খাবার পানিতে আর্সেনিক দূষণ: দুই যুগ পর ফিরে দেখা

.
.
গত ১৭ ডিসেম্বর ২০১৬, প্রথম আলোর আয়োজনে ‘খাবার পানিতে আর্সেনিকদূষণ: দুই যুগ পর ফিরে দেখা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত আলোচকদের বক্তব্য সংক্ষিপ্ত আকারে এই ক্রোড়পত্রে ছাপা হলো।

আলোচনায় সুপারিশ

* নিয়মিত নলকূপ পরীক্ষা করতে হবে এবং লাল/সবুজ রং দিতে হবে। এটা অত্যন্ত কার্যকর ও সাশ্রয়ী

*  যেকোনো মূল্যে দেশের পুকুর ও জলাশয়গুলো রক্ষা করতে হবে

* আর্সেনিকের বিষয়ে মানুষকে সচেতন করার জন্য গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে

* পুরোনো পুকুর সংস্কার ও নতুন পুকুর খনন করতে হবে

* মানুষ যেন অল্প টাকায় ফিল্টার কিনতে পারে, সে উদ্যোগ নিতে হবে

* ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগের পানি ব্যবহারের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে

* নদী​ ও জলাশয় রক্ষায় আইন প্রয়োগে কঠোর হতে হবে

 আলোচনা 

কামাল আহমেদ: দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের টিউবওয়েলের পানিতে আর্সেনিক পাওয়া গেছে। টিউবওয়েলের পানি আর্সেনিকমুক্ত রাখার লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এ ক্ষেত্রে কাজ হচ্ছে।
এখনো অনেক মানুষ আর্সেনিকে আক্রান্ত হচ্ছে। এ জন্য সাধারণ মানুষকে ব্যাপকভাবে সচেতন করা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে আরও কী করণীয়—এসব বিষয়ে পরিস্থিতির মূল্যায়ন হওয়া প্রয়োজন। এসবই আজকের আলোচনার বিষয়। এখন আলোচনা করবেন শ্যামল চৌধুরী।
শ্যামল চৌধুরী: আমরা ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ, চাঁদপুর, নেত্রকোনা ও সুনামগঞ্জ জেলার ১৫০টি গ্রামে ৪ হাজার ৫০০ পরিবারের ওপর গবেষণা করেছি। এসব গ্রামের ৯৮ শতাংশ পরিবারই খাবার পানি প্রধানত নলকূপ থেকে সংগ্রহ করে।

কামাল আহমেদ
কামাল আহমেদ

আমাদের গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ১৯ শতাংশ পরিবারের খাবার পানিতে আর্সেনিকের মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিত মাত্রার মধ্যে। ৫৫ শতাংশ পরিবারের খাবার পানিতে বাংলাদেশ সরকারের নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে বেশি আর্সেনিক পাওয়া গেছে। ৩৪ শতাংশ পরিবারের খাবার পানিতে সরকার-নির্ধারিত পরিমাণের দ্বিগুণ আর্সেনিক পাওয়া গেছে।
বর্তমানে চালু নলকূপগুলোর ৭২ শতাংশ ডিপিএইচইর (ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক হেলথ ইঞ্জিনিয়ারিং) দেশব্যাপী পরীক্ষণের পরে স্থাপিত। কিন্তু এর ৯২ শতাংশের গায়ে দূষিত বা দূষণমুক্ত (লাল/সবুজ) এমন কোনো চিহ্ন নেই। ডিপিএইচই ২০০৩ সালের আগে যেসব নলকূপ পরীক্ষা করেছিল, এর ৩৩ শতাংশের গায়ে কোনো চিহ্ন নেই। তুলনামূলকভাবে শিক্ষিত ও বিত্তশালী ব্যক্তিদের আর্সেনিকের বিষয়ে  ভালো ধারণা আছে।
এখন পর্যন্ত দুটো বিষয়ের ওপর আর্সেনিকযুক্ত পানির প্রভাব দেখেছি। এক. যেসব শিশু ছোটবেলায় আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করেছে, তাদের বুদ্ধির বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তারা তাদের সমবয়সীর থেকে প্রায় ১৯ শতাংশ পিছিয়ে আছে। গরিব পরিবারের শিশুদের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে আরও বেশি।
দুই. প্রায় ৫ শতাংশ পরিবারের প্রধান পুরুষ বা স্ত্রী আর্সেনিকোসিসে আক্রান্ত। এ ছাড়া প্রায় ৭ শতাংশ পরিবারে আর্সেনিক রোগী আছে। আমরা দেখেছি, যে পরিবারে আর্সেনিকোসিস রোগী আছে, তাদের মানসিক স্বাস্থ্যে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। তারা অনেক সময় সমাজে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।
ডিপিএইচইর নলকূপের গায়ে যে লাল/সবুজ চিহ্নিত করা, সেটা কতটুকু কার্যকর, সেটা দেখা প্রয়োজন। আমরা প্রায় নয় হাজার নলকূপ ডিপিএইচইর মতো করে চিহ্নিত করেছি। এর ফলে আশানুরূপ ফল​ও পেয়েছি। এ ছাড়া সরকার অনুমোদিত স্থানীয়ভাবে প্রস্তুত সনো ফিল্টার স্থানীয় এনজিওর মাধ্যমে বিক্রি করেছি।

