এনজিওর ঋণ নিয়ে গড়েছিলেন খামার, অর্ধেকের বেশি হাঁস গেছে ভেসে
হাঁসের খামার গড়তে একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। পরিচিত একজনের কাছ থেকে সুদে নিয়েছিলেন আরও ১৫ হাজার টাকা। এই টাকা দিয়ে সাড়ে ৫০০ হাঁসের বাচ্চা কিনে খামার করেছিলেন। কিন্তু বন্যার পানির স্রোতে তাঁর ২৫৩টি হাঁস ভেসে গেছে। বৃষ্টিতে ভিজে মারা গেছে আরও ৭টি হাঁস।
এখন কীভাবে ঋণের টাকা শোধ করবেন, এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে গোয়াইনঘাট উপজেলার নন্দীর গাঁও এলাকার বাসিন্দা এনামুল হকের। আজ শনিবার দুপুরে হিলচান বিলের পাড়ে দেখা হয় তাঁর সঙ্গে। পানিতে হাঁস নামিয়ে দিয়ে রাস্তার এক পাশে গাছের তলায় বসে ছিলেন তিনি।
এনামুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘হাঁসর খামারোই আছিল আমার হগলতা। ইচ্ছা আছিল, হাঁস বেচিয়া খামার ইগো আরেকটু বড় করমু। কারণ, আমরাও খেতর জমিন নাই। এখন পাওনাদারো যেটা পাইতা, ইতা দিমু কিলা, এই চিন্তায় অশান্তিত আছি। বাইন্নার পানিয়ে আমার হগলতা শেষ।’
খামারের হাঁসই শুধু ভেসে যায়নি এনামুলের, বন্যার পানির তোড়ে ভেঙে গেছে খামারের ঘরটিও। মা, ভাইবোন আর অসুস্থ বাবাকে নিয়ে যে ঘরে থাকতেন, সেটিও বন্যায় ভেঙে গেছে।
বন্যার সময় পরিবারের সবাই আশ্রয়কেন্দ্রে গেলেও এনামুল যাননি। বাকি হাঁসগুলো ভেসে যাওয়ার ভয় ছিল। তাই ইটখোলার জন্য এনে রাখা মাটির উঁচু স্তূপের ওপর থেকে যান। সেখানে অল্প একটু জায়গা বন্যার পানি থেকে দেড়ফুটের মতো ওপরে জেগে ছিল। সেখানেই চার দিন (শুক্র থেকে সোমবার) থাকেন। সঙ্গে ছিলেন এক আত্মীয়।
হাঁসগুলোর বয়স তিন মাস জানিয়ে এনামুল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আইরো ভাদর মাস তনে আমার হাঁস এগুইন ডিম দেওয়া শুরু করলনে। প্রায় অর্ধেক হাঁস বন্যার পানিত ভাসি গেছে। আর যেগুন রইছে, ইতা দিয়ে লাভ বার করা যাইতো না। লোকসানও পড়া লাগবে।’
অন্যদিকে খামারের ঘরটি ভেঙে যাওয়ায় হাঁসের খাবারের জন্য কিনে রাখা চিটা ধানও ভেসে গেছে পানিতে। এ নিয়ে এনামুল বলেন, হাঁসকে দিনে অন্তত দুই বেলা খাবার (ধান) দেওয়া লাগে। এখন আপাতত নিজেদের খোরাকির জন্য কিনে রাখা কিছু ধান হাঁসগুলোকে খেতে দিচ্ছেন।
হাতে টাকা না থাকায় গতকাল শুক্রবার ২০টি হাঁস বাজারে বিক্রি করেছেন বলে জানান এনামুল হক। তিনি জানান, ঘরে খাবার নেই। চাল বন্যার পানিতে ভিজে পচে গেছে। উপায় না দেখে বাজারে কিছু হাঁস বিক্রি করেছেন।
এনামুলের বাবা অসুস্থ হয়ে তিন বছর ধরে শয্যাশায়ী। সাত ভাইবোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। বড় এক বোনের বিয়ে দিয়েছেন। আরেক বোন ঘরেই থাকেন। তাঁর ছোট আরও তিন ভাই ও এক বোন রয়েছে।