খেলার রাজা পর্বতারোহণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআর বিভাগে গতকাল এভারেস্ট একাডেমি আয়োজিত তিন দেশের পর্বতারোহীদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় অনুষ্ঠানে অতিথিরা l ছবি: প্রথম আলো
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআর বিভাগে গতকাল এভারেস্ট একাডেমি আয়োজিত তিন দেশের পর্বতারোহীদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় অনুষ্ঠানে অতিথিরা l ছবি: প্রথম আলো

পর্বতারোহণ হলো ‘কিং অব স্পোর্টস’ বা খেলার রাজা। কেননা, অন্য খেলায় সাময়িক সফলতা উদ্‌যাপন করা যায়, কিন্তু পর্বতারোহণের গল্প করা যায় সারা জীবন। এর সাফল্য উপভোগ করা যায় প্রতিদিন।
এই ব্যাখ্যা পশ্চিমবঙ্গের প্রথম এভারেস্টজয়ী দেবাশীষ বিশ্বাসের। তিনি আট হাজার মিটারের ১৪টি পর্বতের মধ্যে পাঁচটিতে আরোহণ করেছেন। দেবাশীষ পশ্চিমবঙ্গের বসন্ত সিং রায়ের সঙ্গে যৌথভাবে ২০১০ সালের ১৭ মে এভারেস্ট জয় করেন। তাঁর মতো আরও পর্বতারোহীর মিলনমেলায় রূপ নিয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) সম্মেলনকক্ষটি।
আইইআরের উদ্যোগে এভারেস্ট একাডেমি ‘ম্যাপ রিডিং, স্কাই ম্যারাথন ও মাউন্ট এভারেস্ট’ বিষয়ে এক কর্মশালার আয়োজন করে। এতে ভারত ও নেপালের চারজন পর্বতারোহী তাঁদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। বাংলাদেশের প্রথম এভারেস্টজয়ী মুসা ইব্রাহীম অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। তিনিও অন্যদের কথার ফাঁকে ফাঁকে নিজের গল্প করেন।
নিজের অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে দেবাশীষ বিশ্বাস বলেন, ‘যেকোনো পাহাড়চূড়া থেকে যখন দক্ষিণ দিকে তাকাই, দেখি সবুজের কত বৈচিত্র্য। কী অদ্ভুত সুন্দর! অনেকেই জিজ্ঞেস করে পাহাড়ের চূড়ায় উঠে কী মাথায় আসে? আসলে কিছুই মাথায় আসে না। যারা পাহাড়ে ওঠে, তারা জানে কতটা কঠিন রাস্তা তারা পাড়ি দিয়ে এসেছে। আবার ফিরে যেতে হবে।’ তাঁর মতে, ফুটবল খেলায় যেমন গোল দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্‌যাপন শুরু হয়, পর্বতারোহণ এমনটি নয়। পাহাড়ের চূড়ায় উঠে আবার নিরাপদে নেমে আসতে পারলেই সাফল্য। আর এই সাফল্য সব সময় উদ্‌যাপন করা সম্ভব।

দেবাশীষ ছাড়াও নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলেন মলয় মুখার্জি, সুস্মিতা মাস্কি ও সত্যরূপ সিদ্ধান্ত। সুস্মিতা নেপালের প্রথম নারী যিনি সাত মহাদেশের সাতটি পর্বতচূড়া জয় করেছেন। তিনি নেপালের পর্যটন দূত। সিদ্ধান্ত সেভেন সামিট অভিযাত্রী, ইতিমধ্যে পাঁচটি জয় করেছেন। আর মলয় সাত হাজার মিটারের তিনটি পর্বত জয় করেছেন। ২০০৩ সালে তিনি গঙ্গাসাগর থেকে গো মুখ পর্যন্ত ২৫০০ কিলোমিটার হেঁটেছেন।

মুসা ইব্রাহীম বলেন, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর এভারেস্ট জয়ের স্বপ্ন দেখা শুরু করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করে চাকরি শুরু করার পর সেই স্বপ্নের পথে হেঁটেছেন। সুতরাং স্বপ্ন দেখার কোনো বয়স বা সময় নেই। স্বপ্ন দেখা যেখানে শেষ, সেখানেই ব্যক্তির মৃত্যু।

কর্মশালায় মানচিত্র পড়ার পদ্ধতি সম্পর্কে বর্ণনা করেন ভারতের ন্যাশনাল অ্যাটলাস থিমেটিক্যাল ম্যাপিং অর্গানাইজেশন লিমিটেডের সাবেক পরিচালক ত্রিদিব কুমার বসু। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন আইইআরের পরিচালক অধ্যাপক মো. আবদুল আউয়াল খান।