আর্সেনিকমুক্ত পানি সরবরাহ একটি দীর্ঘমেয়াদি ব্যাপার। স্বল্প মেয়াদে যেসব নীতি নেওয়া যেতে পারে, তা হলো নিয়মিত নলকূপ পরীক্ষা করা এবং লাল/সবুজ রং দেওয়া। এটা অত্যন্ত কার্যকর ও সাশ্রয়ী।

ক্লাউস এফ জিমারম্যান
ক্লাউস এফ জিমারম্যান

ক্লাউস এফ জিমারম্যান: আজকের আলোচনার বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে সবার মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘ মেয়াদে আর্সেনিকের ক্ষেত্রে উন্নতি করতে হলে এ ধরনের আলোচনা প্রয়োজন। একজন অর্থনীতিবিদ হিসেবে মনে করি, আর্সেনিক একটা জনগোষ্ঠীকে, বিশেষভাবে দরিদ্র মানুষকে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তারা শুধু শারীরিকভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, মানসিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ জন্য তাদের সচেতন করা যেমন প্রয়োজন, তেমনি একই সঙ্গে শিক্ষিত করে তোলাও দরকার। তা না হলে দিন দিন তারা ব্যাপকভাবে সংকটের মধ্যে পড়বে। বাংলাদেশে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য কমানো প্রয়োজন।
দারিদ্র্য দূর করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া দরকার। এ ব্যাপারে সবার একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন। কেবল স্বল্প মেয়াদে কোনো পদক্ষেপ নিলে এ সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসা যাবে না। এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ ও পরিকল্পনা।
মো. সাইফুর রহমান: ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশে ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি প্রথম পরিলক্ষিত হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়। ১৯৯৬-৯৭ সালে সরকার ইউনিসেফের সহায়তায় প্রায় ৪৫ হাজার নলকূপের পানি পরীক্ষা করে। এসব নলকূপের পানিতে ২৮ শতাংশ আর্সেনিকের মাত্রাতিরিক্ত উপস্থিতি দেখা যায়।

মো. সাইফুর রহমান
মো. সাইফুর রহমান

২০০১ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক জরিপের আওতায় দেশের ৩ হাজার ৫৩৪টি নলকূপের পানি পরীক্ষা করে দেখা যায় যে প্রায় ২৭ শতাংশ নলকূপের পানিতে মাত্রাতিরিক্ত দূষণ রয়েছে। আবার বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় প্রায় ৫০ লাখ নলকূপের পানির আর্সেনিক পরীক্ষা করা হয়। এই পরীক্ষা কার্যক্রম ২৭০টি উপজেলায় পরিচালিত হয়।
পরীক্ষাকৃত এসব নলকূপের মধ্যে ২৯ শতাংশ নলকূপ আর্সেনিকে দূষিত। এ জরিপের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩৮ হাজার ১১৮ জন আর্সেনিকোসিস রোগী চিহ্নিত হয়। এ ক্ষেত্রে প্রায় ১৪ লাখ ৪০ হাজার নলকূপ লাল রং দিয়ে চিহ্নিত করে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ পরিবারকে আর্সেনিকদূষণ সম্পর্কে সচেতন করে তোলা হয়।
আর্সেনিক নিরসনে আমাদের বিভিন্ন উদ্যোগ রয়েছে। বহু নির্দেশক গুচ্ছ জরিপ ২০১৫-এর তথ্যমতে, বর্তমানে দেশের ৮৭ শতাংশ মানুষ নিরাপদ পানি সরবরাহের আওতায় আছে। দেশের জনসংখ্যার ১২ দশমিক ৪ শতাংশ আর্সেনিকদূষণের ঝুঁকির মধ্যে আছে।
বর্তমানে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় পরিচালিত বাংলাদেশ গ্রামীণ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্প, ইউনিসেফ সাহায্যপুষ্ট পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও হাইজিন প্রকল্প এবং বাংলাদেশ সরকারের সহায়তায় পরিচালিত পল্লি পানি সরবরাহ প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে। এসব প্রকল্পের আওতায় ১৪৩টি পুকুর পুনঃখননের কাজসহ সারা দেশে প্রায় ৯০ হাজার নতুন পানির উৎস স্থাপিত হবে। এ কাজে ব্যয় হবে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।
প্রায় ৩৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে আর্সেনিক ও লবণাক্তপ্রবণ এলাকায় ৮০৯টি পুকুর খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রম বাস্তবায়নের নিমিত্তে আরও একটি প্রকল্প সম্প্রতি অনুমোদিত হয়েছে। এসব কাজ ঠিকভাবে করতে পারলে ভবিষ্যতে আর্সেনিক নিরসন করতে পারব।

