চাঁদাবাজির মামলায় খালাস পেলেন সাংবাদিক মিজান

প্রথম আলোর পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা প্রতিনিধি এ বি এম মিজানুর রহমান আওয়ামী লীগের স্থানীয় এক নেতার দায়ের করা একটি চাঁদাবাজি মামলায় বেকসুর খালাস পেয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার পটুয়াখালী যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারিক হাকিম নুসরাত জাহান এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর বাউফলের চন্দ্রদ্বীপ এলাকার আলম সিকদার মিজানুরের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি ও হুমকির অভিযোগে পটুয়াখালী জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আমলি-২ আদালতে এ মামলা করেছিলেন। আলম সিকদার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০১৪ সালের ১০ ডিসেম্বর পত্রিকায় মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের হুমকি দিয়ে মিজানুর রহমান আওয়ামী লীগ নেতা আলম সিকদারের কাছে বকশিশ দাবি করেন। বকশিশ না দেওয়ায় ১৪ ডিসেম্বর প্রথম আলোর ৯-এর পাতায় ‘তিন হাজার একর খাসজমি আ.লীগ নেতাদের দখলে?’ শিরোনামে একটি মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে। ১৬ ডিসেম্বর মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের কারণ জানতে চাওয়ায় এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে আরও মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেওয়া হয়।

মিজানুরের আইনজীবী লুৎফর রহমান বলেন, সংবাদ প্রকাশের জেরে ক্ষুব্ধ ক্ষমতাসীন দলের নেতারা সাংবাদিক মিজানুর রহমানকে হেনস্তা করতেই চাঁদাবাজির মিথ্যা অভিযোগে এ মামলা করেছেন; যা আদালতের রায়ে বেকসুর খালাসের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে।
এর আগেও পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের জেরে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের দায়ের করা বিভিন্ন মামলায় এ পর্যন্ত মিজানুর রহমান একটি চাঁদাবাজি ও ছিনতাই এবং একটি মারামারির মামলায় বেকসুর খালাস পেয়েছেন। তা ছাড়া একটি ধর্ষণ মামলায় সত্যতা না পাওয়ায় পুলিশ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। সর্বশেষ ২০১৫ সালের আরও একটি মারামারির মামলায় দুই দফায় তদন্ত শেষে সত্যতা না পেয়ে প্রথমে থানা-পুলিশ এবং পরবর্তী সময়ে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। এখনো একই বছরের আরও একটি মামলা রয়েছে সাংবাদিক মিজানুরের বিরুদ্ধে।