
কুমিল্লায় কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কুমিল্লা দপ্তরের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. নাজমুল করিম খানকে বদলি করা হয়েছে। তাঁর বদলিতে হতাশা জানিয়ে মামলার অগ্রগতি মন্থর হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ব্যক্ত করেছে তনুর পরিবার।
নাজমুল করিমকে সিআইডির রাজশাহী বিভাগ ও মেট্রোপলিটনে বদলি করা হয়। গত বুধবার কুমিল্লা থেকে বিদায় নিয়েছেন তিনি। এর আগে সোমবার তাঁর বদলি আদেশ হয়। তিনি তনু হত্যা মামলার অন্যতম তদারক কর্মকর্তা ছিলেন।
এ বিষয়ে জানতে নাজমুল করিমের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কুমিল্লা সিআইডির একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে তাঁর বদলি হওয়া ও বিদায় নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এদিকে নাজমুল করিমের বদলিতে হতাশা ব্যক্ত করেছেন মামলার বাদী কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহকারী তনুর বাবা ইয়ার হোসেন। তনুর মা আনোয়ারা বেগম ও ছোট ভাই আনোয়ার হোসেন রুবেলও একই রকম প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তাঁদের আশঙ্কা, এখন মামলার অগ্রগতি মন্থর হয়ে যাবে।
তনুর মা গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘সরকার থেকে তনু হত্যাকারীদের ক্ষমতা বেশি। তা না হলে তিনি কেন বদলি হয়ে যাবেন? তিনি কইছিলেন, ঈদের পরে মাঠে নামবেন। এখন তো কিছু দেখতেছি না। গরিবের লাই কেউ নাই। দেশবাসী ও মিডিয়ার কল্যাণে যদি বিচার পাই।’
তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক গাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, ‘মামলা মামলার গতিতে চলছে। তদন্তাধীন বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’
গত ২০ মার্চ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী তনুর লাশ কুমিল্লার ময়নামতি সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে ঝোপ থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ২১ মার্চ তনুর বাবা কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। গত ১ এপ্রিল থেকে এ মামলার তদন্ত করছে সিআইডি। এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা যায়নি। এমনকি সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ডিএনএ মেলাতে পারেনি সিআইডি।