ইমামুল হক: ১৯৯৩ সাল থেকে পানিতে আর্সেনিক দেখা দেয়। কমিউনিটি হাসপাতালের চিকিৎ​সকেরা প্রথমে আর্সেনিক শনাক্ত করেন। তাঁরা আরও বুঝতে পারলেন যে আর্সেনিকের কারণে চর্মরোগ হচ্ছে। ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি বিদ্যমান।

ইমামুল হক
ইমামুল হক

একসময় গর্ব করে বলতাম যে ভূগর্ভস্থ পানি খাচ্ছি, সুতরাং আমরা স্বাস্থ্যগতভাবে ভালো আছি। আমার গ্রামেও আর্সেনিকের উপস্থিতি বেশ চরমে। এ জন্য দেখা যেত যে মানুষের পায়ের নিচে স্পট তৈরি হয়েছে। কিন্তু তখন তারা এটা বুঝত না। এখন ভূগর্ভস্থ পানি নিয়ে কথা হচ্ছে।
আমরা দেখছি যে ভূগর্ভস্থ পানির ৮৬ শতাংশই ব্যবহৃত হচ্ছে সেচব্যবস্থার জন্য। পান করার জন্য মাত্র ১ শতাংশের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে। আর বাকিটা শিল্পকারখানার কাজে লাগছে। ২০০০ সাল থেকে আর্সেনিক নিয়ে কাজ আরম্ভ করি।
আমাদের দেশে বিশেষত বোরো মৌসুমে সেচনির্ভর ধান উৎপাদন করা হয়। আর্সেনিকদূষিত পানির কারণে ফসলে কোনো ধরনের বিরূপ প্রভাব বিস্তার করছে কি না, সেটা দেখা দরকার। তা ছাড়া প্রায় সব মৌসুমেই আর্সেনিকদূষিত পানি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজিরও চাষাবাদ করা হচ্ছে। আর্সেনিক নিয়ে আমার যতটুকু ধারণা ছিল, সেটা দিয়েই প্রথমে জরিপকাজ শুরু করি।
দেশের যেসব এলাকায় আর্সেনিকের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে, সেসব এলাকার শস্যে আর্সেনিকের প্রভাব পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানীদের উদ্দেশ্য হলো মানুষকে আতঙ্কিত না করে সচেতন করা।

আমাদের শাকসবজি, খাদ্যশস্য বিদেশেও রপ্তানি করা হচ্ছে। বিদেশিরা যদি খাবারে আর্সেনিকের পরিমাণ বেশি পায়, তাহলে তারা এগুলো কেনা বন্ধ করে দেবে।

সুতরাং, নিজেদের স্বার্থে এই কাজগুলো করতে হবে। আমরা যদি আর্সেনিক থেকে বাঁচতে চাই, বিশেষ করে খাদ্যশস্যের ক্ষেত্রে, তাহলে আমাদের জেনম টেকনোলজিতে যেতে হবে। কারণ, এ টেকনোলজি খাদ্যশস্যে আর্সেনিককে ঢুকতে দেয় না। তা ছাড়া আর্সেনিক নিয়ে গণমাধ্যমের একটা বড় ভূমিকা থাকা জরুরি।

আর্সেনিকের বিষয়ে মানুষকে সচেতন করার জন্য গণমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

