ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৪

ধর্ষণ
প্রতীকী ছবি

খুলনার কয়রা উপজেলায় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ‘মুন্ডা’ সম্প্রদায়ের এক নারীকে (২২) দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। ভুক্তভোগী নারী বর্তমানে কয়রা থানা–পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মঙ্গলবার তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে।

গত রোববার রাতে অস্ত্রের মুখে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে সোমবার সকালে কয়রা থানায় অভিযোগ করেন ওই নারী। এ অভিযোগের ভিত্তিতে চার যুবককে আটক করে পুলিশ। পরে অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করে চারজনকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। আর মামলা রেকর্ডের সময় দেখানো হয় দুপুর ১২টা ৫ মিনিট।

গ্রেপ্তার চারজন হলেন ২ নম্বর কয়রা গ্রামের ওমর সাদিক (২৬), ইমরান হোসেন (২৭), শাহ আলম (২১) এবং ৪ নম্বর কয়রা গ্রামের জোবায়ের হোসেন (২৫)। মামলার অন্য আসামি হলেন ২ নম্বর কয়রা গ্রামের শহিদুল সানা।

উপজেলা সদরের বাসিন্দা ওই নারীর ভাষ্য, রোববার রাতে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পাঁচ থেকে ছয়জন যুবক তাঁকে ধর্ষণ করেন। স্বামী বাইরে থাকায় ঘটনার সময় ওই নারী বাড়িতে একা ছিলেন। তাঁর তিন বছরের একটি সন্তান রয়েছে। ভুক্তভোগী নারী মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করেন, অজ্ঞাতনামা আসামি একজন।

সোমবার সকালে থানায় অভিযোগ করতে গিয়েছিলেন ওই নারী। সারা দিন তাঁকে সেখানে আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাঁকে কারও সঙ্গে দেখা বা কথা বলতেও দেওয়া হয়নি। পরে বেলা দুইটার দিকে তাঁর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন জায়গা থেকে চারজনকে আটক করে পুলিশ। সকাল থেকে ঘটনা সম্পর্কে জানতে পুলিশের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো মন্তব্য করছিল না। ওই সময় বলা হচ্ছিল, এটি একটি স্পর্শকাতর ব্যাপার। এ জন্য ঘটনা যাচাই-বাচাই করা হচ্ছে।

কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল হোসেন সোমবার রাত সোয়া আটটার দিকে বলেন, ওই নারীর অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক অপরজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। সহকারী পুলিশ সুপার ডি-সার্কেল (পাইকগাছা-কয়রা) সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি বেশ স্পর্শকাতর। এ কারণে যাচাই-বাছাই করে মামলা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক আলামত হিসেবে তাঁর পরনের কাপড়চোপড় সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে।