।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, দ্বিতীয় পর্যায়ের অর্থ পাওয়ার জন্য গলাচিপা পৌরসভাকে কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে বলা হয়। এর মধ্যে রয়েছে, কর ও পানির বিল আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, কাঠামো অনুযায়ী পর্যাপ্ত লোকবল নিয়োগ ও সরকারি পাওনা টাকা পরিশোধ। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।
উপকূলীয় শহর পরিবেশগত অবকাঠামো প্রকল্পের পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন গত ৩১ মে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি গলাচিপা পৌরসভার মেয়রের কাছে পাঠান। এতে চলতি বছরের ১৬ জুনের মধ্যে শর্তগুলো পূরণ করে হালনাগাদ তথ্য পাঠানোর জন্য বলা হয়। শর্তগুলো পূরণে ব্যর্থ হলে পৌরসভা প্রকল্পটির দ্বিতীয় পর্যায়ের অর্থ বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
জানতে চাইলে গলাচিপা পৌরসভার সচিব মো. সাইফুর রহমান গত সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, পৌরসভা কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত সব শর্ত পূরণ করতে পারেনি। তাই হালনাগাদ তথ্যও পাঠানো যায়নি। তবে কাঠামো অনুযায়ী পর্যাপ্ত লোকবল নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। আরও কিছু শর্ত পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মেয়র আবদুল ওহাব খলিফা বলেন, ‘আমরা এডিবির দেওয়া সব শর্ত পূরণের চেষ্টা করছি। ইতিমধ্যে পানির বিল আদায়ে ৯০ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে। কর আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের চেষ্টা চলছে। অন্যান্য শর্তও শিগগির পূরণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করি, আমরা প্রকল্পটির দ্বিতীয় পর্যায়ের বরাদ্দ পেতে সক্ষম হব।’