কুমিল্লা থেকে আরও ট্রেনের টিকিট চান ময়মনসিংহ-সিলেটের যাত্রীরা
চাহিদার তুলনায় আসন কম বরাদ্দ থাকায় কুমিল্লা রেলস্টেশন থেকে ময়মনসিংহ ও সিলেটগামী যাত্রীদের প্রতিদিনই টিকিটের জন্য হাহাকার করতে হয়। এ অবস্থায় এই স্টেশন থেকে আরও অন্তত ৩৬০টি আসন বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন যাত্রীরা। বর্তমানে এই দুই বিভাগের জন্য বরাদ্দ আছে মাত্র ১৭০টি আসন।
গত ২৮ জুন কুমিল্লা নগরের কয়েকজন বাসিন্দা লিখিতভাবে কুমিল্লা স্টেশনমাস্টারের কাছে ময়মনসিংহ ও সিলেটগামী ট্রেনে আসন বাড়ানোর দাবি জানান। তাঁরা ময়মনসিংহগামী বিজয় এক্সপ্রেসে ১৮০টি, সিলেটগামী আন্তনগর পাহাড়িকায় ১৫০ ও উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনে ২০০টি আসন বেশি বরাদ্দ চান।
কুমিল্লা রেলস্টেশন সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে ময়মনসিংহগামী আন্তনগর বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনটি প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টায় কুমিল্লা রেলস্টেশনে এসে থামে এবং তিন মিনিট যাত্রাবিরতি দিয়ে ছাড়ে। কুমিল্লা থেকে ময়মনসিংহের জন্য এই ট্রেনে ৪০টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে ৩০টি শোভন ও ১০টি শোভন চেয়ার। কুমিল্লা থেকে বৃহত্তর ময়মনসিংহের ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা ও শেরপুর জেলার যাত্রীরা যাতায়াত করেন। এ ছাড়া সুনামগঞ্জের কিছু যাত্রীও এখান থেকে ওঠেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত স্টেশনে অবস্থান করে দেখা যায়, অনেক যাত্রী টিকিট কাউন্টারে সারিতে দাঁড়িয়ে আছেন। কিন্তু টিকিট পাচ্ছেন না। কুমিল্লা ইপিজেডে কাজ করেন মো. দেলোয়ার হোসেন। তিনি যাবেন ময়মনসিংহে। বললেন, ‘টিকিটের জন্য সকাল নয়টা থেকে দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু টিকিট মিলছে না।’
জানতে চাইলে কুমিল্লা রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. সফিকুর রহমান ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রতিদিন ময়মনসিংহ অঞ্চলে যাওয়ার জন্য ১৭০ থেকে ১৮০টি টিকিটের দরকার। আমরা মাত্র ৪০টি দিতে পারছি। আসন কম থাকায় প্রতিদিনই যাত্রীদের ধকল সামলাতে হচ্ছে।’
কুমিল্লা থেকে সিলেটগামী আন্তনগর পাহাড়িকা ছাড়ে দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে। কুমিল্লার যাত্রীদের জন্য এ ট্রেনে আসন বরাদ্দ আছে ৮০টি। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণির ৩টি ও শোভন ৭৭টি। এ ট্রেনেও যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ রয়েছে।সংকট নিরসনেট্রেনটিতে আরও ১৫০টি আসন বরাদ্দের দাবি যাত্রীদের।
এ ছাড়া প্রতিদিন রাত ১২টা ৪৮ মিনিটে কুমিল্লা থেকে আন্তনগর উদয়ন সিলেটের উদ্দেশে রওনা হয়। এটিতে ৫০টি আসন বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ও ৪৫টি শোভন। এ ট্রেনেও কুমিল্লা থেকে আরও অন্তত ২০০টি আসন চান যাত্রীরা।
এ বিষয়ে স্টেশনমাস্টার সফিকুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘ময়মনসিংহ ও সিলেটের জন্য আরও আসন বাড়ানো দরকার। আমরা সবাইকে টিকিট দিতে পারি না। নির্ধারিত আসনের বাইরে অন্যদের স্ট্যান্ডিং (দাঁড়ানো) টিকিট দেওয়া হয়।’
কুমিল্লা রেলস্টেশনের হয়ে প্রতিদিন ১৪টি আন্তনগর, লোকাল ও ডেমো মিলিয়ে মোট ২৮টি ট্রেন চলাচল করে। এর মধ্যে বিজয়, পাহাড়িকা ও উদয়ন ট্রেনে আসন-সংকট রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলে স্টেশনমাস্টার জানান।