নাসিমুন আরা হক
নাসিমুন আরা হক

নাসিমুন আরা হক: আর্সেনিক নিয়ে অনেক জানার ও বোঝার আছে। পানিকে জীবন বলি। পানিতে আর্সেনিকের ভয়াবহতা মানে হচ্ছে জীবন-মৃত্যুর কারণ হওয়া। এটা থেকে সমাধানের পথ নিশ্চয়ই আছে। সমাধানের পথ নিয়ে মানুষের কাছে দ্রুত যাওয়া দরকার। অনেকেই কৃষিতে জৈব সার মেশানোর কথা বলেন। এটা ফসলের জন্য ক্ষতিকর নয়। কৃষিতে জৈব সার ব্যবহার কোনো কঠিন কাজও নয়। এ কাজটা আমাদের কৃষকেরা করতে পারেন।
আরেকটা বিষয় হচ্ছে, মানুষ যখন গণমাধ্যমের সহায়তায় এর ভয়াবহতা সম্পর্কে জানবে, তখন অনেক বেশি সচেতন হবে। আর্সেনিক নিয়ে যদি সব গণমাধ্যম কাজ করে, তাহলে এটা নিয়ে যে আতঙ্ক আছে বা তৈরি হচ্ছে, সেটা দূর করা সম্ভব হবে।
মোহাম্মদ আশরাফুল হক: অনেক সময় আমাদের তথ্য-উপাত্ত ও সরকারের তথ্য-উপাত্তের মধ্যে অমিল পরিলক্ষিত হয়। পদ্ধতিগত কারণে মাঝেমধ্যে এই অমিল দেখা দিতে পারে। এটা নিয়ে আমাদের বিতর্কে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। বাসাবাড়িতে পান করার জন্য যে নলকূপ থেকে পানি সংগ্রহ করা হয়, সে নলকূপ আমরা পরীক্ষা করি। আর ডিপিএইচই বিক্ষিপ্তভাবে যেকোনো নলকূপ পরীক্ষা করে।

মোহাম্মদ আশরাফুল হক
মোহাম্মদ আশরাফুল হক


গবেষণায় দেখা গেছে, পাশে নিরাপদ পানি থাকা সত্ত্বেও অনেকে অনিরাপদ পানি পান করছে। এ ক্ষেত্রে গবেষণা সংস্থা থেকে সরকারকে সহযোগিতা করতে পারি। অথবা সরকারের সঙ্গে আমরা কাজ করতে পারি। যদি নিরাপদ টিউবওয়েলকে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়, তাহলে কিছু মানুষ নিরাপদ পানি পান করা শুরু করবে। কিন্তু শতভাগ মানুষ নিরাপদ পানি পান করবে না।
যারা নিরাপদ পানি পান করছে না, তাদের কীভাবে  এ ব্যাপারে উৎসাহিত করা যায়, সে বিষয়ে কাজ করা প্রয়োজন। নিরাপদ পানি পান করার কী কী উপায় আছে, সেটা দেখাই হচ্ছে গবেষকদের কাজ। উপায়গুলো সরকারকে জানানো প্রয়োজন, যাতে সরকার এটা নিয়ে কাজ করতে পারে। আর্সেনিক বাড়বে। কারণ, এটা ভূতাত্ত্বিক পদ্ধতি। এটাকে হয়তো কমাতে পারব না।
আমাদের খাবারে ও পানিতে এর প্রভাব কীভাবে কমানো যায়, সে বিষয়ে গভীরভাবে ভাবতে হবে। যেমন ফিল্টার একটা টেকসই সমাধান। যদি আমরা বাসাবাড়িতে খাওয়া ও রান্নার কাজে ফিল্টার ব্যবহার করি, তাহলে আর্সেনিক কোনোভাবে আমাদের প্রভাবিত করবে না। করলেও জীবনের জন্য এটা ঝুঁকিপূর্ণ হবে না। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ ফিল্টার কিনছে না। মানুষ যদি সচেতন হয়, তাহলে তাদের ফিল্টার কেনায় আগ্রহ বাড়বে।

সরকারের কাজ হচ্ছে বিভিন্ন কর্মপন্থার মধ্যে কোন নীতি সাশ্রয়ী বা কোন নীতি মানুষকে নিরাপদ পানি খেতে উদ্বুদ্ধ করবে, সেটা খুঁজে বের করা। এ ক্ষেত্রে ভর্তুকি দেওয়া যেতে পারে। কীভাবে ভর্তুকি দিলে কম অর্থে বেশির ভাগ মানুষকে নিরাপদ আর্সেনিক ফিল্টার কিনতে উদ্বুদ্ধ করা যায়, সে বিষয়টা গবেষণার মাধ্যমে খুঁজে বের করতে পারি। সবাই একসঙ্গে কাজ করলে আর্সেনিকের ক্ষেত্রে ভালো অগ্রগতি অর্জন করতে পারব।

