ঢাকা জেলার দোহার থানাধীন মুকসেদপুরে চর দখল নিয়ে দুই ভাইকে হত্যা মামলায় ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। ৪২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া মামলার বিচার চলাকালে ২৪ জন আসামির মৃত্যু হওয়ায় তাঁদের মামলার দায় থেকে বাদ দেওয়া হয়। গতকাল বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-৫-এর বিচারক জুয়েল রানা এ রায় ঘোষণা করেন।
হত্যাকাণ্ডের প্রায় ২৭ বছর পর এই রায় ঘোষণা করা হয়। ঘটনার প্রায় ২৭ বছর পর মামলার রায় ঘোষণার বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি গোলাম দস্তগীর প্রথম আলোকে বলেন, ২০০৭ সালে মামলাটি রায়ের জন্য প্রস্তুত হয়েছিল। তবে আসামিপক্ষ আদালত পরিবর্তনসহ বিভিন্ন অজুহাতে সময় নষ্ট করেছে। এই মামলা চলাকালে ২৪ জন আসামি মারা যান। তাঁদের মৃত্যুসনদ সময়মতো পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, এ মামলায় ৭২ জন আসামির মধ্যে ২৪ জন মারা গেছেন, ২৯ জন জামিনে ছিলেন এবং ১৯ জন পলাতক। গতকাল রায় ঘোষণার সময় ১৬ জন আসামি হাজির ছিলেন। ১৩ জন অনুপস্থিত ছিলেন।
দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন শেখ খলিল, রেনু সরদার, মো. কালাম জংগী, সালাম জংগী, ফয়জল সরদার ও আমজাদ ব্যাপারী। এঁদের মধ্যে সালাম ছাড়া বাকি পাঁচ আসামি পলাতক।
রায়ে বলা হয়, রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণে ২১ জন সাক্ষীকে উপস্থাপন করেছে। ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণে সক্ষম হয়েছেন। এই ১০ জনের মধ্যে চারজন মামলা চলাকালে মারা যাওয়ায় তাঁদের মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বাকি ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হলো। আদালত সালামের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। রায়ে বলা হয়, সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার অথবা আত্মসমর্পণের তারিখ থেকে এই রায় কার্যকর হবে।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ১৯৮৮ সালের ২২ নভেম্বর দোহার থানার মুকসেদপুর হাইস্কুলের দক্ষিণ পাশে চর দখলকে কেন্দ্র সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষের একপর্যায়ে আসামিদের বন্দুকের গুলিতে রাজা সিকদার নিহত হন। পরে তাঁর ভাই মমিন সিকদারকে হত্যা করে তাঁর লাশ পদ্মা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় দোহার থানায় হত্যা মামলা করা হয়। ১৯৯৩ সালের ৭২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।