ছাত্রী ধর্ষণের দায়ে শিক্ষক পরিমলের যাবজ্জীবন

আদালতে হাজির করার আগে ভিকারুননিসা নূন স্কুলের সাবেক শিক্ষক পরিমল জয়ধর। বুধবার দুপুরে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সামনে থেকে ছবিটি তুলেছেন হাসান রাজা ।
আদালতে হাজির করার আগে ভিকারুননিসা নূন স্কুলের সাবেক শিক্ষক পরিমল জয়ধর। বুধবার দুপুরে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সামনে থেকে ছবিটি তুলেছেন হাসান রাজা ।

ভিকারুননিসা নূন স্কুলের বসুন্ধরা শাখার এক ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে ওই বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক পরিমল জয়ধরকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে তাঁকে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
আজ বুধবার দুপুরের পর ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক সালাউদ্দিন আহম্মেদ এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন পুলিশের পরিদর্শক এস এস শাহাদাৎ হোসেন ও পুলিশ পরিদর্শক মাহবুব এ খোদা। বিশেষ করে পরিদর্শক শাহাদাৎ এই মামলার তদন্তে চরম অদক্ষতা ও গাফিলতি দেখিয়েছেন। পুলিশ পরিদর্শক পদমর্যাদার দুজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার এ ধরনের গাফিলতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁরা সঠিকভাবে তদন্ত করলে, বিচারপ্রার্থীর অভিযোগ সমর্থনের জন্য তা অধিকতর সহায়ক হতো। তবে, তাঁদের তদন্তের দুর্বলতার কারণে এ মামলার যে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি, তা বলা যায় না।
রায়ের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আদালতে উপস্থাপিত মৌখিক, দালিলিক ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা পর্যালোচনায় আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তাই তাঁকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হলো।

এদিকে, এ রায়ের পর আদালত থেকে পুলিশ পাহারায় নিয়ে যাওয়ার সময় পরিমল বলেন, ‘আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। মহামান্য বিচারক যে রায় দিয়েছেন, সে ব্যাপারে আমার কিছু বলার নেই। আপনারা এমন কিছু লিখবেন না, যাতে করে আমার পরিবারের সম্মানহানি ঘটে।’

২০১১ সালের ২৮ মে ভিকারুননিসা নূন স্কুলের বসুন্ধরা শাখার পাশে একতলা ভবনের একটি কক্ষে ওই স্কুলের দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন পরিমল। এ ঘটনায় একই বছরের ৫ জুলাই ওই ছাত্রীর বাবা বাড্ডা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। এতে পরিমল জয়ধর, অধ্যক্ষ হোসনে আরা ও বসুন্ধরা শাখার প্রধান লুৎফুর রহমানকে আসামি করা হয়। এর দুদিন পর (৭ জুলাই) পুলিশ পরিমলকে গ্রেপ্তার করে।

ঢাকার মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ২৮ নভেম্বর পরিমলের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। আর প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ হোসেনে আরা ও লুৎফুর রহমানকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

প্রায় চার বছর ধরে বিচারকাজ চলার পর আজ এ মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত।

এ মামলার ব্যাপারে জানতে চাইলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ফোরকান মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ করতে পেরেছি, তাই আদালত তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।’

অন্যদিকে, আসামি পরিমল জয়ধরের আইনজীবী মাহফুজ মিয়া বলেন, ‘আমরা আদালতের কাছ থেকে ন্যায় বিচার পাইনি। তাই এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করব।’
অারও পড়ুন :
সেই পরিমলের যাবজ্জীবন