সিফাত-ই-সাইদ
সিফাত-ই-সাইদ

সিফাত-ই-সাইদ: আর্সেনিক কোনো ব্যক্তির মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ভীষণ ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। এ বিষয়টার প্রতি তেমন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। আর্সেনিকের কারণে ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কাও প্রবল।
মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে আর্সেনিক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ, দুভাবেই প্রভাব বিস্তার করে। সব বয়সের মানুষই আর্সেনিকে আক্রান্ত হতে পারে। শিশুরা যখন আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়, তখন তাদের বুদ্ধিবৃত্তীয় বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।
গবেষণায় অটিজমের সঙ্গেও আর্সেনিকের প্রভাবের বিষয় লক্ষ করা গেছে। গর্ভবতী মা যখন অনিরাপদ পানি পান করেন, তখন তঁার ভ্রূণের ওপর এর প্রভাব পড়ে। গর্ভের অনাগত সন্তানের ওপর এর প্রভাব পড়ে। আর্সেনিকের জন্য যদি কোনো শিশুর বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়, এটা সারা জীবন তার ওপর প্রভাব ফেলবে।
একটা প্রজন্ম যদি কম বুদ্ধিবৃত্তি নিয়ে বেড়ে ওঠে, তাহলে এটা একটা ভীতিকর ব্যাপার। বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বিষণ্নতা, মনোরোগ ইত্যাদি হলো আর্সেনিকের প্রত্যক্ষ প্রভাব, যা অনেক গবেষণায় দেখা গেছে। তা ছাড়া কিছু পরোক্ষ প্রভাবও লক্ষ করা যায়।

যে পরিবারের লোকজন আর্সেনিকে আক্রান্ত, তারা কিন্তু সামাজিকভাবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। তারা সাধারণত গরিব পরিবারের হয়ে থাকে। অন্য মানুষ তাদের বৈষম্যের চোখে দেখে। যেমন অন্যরা ভাবে যে ওর সঙ্গে মেশা যাবে না বা সামাজিক বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানে তারা বেশি আমন্ত্রিত হয় না, ওই ফ্যামিলিতে বিয়ে দিতে চায় না, সামাজিকভাবে অন্যদের থেকে আলাদা হয়ে যায়। এটা থেকে মানসিক কষ্ট, মানসিক চাপ, চিন্তা, বিষণ্নতা ও অন্যান্য মানসিক সমস্যা তৈরি হতে পারে।

আর্সেনিক যেহেতু ক্রনিক পয়জন, তাই দ্রুত এর প্রভাব দেখা যায় না। এ জন্য মানুষ এটাকে বেশি গুরুত্ব দিতে চায় না। সন্তান মানুষের প্রথম অগ্রাধিকার। সন্তানের বুদ্ধি ভালো হবে না বা তার বিকাশ অন্য আর দশজনের মতো হবে না, এটাকে সে কোনোভাবেই মানতে পারবে না। তাই সবার মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।

আবদুল মতিন: নিরাপদ পানির খুব সাধারণ একটা সমাধান রয়েছে। কিন্তু আমরা সেদিকটা গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছি না। পানিকে আর্সেনিকমুক্ত করার জন্য কত হাজার কোটি টাকা খরচ করা হবে? তারপরও কি সমাধান হবে? আমরা কেন ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগের পানি ব্যবহারের কথা ভাবছি না?

আবদুল মতিন
আবদুল মতিন

উপরিভাগের পানির ওপর অনেক বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। দেশে একসময় লাখ লাখ পুকুর ছিল। আজ আবার পুকুর খনন করার কথা বলা হচ্ছে। অথচ সরকার গুরুত্বসহকারে কখনো বলেনি যে পুকুরগুলো ভরাট করা যাবে না।
আর্সেনিক একটা পরিবেশগত সংকট। যতই সান্ত্বনা পাওয়ার চেষ্টা করি না কেন, এটা থেকে মুক্তি পাব না। আমরা যদি উপরিভাগের পানি ব্যবহার করতে না পারি বা রক্ষা করতে না পারি, তাহলে আমাদের জন্য বড় ধরনের বিপদ তৈরি হবে। নদীর পানির পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে, পুকুর ভরাট হচ্ছে, জলাশয় নিয়ে আইন আছে কিন্তু কোনো প্রয়োগ নেই। দেশের পানি আইন অনেক ভালো। মানুষ খাবার পানির জন্য মাটির নিচে যাচ্ছে।
পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের একটি ডকুমেন্ট থেকে জানা যায়, ৬০ শতাংশ নদীর পানি দূষিত হচ্ছে শিল্পের বর্জ্য থেকে। নদীরক্ষায় কোনো আইন নেই। প্রশাসনকে দুষব না। একটিমাত্র ভরসা হচ্ছে ২০০৯ সালের হাইকোর্টের রায়ে নদীরক্ষার জন্য দূষণ, দখল—সবকিছুর সমাধান দেওয়া আছে। হাইকোর্টের রায়ের ফলে এটি আইনে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এর কোনো প্রয়োগ নেই।

