খাবার ও সাজসজ্জায় বৈচিত্র্য

শ্যামলী থেকে শিয়া মসজিদ অবধি সড়কে রয়েছে অনেকগুলো ক্যাফে রেস্তোরাঁ৷ এরই একটি শ্যামলী ঘোস্ট রা​ইডার্স ক্যাফে l ছবি: প্রথম আলো
শ্যামলী থেকে শিয়া মসজিদ অবধি সড়কে রয়েছে অনেকগুলো ক্যাফে রেস্তোরাঁ৷ এরই একটি শ্যামলী ঘোস্ট রা​ইডার্স ক্যাফে l ছবি: প্রথম আলো

মোহাম্মদপুর মানেই মুখরোচক সব কাবাবের দোকান। ভোজনরসিকদের কাছে মোহাম্মদপুরের সেই চিরচেনা চিত্র বদলে যাচ্ছে। রাজধানীর অন্যান্য এলাকার মতো এখানেও গড়ে উঠছে আধুনিক সব রেস্তোরাঁ। এর প্রতিটিই খাবার, সাজসজ্জার দিক থেকে বেশ বৈচিত্র্যপূর্ণ। এসব রেস্তোরাঁর মালিকদের ধারণা, মোহাম্মদপুর হবে ভবিষ্যতের বেইলি রোড, বনানীর মতো জনপ্রিয় খাবারপাড়া।
মোহাম্মদপুর এলাকার রিং রোডে শ্যামলী ক্লাব মাঠের বিপরীতে নতুন রেস্তোরাঁ ঘোস্ট রাইডারজ ক্যাফে। ছোট পরিসরের, ছিমছাম এই রেস্তোরাঁ চালু হয়েছে গত মাসে। পুরো ক্যাফে সাজানো হয়েছে মোটরসাইকেলের থিমে। ক্যাফের ভেতরে আছে আস্ত মোটরসাইকেল, কোথাও রাখা হেলমেট।
তরুণ দম্পতি রুম্মান পিয়াস ও আফরা তাসফি নিজেরাই চালাচ্ছেন ক্যাফে। তাঁরা প্রথম আলোকে বলেন, একসঙ্গে ৩৫ জনের বসার ব্যবস্থা আছে। খাবারের দাম তুলনামূলক কম রাখায় অল্প সময়েই বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে ক্যাফেটি। কোল্ড কফি ৬০ টাকা, পটেটো মাসালা ওয়েজেস ৫০ টাকা, সাব-স্যান্ডউইচ ১২০ টাকা। ১৫০ থেকে ১৯৯ টাকার মধ্যে আছে তিনটি সেট মেন্যু।
মোহাম্মদপুর রিং রোডে সূচনা কমিউনিটি সেন্টারের বিপরীতে রেস্তোরাঁ ডুব। বিভিন্ন ধাঁচের খাবারের এই রেস্তোরাঁ চালু হয়েছিল ২০১৫ সালের অক্টোবরে। অন্দরসজ্জা ছিমছাম, পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর মতো পরিবেশ। দেয়ালে আছে দেশীয় চিত্রশিল্পীদের আঁকা চিত্রকর্ম।
ডুবের ব্যবস্থাপক আরিফুল হক বলেন, হায়দরাবাদি বিরিয়ানি, নুরজাহান বিরিয়ানি আর ড্রিংকসের পদগুলো, বিশেষ করে মকটেলসগুলো বেশি চলে। এ ছাড়া সেট মেন্যু আছে। দাম ১৬৫ থেকে ৩৫৫ টাকা পর্যন্ত। বসার ব্যবস্থা আছে ১৮০ জনের। খোলা থাকে বেলা ১১টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত। শিশুদের খেলার জন্য আছে ‘কিডস জোন’।
২০১২ সালে রিং রোডে চালু হওয়া রেড রেস রেস্তোরাঁটির সেট মেন্যু ও বুফে বেশ বিখ্যাত। দোতলা রেস্তোরাঁয় ওপর-নিচ মিলিয়ে ৯৫ জন বসার ব্যবস্থা আছে। নামের সঙ্গে মিল রাখতেই যেন অন্দরসজ্জায় লালের প্রাধান্য।
রেড রেসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জহির আহসান প্রথম আলোকে বলেন, অন্য অনেক এলাকার থেকে তাঁদের সেট মেন্যু ও বুফে দাম বেশ কম। মোট ১৪টি সেট মেন্যু আছে, দাম শুরু ১৩৫ টাকা থেকে। প্রতি শুক্র ও শনিবার দুপুর ও রাতে বুফের আয়োজন থাকে। দাম সব খরচসহ ৩৯৯ টাকা।
জাপান গার্ডেন সিটির বিপরীতে রিং টাওয়ার ভবনের অষ্টম তলায় ক্যাফে সেলফি। ক্যাফের নামকরণের কারণ সম্পর্কে রেস্তোরাঁর প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা আলমগীর হক বলেন, বর্তমানে সেলফি একটি ‘ট্রেন্ড’। এটার জনপ্রিয়তা কাজে লাগাতেই এই নাম রাখা। প্রতি শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত থাকে সরাসরি গান শোনার ব্যবস্থা।
ক্যাফে সেলফিতে ৬০ জনের বসার ব্যবস্থা আছে। বেতের চেয়ার, দেয়ালে চিত্রকর্ম মিলিয়ে অন্দরসজ্জায় দেশীয় সংস্কৃতির প্রাধান্য। এখানকার বাফেলো ড্রাম স্টিক, চিকেন সুপ্রিম, পাস্তা ও চাওমিন বেশ জনপ্রিয়।
কাচ্চি বিরিয়ানি, খিচুড়ি, ঝাল ফ্রাই, কাবাবের মতো খাবার প্রিয়দের জন্য শিয়া মসজিদের বিপরীতে আছে নবাবী ভোজ। ২০১৫ সালে চালু হওয়া এই রেস্তোরাঁর খাসির কাচ্চি ১৬০ টাকা, মুরগি বিরিয়ানি ১৫০ টাকা, বিভিন্ন কাবাবের দাম ১১০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত।
মোহাম্মদপুরে তাজমহল রোডে কাছাকাছি দূরত্বে চালু হয়েছে বেশ কয়েকটি রেস্তোরাঁ, কেক-পেস্ট্রির দোকান। বেস্ট ফ্রাইড চিকেনের (বিএফসি) অন্যান্য এলাকার শাখার মতো তাজমহল রোডের শাখাতেও ফ্রাইড চিকেন, বার্গার, হট উইংস, রাইস কম্বো, আইসক্রিমসহ সুস্বাদু খাবার রয়েছে।
পপাইস কফি অ্যান্ড ফাস্টফুডের দোকানে ঢুকলেই চোখে পড়ে কিশোর, তরুণ বয়সীদের জটলা। স্কুলপড়ুয়া কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, মূলত কম দামের কারণেই স্কুল থেকে ফেরার পথে মিল্কশেক খাচ্ছিল তারা। এই কফিশপে বিভিন্ন স্বাদের কফি ও মিল্কশেক পাওয়া যায় ৫০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে। কয়েক রকম হালকা নাশতা খাবার আছে ৫০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে।
তাজমহল রোডের শর্মা হাউস, শাকোরা পিজা অ্যান্ড শর্মা, পেরি পেরি এক্সপ্রেস, শর্মা ভিলেজ নামের রেস্তোরাঁগুলোয় মুখরোচক বিভিন্ন শর্মা ও পিৎজা পাওয়া যায়। টেস্টি ট্রিট, কুপার’স, ক্যালিফোর্নিয়া ফ্রাইড চিকেন অ্যান্ড পেস্ট্রি, মি. বেকার, ওয়েল ফুডের মতো কেক-পেস্ট্রির জন্য বিখ্যাত সব দোকানের শাখাও চালু হয়েছে তাজমহল রোডে।