গয়ালের গুঁতোয় আহত ১০

ফেনীতে ভারতের বনাঞ্চল থেকে পালিয়ে আসা একটি গয়ালের (বন্য গরু) শিংয়ের গুঁতোয় অন্তত ১০ জন গ্রামবাসী আহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের মঠবাড়িয়া গ্রামে উন্মত্ত গয়ালটি তাণ্ডব চালায়। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জনকে ফেনী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে গ্রামবাসী একত্র হয়ে ওই গয়ালকে গুলি করে মেরে ফেলে।

পুলিশ, বন বিভাগ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতকাল সকাল ১০টার দিকে হঠাৎ ভারতীয় বনাঞ্চল থেকে সীমান্ত এলাকা পাড়ি দিয়ে একটি গয়াল মঠবাড়িয়া গ্রামের লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। গয়াল ঢোকার খবর ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক লোকজন সেটিকে দেখতে জড়ো হতে থাকে। এ সময় গয়ালটি উত্তেজিত হয়ে লোকজনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে অন্তত ১০ জনকে শিং দিয়ে আঘাত করে আহত করে।

আহত ব্যক্তিরা হলেন গিয়াস উদ্দিন (৬০), শাখাওয়াত হোসেন (২৫), জহিরুল ইসলাম (৪০), আনোয়ারা বেগম (৫৫), নাছিমা আক্তার (১২), নুর নাহার (৪৫), জাকির হোসেন (৩২), নুরুল আফছার (২৭), মো. মিনহাজ (২৯) ও মো. খোকন (১৯)। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনকে ফেনী সদর হাসপাতালে ও একজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর ইউনিয়নের মঠবাড়িয়া এলাকায় অজ্ঞাত স্থান থেকে আসা বন্য গরুর আঘাতে ১০ জন আহত হয়েছেন।

ফেনী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. আবু তাহের বলেন, আহত ব্যক্তিদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় আনোয়ারা বেগমকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যরা ফেনী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

জানতে চাইলে ফেনীর সামাজিক বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা তপন কুমার দেবনাথ বলেন, একটি গয়াল গ্রামে ঢুকে পড়ার খবর শুনে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও সেখানে যান। এটি খুব আক্রমণাত্মক ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, এটি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে চোত্তাখোলা এলাকা থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে এসেছে।