গণপরিবহন চালুর পর স্বস্তি অনেকের
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ঘোষিত লকডাউনের মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দিয়েছে সরকার। চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের অনেকেই এতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
চট্টগ্রাম নগরের এ কে খান মোড়ে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন যাত্রীরা। একটি বাস আসতেই হুড়োহুড়ি করে উঠে যান তাঁরা। এতে মুহূর্তেই পূর্ণ হয় যায় সব আসন। কিন্তু মোট আসনের অর্ধেক ফাঁকা রাখতে হবে, সরকারের এ নির্দেশনা মেনে অর্ধেক যাত্রীকে নামিয়ে দেন চালকের সহকারী।
তবে এর বিপরীত চিত্র দেখা গেছে নগরের জিইসি মোড়ে। এখানে বাসের আসন যাত্রীতে পূর্ণ তো ছিলই, আবার অনেকেই দাঁড়িয়ে ছিলেন গাড়িতে। চালকের সহকারীর মুখে মাস্ক ছিল না।
গণপরিবহন চালুর প্রথম দিন কোথাও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা হয়েছে। কোথাও হয়নি। তবে অনেক দিন পর গণপরিবহন চলাচল শুরু করায় স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন চাকরিজীবীরা। আর এতে ঈদ বাজারেও কেনাকাটা জমে উঠবে বলে আশাবাদী ব্যবসায়ীরা।
গতকাল জিইসি মোড়ে সকালে কথা হয় দোকানকর্মী মাহফুজুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এত দিন বাস না চলায় দোকানে যেতে খুব কষ্ট হয়েছিল৷ টাকাও লেগেছিল বেশি। এখন গাড়ি ভাড়া সাশ্রয় হবে।
আরেক চাকরিজীবী নাসির উদ্দিন বলেন, একদিকে কর্মস্থল খোলা। অন্যদিকে গাড়ি চলাচল বন্ধ। এ রকম পরিস্থিতিতে কর্মস্থলে যেতে কী পরিমাণ ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে, তা বলার মতো নয়। এখন অনেকটা স্বস্তি।
বৃহস্পতিবার সকালে নগরের বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, কাজীর দেউড়ি ও নিউমার্কেট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এসব মোড়ে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন প্রচুর যাত্রী।
নগরের নিউমার্কেটের একটি কাপড়ের দোকানের ব্যবস্থাপক আবু তাহের বলেন, এত দিন মার্কেট খোলা থাকলেও গাড়ি চলাচল বন্ধ ছিল। ফলে দোকানে ক্রেতা ছিল খুব কম। আজ থেকে গাড়ি চলাচল শুরু হয়েছে। এতে মানুষ মার্কেটে আসতে পারবেন। কেনাকাটাও জমে উঠবে।
বন্ধুকে নিয়ে নিউমার্কেটে এসেছিলেন নগরের আমানবাজারের বাসিন্দা রফিকুল হক। তিনি বলেন, ঈদের আর বেশি দিন নেই। কিছু কেনাকাটা দরকার। এত দিন গণপরিবহন বা অটোরিকশা না চলার কারণে ঘর থেকে বের হইনি।
স্বাস্থ্যবিধি না মানা এবং আসনের বাড়তি যাত্রী নেওয়া প্রসঙ্গে বাসচালক ফরিদ আহমদ বলেন, ‘আমার তো কিছু করার নাই। যাত্রীরা উঠে গেলে আমি কী করব। তাঁদের তো বলেও নামাতে পারছি না।’