ঢাকার চারপাশে নদীরক্ষার যে চেষ্টা, সেটাও হচ্ছে না। ছয় বছর হলো প্রধানমন্ত্রী নদী টাস্কফোর্স করেছেন। আমি নিজেও এর একজন সদস্য। এখানে অনেক সভা হচ্ছে, সিদ্ধান্ত হচ্ছে। এমনকি টাস্কফোর্সে আটজন মন্ত্রী ও আটজন সচিব আছেন। এত বড় বিশাল একটি কমিটি কিন্তু সেটার কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হচ্ছে না।

সুতরাং, যা হওয়ার তা-ই হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সরকারকেই কঠোর সিদ্ধান্তে আসতে হবে। তা না হলে আর্সেনিকের পেছনে অজস্র টাকা খরচ করে খুব একটা লাভ হবে না।

খায়রুল ইসলাম
খায়রুল ইসলাম

খায়রুল ইসলাম: আর্সেনিক আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকেও প্রভাবিত করবে। বিশেষ করে, যদি শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়, এটা ভীষণ আতঙ্কিত হওয়ার মতোই একটা বিষয়। কিন্তু আমার ধারণা, আমরা খুব বেশি আতঙ্কিত হব না। কারণ, আর্সেনিক প্রধানত গরিবের রোগ, গ্রামীণ রোগ, অপুষ্টিজনিত রোগ।
যেহেতু আমরা শহরের মানুষ, ওয়াসার পানির দাম বাড়লে চিন্তিত হই। চরম অসুবিধা হলো দেশের দক্ষিণাঞ্চলের পাইকগাছা, দাকোপ ও পায়রার মানুষের। কারণ, তারা ওয়াসার পানির দামের চেয়ে ৩৫ গুণ বেশি দামে পানি কিনে খাচ্ছে। এটা আমাদের কাছে সংবাদও মনে হয় না।
আওয়ামী লীগের ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ ছিল ২০১১ সালের মধ্যে আর্সেনিকমুক্ত সুপেয় পানি বাংলাদেশে নিশ্চিত করা হবে। কিন্তু আজ পর্যন্ত সেটা পুরোপুরি নিশ্চিত করা হয়নি। যদিও ১৯৯৩ সাল থেকে হিসাব করলে দেখা যায় আর্সেনিকের প্রকোপ মোটামুটি অর্ধেকে নেমে এসেছে। তখন ২৪–২৫ শতাংশ ছিল, এটা এখন ১২ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে এসেছে। আমরা যদি আরও দুই যুগ কাজ করি বা যে হারে আর্সেনিক কমেছে সে হারে বাংলাদেশ থেকে আর্সেনিক দূর হতে আরও ১৮ বছর সময় লাগবে। এখন আমাদের পিছু হটার সময় নেই।
হাঙ্গেরির পানি সম্মেলনে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আছেন এবং কমিটির কার্যক্রমের মধ্যে আর্সেনিকের বিষয়টিও বিদ্যমান। আমাদের সহনশীলতা প্রয়োজন। এক সভায় ফুড চেইনে আর্সেনিক ঢুকছে, এমন কথা বলায় সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে চরম বিরক্তি প্রকাশ করা হয়। এ ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়গুলোর সহনশীল হওয়া প্রয়োজন। আর্সেনিকে সরকারের বিনিয়োগ খুব কম। এখন আর্সেনিক নিয়ে নতুন করে কাজ শুরু করতে হবে। দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।

ভর্তুকির কথা শুনলে আমরা আতঙ্কিত হই। আমরা আধা লিটার পানি ১৫ টাকা দিয়ে কিনে খাচ্ছি। ওয়াসা এক হাজার লিটার পানি আমাদের বাসায় ১০ টাকায় পৌঁছে দেয়। দাকোপ, কয়রা, শ্যামনগর এলাকার মানুষ ২০০ টাকা দিয়ে মাসে মাত্র ৬০০ লিটার পানি খাবার জন্য কেনে। তারা ৩০–৩৫ গুণ বেশি দামে পানি কিনছে। ভর্তুকি কি ওই দরিদ্র জনগোষ্ঠী পাওয়ার যোগ্য, নাকি আমরা যারা ঢাকায় আছি, তারা পাওয়ার যোগ্য?

