ছাত্রলীগ নেতাকে'স্থগিতবহিষ্কার'

শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহমেদকে গত বুধবার ‘স্থগিত বহিষ্কার’ করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজীবকে লাঞ্ছিত শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতির কাছে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে।

লাঞ্ছনার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় ওই ‘শাস্তি’ অনুমোদন করা হয়। তবে এ ‘শাস্তি’ প্রত্যাখ্যান করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রান্তিক ফটকে গত ৬ এপ্রিল রাত সাড়ে আটটার দিকে ১০-১২ জন শিক্ষার্থী ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বিভিন্ন বাসে তল্লাশি চালান। হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থক সন্দেহে তিন-চারজনকে বাস থেকে নামিয়ে মারধর করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরাও সেখানে ছিলেন। বিষয়টি দেখতে পেয়ে এর প্রতিবাদ করেন অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক মো. নূরুল হকসহ বিভিন্ন ব্যাচের ছয়-সাতজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী। এ নিয়ে নূরুল হকের সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতা রাজীব আহমেদের বাগিবতণ্ডা হয় এবং একপর্যায়ে রাজীবের বিরুদ্ধে নূরুল হককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে।

ওই ঘটনায় ১০ এপ্রিল তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শিক্ষক লাঞ্ছনাকারী শিক্ষার্থীদের শাস্তির দাবিতে শিক্ষক সমিতি আন্দোলন শুরু করলে কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। ১২ মে প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটি। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কিছু সুপারিশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিসিপ্লিন বোর্ড। ওই সুপারিশ বুধবার সিন্ডিকেটের সভায় অনুমোদিত হয়।

সুপারিশে বলা হয়েছে, শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় অভিযুক্ত রাজীবকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতির কাছে লিখিত এবং অভিযোগকারী অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক সিন্ডিকেট সদস্য মো. নূরুল হকের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনা করতে হবে। এ ছাড়া রাজীবকে এই মর্মে সতর্ক করা হোক, ভবিষ্যতে শিক্ষকদের সঙ্গে এরূপ কোনো প্রকার অসদাচরণ করলে তাঁর বিরুদ্ধে তিন মাসের স্থগিত বহিষ্কারাদেশ কার্যকর হবে। একই সঙ্গে ইসলামী ব্যাংকে কর্মরত বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন প্রাক্তন ছাত্র আহসান হাবিব ও খায়রুল কবির খান কেন এবং কোন উদ্দেশে ৬ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রান্তিক ফটকে ছিলেন, সে ব্যাপারে অনুসন্ধান করে ব্যবস্থা নিতে গোয়েন্দা সংস্থাকে অনুরোধ করা হোক বলে সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রত্যাখ্যান: ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থা প্রত্যাখ্যান করে গতকাল বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সোয়া একটা পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সদস্যরা। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক মোহামঞ্চদ মাফরুহী সাত্তার। তিনি বলেন, ‘শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় প্রশাসন যে বিচার করেছে, তা অপ্রত্যাশিত এবং অগ্রহণযোগ্য। তাই আমরা এই বিচার প্রত্যাখ্যান করছি। এর প্রতিবাদস্বরূপ আমরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছি।’

ওই সময় দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুহমঞ্চদ কামরুল আহসান বলেন, ‘প্রশাসনের এ ধরনের বিচারকার্যের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ আলোচনার মাধ্যমে পরে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানান শিক্ষকেরা।

প্রশাসনের বক্তব্য: রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক জানান, শিক্ষার্থী রাজীব আহমেদের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থার কথা জানিয়ে তাঁকে ডাকযোগে পত্র পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে রাজীবের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

উপাচার্য মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সিন্ডিকেটে সর্বসমঞ্চতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আশা করি এতে বিশ্ববিদ্যালয়ে যে অচলাবস্থা চলছে, তার সমাধান হবে।’