এবার জামায়াত নয়, দলীয় প্রার্থী চান বিএনপির কর্মীরা

খুলনা-৫ আসন (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) ও খুলনা-৬ আসন (কয়রা-পাইকগাছা) থেকে বিএনপির প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এই দুটি আসন থেকে জামায়াতের প্রার্থীরা যেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে না পারেন, সেটিও নিশ্চিত করতে শীর্ষ নেতাদের অনুরোধ করেছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা।

গতকাল রোববার দুপুরে খুলনা নগরের কে ডি ঘোষ সড়কে অবস্থিত বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা বিএনপি এবং পরে একই স্থানে অনুষ্ঠিত কয়রা উপজেলা বিএনপির আলাদা দুটি সভা থেকে এ দাবি করা হয়। কেন্দ্র থেকে দাবি মানা না হলে বিএনপির তৃণমূল কর্মীরা কঠোর কর্মসূচি, এমনকি ধানের শীষ প্রতীক নেওয়া বহিরাগতদের এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করবেন বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

খুলনা-৫ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি গাজী আবদুল হক ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মামুন রহমান। আর খুলনা-৬ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে জেলা বিএনপির সভাপতি এস এম শফিকুল আলম মনাকে।

গত কয়েক দফা জাতীয় নির্বাচনে আসন দুটি থেকে বিএনপি জোটের হয়ে জামায়াতের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় এবার আসন দুটি থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মিয়া গোলাম পরওয়ার ও খুলনা মহানগর আমির আবুল কালাম আজাদ।

অবশ্য গতকাল বিকেলে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাইকালে খুলনা-৬ আসনের বিএনপির প্রার্থী শফিকুল আলম মনার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ রয়েছে।

প্রথম সভাটি করেন ডুমুরিয়া উপজেলা বিএনপির নেতা-কর্মীরা। সভায় তাঁরা দাবি করেন, বিশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কৌশলের অবলম্বন নিয়ে একবার মাত্র ওই আসনে জামায়াতের প্রার্থী নির্বাচিত হলেও তাঁরা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করেছিলেন বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তির ওপর। এরপর জামায়াতের প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বিএনপির উপকারের পরিবর্তে ব্যাপক ক্ষতি করেছেন। চারদলীয় জোট ক্ষমতায় থাকলেও বিএনপির ২৩ নেতা-কর্মী খুন এবং দুই শতাধিক আহত, পঙ্গু ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পক্ষান্তরে ক্ষমতায় থাকার সুবাদে নানানভাবে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছে জামায়াত। এসব কারণে বিএনপির কর্মীরা ধানের শীষ প্রতীক জামায়াতের হাতে তুলে দিতে নারাজ। এ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য গাজী আবদুল হক বা জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মামুন রহমানকে বিএনপির প্রার্থী করতে হবে।

ডুমুরিয়া উপজেলা বিএনপির সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি খান আলী মুনসুর। উপজেলা বিএনপি নেতা ওহিদুজ্জামান রানার পরিচালনায় সভায় বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা গাজী তফসির আহমেদ, মনিরুল হাসান, মোল্লা মোশারফ হোসেন, মুর্শিদুর রহমান, শামীম কবির, তৈয়েবুর রহমান, আবদুল মান্নান, শেখ হাফিজুর রহমান, আবুল বাশার, জহুরুল হক প্রমুখ।

প্রথম সভার পরই অনুষ্ঠিত হয় কয়রা উপজেলা বিএনপির সভা। ওই সভায় উপজেলা বিএনপির নেতা-কর্মীরা দাবি করেন, ওই আসনে সাংগঠনিকভাবে বিএনপি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচনের ফলাফলে বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। অপরদিকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াতের শীর্ষ নেতারা অভিযুক্ত এবং নাশকতাসহ নানা অভিযোগে দলটির তৃণমূল বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় সাংগঠনিকভাবে তারা দুর্বল হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী বৈতরণি পার হওয়া অসম্ভব। কয়রা বিএনপির নির্বাহী সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোমরেজুল ইসলাম। নুরুল আমিন বাবুলের পরিচালনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন শফিকুল আলম মনা। বক্তব্য দেন মনিরুজ্জামান মন্টু, কামরুজ্জামান টুকু, কে এম শহিদুল আলম, মুর্শিদুর রহমান, মশিউর রহমান প্রমুখ।