খুলনায় নতুন গম সংগ্রহ করা হয়নি

খুলনায় এ বছর গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৭৩ মেট্রিক টন। তবে গত সোমবার সংগ্রহের শেষ দিন পর্যন্ত কোনো গম সংগ্রহ করা হয়নি।
খুলনার বিভিন্ন গুদামে ৩৩ হাজার ৮৫৮ মেট্রিক টন গম মজুত আছে। এর মধ্যে ২৯ হাজার ১৯৭ মেট্রিক টন আমদানি করা গম। আমদানি করা গমগুলো খাওয়ার অনুপযোগী হওয়ার আশঙ্কা করছে খাদ্য বিভাগ। কারণ, ১০ মাস আগে এগুলো রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে আনা হয়েছে।
খুলনা সিএসডির ব্যবস্থাপক মো. আবদুল মান্নান তালুকদার বলেন, সিএসডিতে আমদানি করা গমগুলো ১০ মাস ধরে পড়ে আছে। উৎপাদন, সংগ্রহ ও মজুত মিলিয়ে গমের বয়স কমপক্ষে দেড় বছর অতিক্রম করেছে। গমের মান ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। এ ছাড়া পোকার কবল থেকে গম রক্ষার প্রয়োজনীয় কীটনাশকের বরাদ্দও নেই। তবে গম এখন পর্যন্ত খাওয়ার অনুপযোগী হয়নি।
৩ জুন থেকে জেলায় সরকারের ন্যায্যমূল্যে খোলাবাজারে আটা বিক্রি কার্যক্রম (ওএমএস) বন্ধ রয়েছে। টেস্ট রিলিফ (টিআর) ও অন্যান্য সরকারি প্রকল্পে গমের বদলে নগদ অর্থ দেওয়ায় সেখানেও বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
কোনো গম সংগ্রহ না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মাহাবুবুর রহমান খান বলেন, ‘সংগ্রহের জন্য গুদামে স্থানীয় জাতের গমের যে নমুনা এসেছে, তাতে অপুষ্ট দানার সংখ্যা অনেক বেশি ছিল। ওই গম কিনলে কথা উঠত। এ জন্য কিনতে অনাগ্রহ দেখিয়েছি।’
আর গুদামে মজুত থাকা গমের ব্যাপারে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বলেন, ওই গমের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। মাস খানেকের মধ্যে বিতরণ করা না গেলে এ গমের গুণগত মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাজী নূরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘সারা দেশে সাড়ে চার লাখ মেট্রিক টন গম টিআর-কাবিখার জন্য বরাদ্দ ছিল। সেখান থেকে মাত্র ৭০ হাজার মেট্রিক টন বিতরণ করা হয়েছে। এখন ওই সব খাতে গম না দিয়ে নগদ টাকা দেওয়া হচ্ছে। ওএমএসও আপাতত বন্ধ। খুলনায় মজুত থাকা গমের ব্যাপারে অধিদপ্তরে জানানো হয়েছে। আশা করছি, ঈদের আগে ওএমএস চালু করা যাবে।’
সূত্র জানায়, সরকার প্রতি কেজি গম ২৮ টাকা মূল্যে কেনার পর বস্তা, শ্রমিক ও পরিবহন বাবদ ৩ টাকা খরচ হয়ে মোট দাম দাঁড়িয়েছে ৩১ টাকা।
নগরের ইস্টার্ন ফ্লাওয়ার মিলের মালিক শেখ মো. তারেক বলেন, ওএমএস বন্ধের পর আমদানিকারকেরা গমের দাম বাড়িয়েছে। কিছুদিন আগে ১৫ টাকা করে কিনলেও এখন প্রতি কেজি গমের দাম ১৯ টাকা। খালিশপুর নাজমুল ফ্লাওয়ার মিলের মালিক মতিয়ার রহমানও একই দাবি করেন।
খুলনা মহানগর ডিলার সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন বলেন, ‘খোলাবাজারে আমরা ১৭ টাকা দরে আটা বিক্রি করতাম। তখন বাজারে আটা বিক্রি হতো ১৯-২১ টাকায়। কিন্তু বর্তমানে বাজারে আটার দাম ২৩ থেকে ২৮ টাকা।’
ইকবাল হোসেন বলেন, গত বছর রমজানেও নগরের ৪০ পয়েন্টে ৪০ টন আটা বিক্রি হয়েছিল। খোলাবাজারে আটা বিক্রি বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছে নগরের নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ।