চারটি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়েছে, ছয় গ্রাম অন্ধকারে

খাগড়াছড়ি জেলা সদরের বটতলী এলাকায় ইটভাটার জন্য মাটি কাটার ফলে বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে হেলে পড়ায় অপর চারটি খুঁটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। এতে তিনটি উচ্চবিদ্যালয়সহ ছয়টি গ্রামের কয়েক শ গ্রাহক গত তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ পাচ্ছে না।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, খাগড়াছড়ি সদরের পাইলটপাড়া এলাকায় আরএমএইচ ব্রিক ফিল্ডটি অবস্থিত। ইটভাটার অবস্থান যদিও পৌর এলাকার বাইরে, তবে ভাটার জন্য ফসলি জমির মাটি কাটা হয়েছে পৌর এলাকার ভেতর থেকে। জমির উপরিতল থেকে অন্তত চার ফুট গভীর মাটি কাটার কারণে আগে থেকেই ভাটার পাশ দিয়ে যাওয়া বৈদ্যুতিক লাইনের খুঁটিগুলোর গোড়ায় খুবই কম পরিমাণ মাটি রাখা হয়েছে। গত মঙ্গলবার দুপুরে কালবৈশাখীর ঝড়ে কম মাটি রাখা একটি খুঁটি হেলে পড়ে। এ কারণে এর পার্শ্ববর্তী চারটি খুঁটি অর্ধেক অংশ থেকে ভেঙে পড়ে যায়। বৈদ্যুতিক তারগুলো এখন বিপজ্জনক অবস্থায় ধানখেতের ওপর পড়ে আছে।

বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো ভেঙে যাওয়ার কারণে মঙ্গলবার থেকে বতটলী এলাকা, ফুটবিল, পাইলটপাড়া, কমলছড়ি, ঘাটপাড়া ও গড় গর্য্যাছড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

খাগড়াছড়ি সদরের পাইলটপাড়ায় পার্বত্য বৌদ্ধ মিশনের আবাসিক উচ্চবিদ্যালয় রয়েছে। পার্বত্য বৌদ্ধ মিশনের পরিচালক ভদন্ত সুমনালঙ্কার মহাস্থবির বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় আবাসিক ছাত্রছাত্রীদের হোস্টেলে পানি তোলা বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনাও করতে পারছে না। তিনি পাইলটপাড়াসহ ছয়টি গ্রামের বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের জন্য অপরিকল্পিতভাবে ইটভাটার জন্য মাটি কাটাকে দায়ী করেন। তিনি দ্রুত বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

ঘাটপাড়ার বাসিন্দা ডুয়ং মারমা বলেন, ‘বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়েছে শুনেছি। ঠিকমতো বিদ্যুৎ এমনিতেই পাই না। এখন খুঁটি ভেঙে পড়েছে, তাহলে সহসা বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে আশা করতে পারছি না।’ তিনি মাটি কাটার কারণে বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে যাওয়ায় ইটভাটার মালিকের শাস্তির দাবি জানান। খাগড়াছড়ি বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী উ গা প্রু বলেন, ‘বটতলী এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়েছে, সে ব্যাপারে আমাদের কাছে তথ্য আছে। তবে মাটি কাটার কারণে বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো ক্ষতি হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখতে হবে। যদি তদন্তে প্রমাণিত হয়, তাহলে ইটভাটার মালিকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উ গা প্রু আরও বলেন, ‘ভেঙে পড়া বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো প্রতিস্থাপন করার মতো খুঁটি এখন খাগড়াছড়িতে নেই। রাঙামাটি থেকে খুঁটি নিয়ে আসতে হবে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকাকে অন্তত তিন-চার দিন বিদ্যুৎ থেকে বঞ্চিত থাকতে হবে।’