ঢাকার মগবাজার-মৌচাক উড়ালসড়কের ট্রাফিক সিগন্যাল অকেজো

>• প্রায় দুই মাস ধরে মগবাজার-মৌচাক উড়ালসড়কের ট্রাফিক সিগন্যালে বাতি নেই।
• দ্রুত বেগে চলতে গিয়ে প্রায়ই যানবাহনগুলো মুখোমুখি এসে যাচ্ছে।
মগবাজার-মৌচাক উড়ালসড়কের পৃথক দুটি ট্রাফিক সিগন্যাল দুই মাসের বেশি সময় ধরে অকেজো হয়ে আছে। মেরামতের কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। এতে উড়ালসড়কে যানবাহন চলাচলের সময় প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে, বড় দুর্ঘটনারও শঙ্কা রয়েছে।
যানবাহন চালকদের অভিযোগ, এ উড়ালসড়কের মৌচাক অংশে পাঁচটি ও শান্তিনগর অংশে ছয়টি পৃথক লেন আছে। সিগন্যাল বাতি না থাকায় কোন লেনের গাড়ি কোন দিকে যাবে, চট করে তা বোঝা যায় না। এতে প্রায়ই যানবাহন মুখোমুখি অবস্থায় চলে আসে। প্রতিদিনই ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা। গত ৬ মার্চ রাতে সিগন্যাল বাতি না জ্বলায় ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়েছে। এতে মোটরসাইকেলের চালকসহ চারজন গুরুতর আহত হয়েছিলেন। তারপরও এই সিগন্যাল বাতিগুলো জ্বালানোর ব্যবস্থা করা হয়নি। উড়ালসড়কের ওপর থাকা ট্রাফিক পুলিশও ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করছে না বলে অভিযোগ।
এই উড়ালসড়ক বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) জানিয়েছে, মগবাজার-মৌচাক উড়ালসড়কটি উদ্বোধন করা হয়েছে ছয় মাস আগে। এর মধ্যে ট্রাফিক সিগন্যালের বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়েছে তিনবার। তবে সিগন্যালে ট্রাফিক পুলিশ আছে। যান চলাচলে তেমন সমস্যা হচ্ছে না। শিগগির উড়ালসড়কটি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে। উড়ালসড়কটি এ দুই সিটি করপোরেশনের সীমানায় পড়েছে।
গতকাল শনিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, উড়ালসড়কের মৌচাক অংশের পৃথক দুটি স্থানে সিগন্যাল-ব্যবস্থা আছে। এর মধ্যে মৌচাক মোড় অংশে পাঁচটি সিগন্যাল বাতির খুঁটি আছে। কিন্তু সেগুলোতে আলো জ্বলছে না। এখানে হাতের ইশারায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছেন উড়ালসড়ক নির্মাণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশনের নিরাপত্তা বিভাগের এক কর্মী। অনেক চালক ওই নিরাপত্তাকর্মীর হাতের ইশারা না মেনেই গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যে মোটরসাইকেলই বেশি। প্রায় একই অবস্থা দেখা গেছে শান্তিনগর ও রাজারবাগ অংশে। এই দুটি স্থানে ট্রাফিক পুলিশের কোনো সদস্যকে দেখা যায়নি। অন্যদিকে ট্রাফিক সিগন্যাল বাতিগুলোর কোন অংশের তার চুরি হয়েছে, তা খুঁজে পাওয়া যায়নি।
এ উড়ালসড়ক দিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে নিয়মিত পল্টন থেকে রামপুরা যান শাহীন আলম। তিনি বলেন, উড়ালসড়কের ওপর ট্রাফিক সিগন্যাল নিয়ে শুরুতেই বিতর্ক উঠেছিল। তারপরও সেখানে সিগন্যাল রাখা হয়েছে। এখন সিগন্যাল বাতি না থাকায় এই পথে চলাচল করতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিতে হচ্ছে। দ্রুতগতিতে কোনো যানবাহন সিগন্যাল পার হতে গেলেই দুর্ঘটনা ঘটছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তমা কনস্ট্রাকশনের নিরাপত্তা বিভাগের এক কর্মী বলেন, অনেক প্রতীক্ষার পর গত ২৬ অক্টোবর প্রায় ৯ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের মগবাজার-মৌচাক উড়ালসড়কের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু উড়ালসড়কের সিগন্যাল-ব্যবস্থা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়। গত ২ মার্চ এই ট্রাফিক সিগন্যাল বাতির তার চুরি হয়। এরপর থেকে মগবাজার-মৌচাক উড়ালসড়কে সিগন্যাল বাতি জ্বলছে না। যানবাহনের গতি বেশি থাকলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।
তমা কনস্ট্রাকশন সূত্র জানায়, উড়ালসড়কটি উদ্বোধনের পর সেটি এলজিইডিকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন তাদেরই সবকিছু তত্ত্বাবধান করার কথা। সূত্রটি আরও জানায়, উড়ালসড়কটি উদ্বোধনের সময় এই সিগন্যাল বাতির বৈদ্যুতিক তার লাগানো হয়েছিল। কয়েক দিন না যেতেই সে তার চুরি হয়। পরে গত ২১ ফেব্রুয়ারি আবার তার লাগানো হলে সেটিও চুরি হয়। সর্বশেষ ২ মার্চ তৃতীয়বারের মতো চুরির ঘটনা ঘটেছে। এবার এলজিইডিকেই নতুন করে তার লাগাতে হবে।
এলজিইডির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং এই প্রকল্পের সাবেক পরিচালক সুশান্ত কুমার পাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘সিগন্যাল বাতি না জ্বলায় যান চলাচলে সমস্যার বিষয়টি শুনেছি। তবে শিগগির আবার বৈদ্যুতিক তার লাগানো হবে। এরপর উড়ালসড়কটি সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’