ছাত্ররাজনীতিতে স্বতন্ত্র সংস্কৃতি গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। ছবি: বাসস
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। ছবি: বাসস

শিক্ষার্থীদের প্রতি দল বা ব্যক্তিনির্ভরশীলতা পরিহার করে স্বতন্ত্র ও আদর্শভিত্তিক ছাত্ররাজনীতির সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। আজ রোববার বিকেলে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (এনএসটিইউ) দ্বিতীয় সমাবর্তনে দেওয়া ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান।

মো. আবদুল হামিদ বলেন, ‘ছাত্ররাজনীতি হবে আদর্শভিত্তিক। দল বা ব্যক্তিনির্ভরশীলতা পরিহার করে শিক্ষার্থীদের স্বতন্ত্র ও আদর্শিক রাজনীতির সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।’ এ বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য আবদুল হামিদ শিক্ষার্থীদের প্রতি দল ও ব্যক্তিনির্ভরতা বর্জন করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাহলে দেশে গড়ে উঠবে ত্যাগী, দক্ষ ও সুযোগ্য নেতৃত্ব।

রাষ্ট্রপতি ক্যাম্পাসে লেখাপড়ার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রম ও মুক্তবুদ্ধির চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং শিক্ষার্থীরা যাতে কোনোভাবে নিজেদের চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, মাদক বা জঙ্গি কার্যক্রমসহ কোনো অসামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হতে না পারেন, তার জন্য সজাগ দৃষ্টি রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন নতুন জ্ঞানের ক্ষেত্র ও বিষয়ে কার্যকর, প্রাসঙ্গিক ও ব্যবহারিক পাঠ্যক্রম প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং গুণগত মানসম্মত গবেষণার মাধ্যমে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা যাতে বাংলাদেশের সম্পদ ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশে অগ্রযাত্রায় শামিল হতে পারে, তার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। ‘বাংলাদেশ অ্যান্ড লিবারেশন ওয়ার স্টাডিজ বিভাগ’ নামে একটি পূর্ণাঙ্গ বিভাগ চালুর বিষয়ে তিনি এনএসটিইউর শিক্ষা কার্যক্রম ও পাঠ্যক্রমের প্রশংসা করেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আবদুল হামিদ বলেন, ‘প্রযুক্তি নির্ভরতার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ভাসিত হয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হচ্ছে জেনে আমি খুশি।’

দেশের ব্যাপক আর্থসামাজিক অগ্রগতির উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সম্মোহনী ও আপসহীন নেতৃত্বের কারণে আমরা দেশের স্বাধীনতা পেয়েছি এবং এরপর তার মেয়ে শেখ হাসিনার সুদক্ষ নেতৃত্বে দেশ ব্যাপক উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।’ তিনি বর্তমান সরকার ঘোষিত ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ এর আওতায় ব্লু-ইকোনমি, ডেল্টা ফরমেশন, ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট, ইকো-ট্যুরিজমসহ বিভিন্ন বিষয়ে আরও মৌলিক গবেষণায় দেশের বিপুল সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবহারের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

বক্তব্যের শুরুতেই রাষ্ট্রপতি ভাষাশহীদের পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধা ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁদের অবদানের কথা স্মরণ করেন। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ নতুন গ্র্যাজুয়েটদের অভিনন্দন জানান এবং দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে নিজেদের প্রস্তুত করার পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, সমাবর্তন বক্তা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. অনুপম সেন ও এনএসটিইউর উপাচার্য মো. ওহিদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।