মোহাম্মদ মোস্তফা
মোহাম্মদ মোস্তফা

মোহাম্মদ মোস্তফা: গ্রামীণ পানি সরবরাহ প্রকল্পের মাধ্যমে সারা দেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করছি। আগে একটা সিদ্ধান্ত ছিল যে টিউবওয়েলে আর্সেনিক পাওয়া গেলে ঠিকাদারি বিল পরিশোধ করা যাবে না।
সর্বশেষ সিদ্ধান্ত হলো, আর্সেনিক যদি পাওয়া যায়, সেটাকে আমরা লাল রং করে দেব। খাওয়া ছাড়া অন্য কাজে এ পানি ব্যবহার করা যাবে। তা ছাড়া আমাদের প্রকল্পের মাধ্যমে ৩৫০টি পুকুর করা হবে। এর মধ্যে ২০০টি নতুনভাবে খনন করা হবে। আর ১৪৩টি পুনঃখনন করা হবে।
উপরিভাগের পানির মাধ্যমে যেন পানির সমস্যা সমাধান করা যায়, এ বিষয়ে সরকার বেশ জোর দিচ্ছে। আমাদের অন্য একটি প্রকল্প থেকে প্রায় ৮৫০টি পুকুর পুনঃখনন করা হবে। আমরা উপরিভাগের পানি ও গভীর নলকূপের পানির মাধ্যমে নিরাপদ পানির সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি। আর্সেনিকপ্রবণ এলাকায় আমাদের কার্যক্রম আরও ভালোভাবে চলবে। সবাই একসঙ্গে কাজ করলে আমাদের এ সমস্যা থাকবে না।

মো. মজিবর রহমান
মো. মজিবর রহমান

মো. মজিবর রহমান: ১৯৯১ সাল থেকে বাংলাদেশে কাজ করে যাচ্ছি। থানা পর্যায়ে যেখানে ওয়াসার পানি নেই, সেখানে তারা নলকূপের ওপর শতভাগ নির্ভরশীল। এ ক্ষেত্রে বড় বিষয় হচ্ছে মানুষকে সচেতন করা।
মানুষকে যদি সচেতন করা না হয়, দেখা যায় তারা শুধু নলকূপের পানি খাচ্ছে। কিন্তু অন্যান্য কাজে নলকূপের পানি ব্যবহার করছে না। এখানে সচেতনতা একটা বড় ভূমিকা রাখে। আমরা এই সচেতনতার কাজটা করে যাচ্ছি। কিন্তু যেসব নলকূপে আর্সেনিক আছে, সেসব নলকূপ পরীক্ষা না করার কারণে তারা বুঝতে পারছে না যে কোন নলকূপে আর্সেনিক আছে আর কোনটিতে নেই।
গ্রামীণ পর্যায়ে এটা একটা বড় সমস্যা। তাদের সচেতনতার পাশাপাশি সুধী সমাজ যারা আছে; আজ যারা এখানে বসেছি এবং যারা বাংলাদেশে বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করে, তাদের এগিয়ে আসতে হবে।

বাংলাদেশে শত শত এনজিও কাজ করে, তাদের প্রত্যেকেরই এগিয়ে আসা প্রয়োজন এবং কিছু কাজ করা দরকার। সরকার, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সুধী সমাজ সম্মিলিতভাবে এগিয়ে এলে তবেই আর্সেনিকমুক্ত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে।

চৌধুরী মুফাদ আহমদ: আমাদের মূলত জানতে হবে, আর্সেনিক একটি বিষাক্ত উপাদান। নেপোলিয়নকে হত্যা করতে যে স্লো পয়জনিং করা হয়েছিল, সেটা কিন্তু আর্সেনিক। এটার প্রভাব চুল-নখে পাওয়া যায়, যেটা তাঁর ক্ষেত্রে পাওয়া গিয়েছিল।

