খুলনায় আ.লীগের দুই নতুন মুখ

শেখ সালাউদ্দিন জুয়েল,আকতারুজ্জামান বাবু
শেখ সালাউদ্দিন জুয়েল,আকতারুজ্জামান বাবু

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে খুলনার ছয়টি সংসদীয় আসনে ৪৪ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনেছিলেন। তাঁদের মধ্যে অনেক নতুন মুখ নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ ও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত ছয়টি আসন থেকে নতুন মুখ হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন দুজন।

এই দুজনের একজন হলেন খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসন থেকে শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল। তাঁর কোনো দলীয় পদ নেই। তিনি দলীয় প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আপন চাচাতো ভাই। এই আসন থেকে বর্তমান সাংসদ নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ মিজানুর রহমান দলীয় মনোনয়ন ফরমই কেনেননি।

দলীয় সূত্র জানায়, মিজানুর রহমানকে চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত খুলনা-২ আসনের আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হিসেবে মনে করা হচ্ছিল। তখন আসনটি থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হবেন এমন কেউ ছিলেন না। ৩ মার্চ খুলনা সার্কিট হাউস মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুলনার মানুষের কাছে পরিচয় করিয়ে দেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সালাম মুর্শেদীকে। এরপর গুঞ্জন উঠতে থাকে খুলনা-২ আসন থেকে মনোনয়ন পেতে পারেন সালাম মুর্শেদী। পরে খুলনা-৪ আসনে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয় সালাম মুর্শেদীকে।

অক্টোবরের শুরু থেকে আলোচনায় আসে শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েলের নাম। ২৫ অক্টোবর হেলিকপ্টারে করে খুলনায় আসেন তিনি। সেখানে দলীয় নেতা-কর্মীরা তাঁকে স্বাগত জানান। এদিন বিকেলে দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বর্ধিত সভায় তাঁকে খুলনা-২ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়।

>খুলনা-২ আসনে শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল এবং খুলনা-৬ আসনে টিকিট পেয়েছেন আকতারুজ্জামান বাবু।

নতুন মুখ হিসেবে মনোনয়ন পাওয়া অন্যজন হলেন খুলনা-৬ আসনে (কয়রা-পাইকগাছা) আকতারুজ্জামান বাবু। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। এর আগে তিনি জেলা ছাত্রলীগ ও জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ওই আসনের বর্তমান সাংসদ শেখ মো. নুরুল হক। এর আগে তিনি ওই আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে চারবার নির্বাচন করেছেন। এর মধ্যে ১৯৯৬ সালে জয়লাভ করেন। ২০১৪ সালে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

খুলনা-৬ আসনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দল নাকি জোটের কেউ চূড়ান্ত মনোনয়ন পাবেন, তা নিয়ে উৎকণ্ঠায় দিন কাটছিল আসনটির আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের। অবশেষে সব উৎকণ্ঠার অবসান ঘটেছে। এলাকায় মিষ্টি বিতরণ চলছে।

এই আসনে কমপক্ষে ১৫ জন মনোনয়ন ফরম কিনেছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক–বিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান, বর্তমান সাংসদ শেখ মো. নূরুল হক, সাবেক সাংসদ সোহরাব আলী সানা প্রমুখ ছিলেন। সাংসদ শেখ মো. নূরুল হকের মনোনয়ন না পাওয়ার ব্যাপারে একজন নেতা প্রথম আলোকে বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের বড় কোনো পদে না থাকলেও ওই এলাকায় একক আধিপত্য গড়ে তুলেছিলেন সাংসদ। বিশেষ করে পাইকগাছায় ৫০ শতক জমি দখল নিয়ে অন্যের বাড়ির চারপাশে দেয়াল তুলে দেওয়ায় বেশ সমালোচনায় পড়েছিলেন তিনি। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে নিয়োগ–বাণিজ্য ও নিজের মতের বিপক্ষ আওয়ামী লীগের নেতাদের কঠোরভাবে দমন করার অভিযোগ ছিল। এসব কারণে হয়তো তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।

মনোনয়ন পাওয়ার পর আকতারুজ্জামান বাবু বলেন, ‘দল যোগ্য মনে করেই আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের পাশে থেকে কাজ করেছি। এই মনোনয়ন ভবিষ্যতেও এলাকার মানুষের কাছে থেকে উন্নয়ন করার সুযোগ করে দিয়েছে।’