গ্রামে গ্রামে গিয়ে টিকার জন্য বিনা মূল্যে নিবন্ধন
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে করোনাভাইরাসের টিকার জন্য বিনা মূল্যে নিবন্ধনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গোয়ালন্দ ব্লাড ডোনার ক্লাব নামের একটি সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা এই কার্যক্রম চালাচ্ছেন। তাঁদের পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা মুন্সী।
মোস্তফা মুন্সী গোয়ালন্দের উৎপাদনমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান মোস্তাফা মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। একই সঙ্গে তিনি গোয়ালন্দ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে আছেন।
নিবন্ধন কার্যক্রম সরেজমিন দেখতে মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নে যান মোস্তফা মুন্সী। এ সময় তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে গ্রামাঞ্চলের মানুষ যাতে সহজে নিবন্ধন করতে পারেন, সে জন্য আমরা এ উদ্যোগ নিয়েছি। এই দুঃসময়ে গোয়ালন্দ ব্লাড ডোনার ক্লাবের স্বেচ্ছাসেবীরা অত্যন্ত সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিয়েছেন। আমি তাঁদের পাশে থেকে নিবন্ধন কার্যক্রম সফল করার চেষ্টা করছি।’
সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৈশ্বিক মহামারি করোনা থেকে সুরক্ষা পেতে সরকার টিকাদান কার্যক্রম গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে দেওয়ার কর্মসূচি নিয়েছে। কিন্তু টিকার জন্য নিবন্ধনের বিষয়টি সাধারণ মানুষের কাছে জটিল এক বিষয়। শুধু নিবন্ধন করতে না পারার কারণে অনেকে টিকার বাইরে থেকে যাবেন, এমন আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গ্রামে গ্রামে গিয়ে মানুষকে টিকার জন্য বিনা মূল্যে নিবন্ধন করিয়ে দেওয়ার কাজে এগিয়ে এসেছে গোয়ালন্দ ব্লাড ডোনার ক্লাব।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি গোয়ালন্দ পৌরসভাসহ উপজেলার চারটি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে মানুষজনকে নিবন্ধন করানো ও নিবন্ধনের কার্ড সংগ্রহে সহযোগিতা করছেন। তাঁদের পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছেন গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা মুন্সী।
গত মঙ্গলবার থেকে এই নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়। এদিন উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নে কার্যক্রম চলে। দ্বিতীয় দিন ছোটভাকলা ইউনিয়নে গিয়ে স্বেচ্ছাসেবীরা নিবন্ধনের কার্যক্রম চালান। আগামী রোববার পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে। সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা প্রতিদিন একটি করে ইউনিয়ন বাছাই করে সেখানকার প্রতিটি ওয়ার্ডে গিয়ে নিবন্ধন কার্যক্রম চালাবেন।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উজানচর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় তাঁরা এই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। নিবন্ধন কার্যক্রমের পাশাপাশি টিকা নিতে মানুষজনকে উদ্বুদ্ধ করতে স্বেচ্ছাসেবীরা প্রতিদিন ব্যাপক প্রচার-প্রচারণাও চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিদিন ৪০ জন করে স্বেচ্ছাসেবী এসব কাজে যুক্ত থাকছেন।
গোয়ালন্দ ব্লাড ডোনার ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সেলিম মুন্সী বলেন, মঙ্গলবার সারা দিনে তাঁরা ১ হাজার ৩২২ জনের নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ করে নিবন্ধন কার্ড দিতে পেরেছেন। সংগঠনের লক্ষ্য, পাঁচ দিনে অন্তত ১০ হাজার মানুষকে নিবন্ধন করিয়ে দেওয়া। যে কেউ জাতীয় পরিচয়পত্র এবং একটি মুঠোফোন সঙ্গে নিয়ে এলেই তাঁরা নিবন্ধন করে দিতে পারছেন।