১৯৮২ সালে কে সি সাহা পশ্চিম বাংলায় প্রথম আর্সেনিক শনাক্ত করেন। তাঁরা দেখলেন যে বাংলাদেশের এক নারীর পশ্চিমবঙ্গে বিয়ে হয়েছে। এই নারীর শরীরে আর্সেনিক ধরা পড়ে। তখন তাঁরা বাংলাদেশকে সতর্ক করে। পশ্চিমবঙ্গে দীপঙ্কর চক্রবর্তী না​মে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক সাধারণ মানুষকে আর্সেনিকের বিষয়ে জানিয়েছিলেন।

চৌধুরী মুফাদ আহমদ
চৌধুরী মুফাদ আহমদ


বাংলাদেশে দুজন মানুষ আর্সেনিক নিয়ে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন, তাঁরা হলেন কমিউনিটি হাসপাতালের অধ্যাপক কাজী কামরুজ্জামান ও অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান। আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, ওই সময় একটা বড় প্রতিবেদন হয়েছিল নিউইয়র্ক টাইমস-এ।
এ সময় আমি স্থানীয় সরকার বিভাগে কাজ করছিলাম। যেকোনো কারণেই হোক, আমাকে আর্সেনিকের ব্যাপারটা দেখার দায়িত্ব দেওয়া হলো। পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গা থেকে যেমন হার্ভার্ড ও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রচুর লোক আমাদের সঙ্গে দেখা করতে আসতেন, কথা বলতেন।
বাংলাদেশে প্রথম বড় প্রকল্প নিয়ে এল বিশ্বব্যাংক। তারা এ দেশের পাহাড়ি এলাকায় একটা পানি সরবরাহ প্রকল্প করল। এ এলাকার মানুষ পাহাড়ের ওপর গিয়ে পানি আনত। একটি বিষয় আমি উল্লেখ করতে চাই, তা হলো সমগ্র পৃথিবীতে আর্সেনিকের মান ১০ পিপিবি (পার্টস পার বিলিয়ন)। কিন্তু আমাদের মান হলো ৫০ পিপিবি। এই মুহূর্তে সরকার যদি ১০ পিপিবিতে নামিয়ে আনতে চায়, তাহলে অনেক কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে অনেক অর্থেরও জোগান দিতে হবে।
সুতরাং, ধীরে ধীরে আমাদের সেই জায়গাটায় যেতে হবে। কারণ, আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মান না মেনে পারব না। আর্সেনিকের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এটা বর্ণহীন, গন্ধহীন, স্বাদহীন পদার্থ। পানিতে আর্সেনিক আছে কি না রাসায়নিক পরীক্ষা ছাড়া বোঝার কোনো উপায় নেই। আরেকটা বিষয়, এটা যে ছোঁয়াচে নয়, সেটা জোরালোভাবে প্রচার করতে হবে।

কামাল আহমেদ: আর্সেনিকপ্রবণ অঞ্চলে যেকোনো মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। তবে দরিদ্র মানুষ বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকে। আলোচনায় এসেছে আর্সেনিকে আক্রান্ত শিশুদের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। এটা সবার জন্য উদ্বেগের বিষয়।

আর্সেনিক নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। প্রথম আলোর পক্ষ থেকে সবাইকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।

যাঁরা অংশ নিলেন 

চৌধুরী মুফাদ আহমদ    : অতিরিক্ত সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়

ইমামুল হক                 : উপাচার্য, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

মো. সাইফুর রহমান      : নির্বাহী প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল অধিদপ্তর

মোহাম্মদ মোস্তফা       : প​রি​চালক, জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল অধিদপ্তর

ক্লাউস এফ জিমারম্যান  : অধ্যাপক, প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়, ইউএসএ

শ্যামল চৌধুরী             : সহযোগী অধ্যাপক, সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়, অস্ট্রেলিয়া

নাসিমুন আরা হক         : সভাপতি, বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্র

সিফাত-ই-সাইদ           : সহকারী অধ্যাপক, মনোরোগ বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

খায়রুল ইসলাম           : কান্ট্রি ডিরেক্টর, ওয়াটারএইড বাংলাদেশ

আবদুল মতিন              : সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন, বাপা

মোহাম্মদ আশরাফুল হক  : দেশীয় প্রতিনিধি, ইনোভেশন ফর পোভার্টি অ্যাকশন

মো. মজিবর রহমান      : পরিচালক, পিপলস ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রাম ইমপ্লিমেন্টেশন (পপি)

সঞ্চালক

কামাল আহমেদ         : পরামর্শক সম্পাদক, প্রথম আলো