তিন বাহিনীর ২৩ হাজার পদ উন্নীত
সশস্ত্র বাহিনীতে (সেনা, নৌ ও বিমান) কর্মরত সাড়ে ২৩ হাজারের বেশি জুনিয়র কমিশন অফিসার (জেসিও) এবং সার্জেন্টের পদ উন্নীত করা হচ্ছে। জেসিওদের দ্বিতীয় শ্রেণী থেকে প্রথম শ্রেণী আর সার্জেন্ট ও সমমানের পদ তৃতীয় শ্রেণী থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সেনা সদর দপ্তর সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের একটি দায়িত্বশীল সূত্র প্রথম আলোকে জানায়, গত ১৭ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দেন। এরপর গত ঈদের সময় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী যে বাণী দিয়েছেন, তাতে তিনি পদ উন্নীত করার অনুমোদন দেওয়ার কথা বলেন। এর পর থেকে এ প্রক্রিয়াটি বেশ জোরেশোরে শুরু হয় বলে ওই সূত্র জানায়। ইতিমধ্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত নথি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
সাবেক সেনা কর্মকর্তা এম সাখাওয়াত হোসেন এ প্রসঙ্গে প্রথম আলোকে বলেন, এটা করা হয়েছে পুলিশের পদ উন্নীত করার কারণে। তবে এটা করতে গিয়ে সেনা আইন ও বিধি সংশোধন করতে হবে। তার আগে যেটা করতে হবে তা হলো, কমিশনপ্রাপ্ত প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা ও উন্নীত হওয়া প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তারা কী ধরনের সুবিধা পাবেন, তা নির্ধারণ করা। তিনি বলেন, ক্ষমতার শেষ দিকে এসে নিজেদের পক্ষে যাবে বলে সরকার কিছু কাজ করে থাকে। এটা সে রকমই।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত বছরের ৩০ জুলাই পুলিশের পরিদর্শকদের পদ দ্বিতীয় শ্রেণী থেকে প্রথম শ্রেণীতে আর উপপরিদর্শকদের পদ তৃতীয় শ্রেণী থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত করা হয়। এ নিয়ে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রমাণ মেলে র্যাবের এক প্রতিবেদনে। কিছুদিন আগে র্যাবে কর্মরত সেনা কর্মকর্তারা সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলে পাঠানো একটি প্রতিবেদনে বলেন, পুলিশের এসআই পদটি সেনাবাহিনীর সুবেদার (ওয়ারেন্ট অফিসার) পদমর্যাদার হলেও র্যাবের ক্ষেত্রে ওয়ারেন্ট অফিসারদের পুলিশ পরিদর্শকের সমমর্যাদায় এনে উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) পদে পদায়ন করার বিধান রাখা হয়। আর উপপরিদর্শকদের (এসআই) সেনাবাহিনীর হাবিলদার/সার্জেন্টদের সমমর্যাদায় রাখা হয়েছে। কিন্তু সরকার পুলিশ পরিদর্শকদের প্রথম শ্রেণী ও উপপরিদর্শকদের দ্বিতীয় শ্রেণীর মর্যাদা দেওয়ায় এ নিয়ে বাহিনীর ভেতরে জটিলতা দেখা দেয়।
সশস্ত্র বাহিনী সূত্র জানায়, সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার, সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার ও মাস্টার ওয়ারেন্ট অফিসারের পদ রয়েছে চার হাজার ৮৩২টি। বিমানবাহিনীতে এর সমমানের পদ রয়েছে এক হাজার ২০০টি আর নৌবাহিনীতে আছে এক হাজার ৭০০। এসব পদ দ্বিতীয় শ্রেণী থেকে প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত হচ্ছে। এসব পদধারীদের জেসিও বলা হয়।
প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত হওয়া কর্মকর্তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা হবে স্নাতক। যেকোনো স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাঁরা এ ডিগ্রি অর্জন করতে পারবেন। তবে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সময় কর্মরত জেসিওদের শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রমার্জন করা হবে। আগামী তিন বছর পর্যন্ত কর্মকর্তারা এ সুবিধা পাবেন। এরপর আসা কর্মকর্তাদের স্নাতক ডিগ্রিধারী হতে হবে।
তৃতীয় শ্রেণী থেকে দ্বিতীয় শ্রেণী উন্নীত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন সেনাবাহিনীর সার্জেন্ট ও সমমানের কর্মকর্তা। সেনাবাহিনীতে সার্জেন্ট পদে কর্মকর্তা আছেন ১২ হাজার ৪৬৭ জন। নৌবাহিনীতে এর সমমানের পদে কর্মরত সদস্য আছেন দুই হাজার আর বিমানবাহিনীতে আছেন দেড় হাজার। দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি)। তবে বর্তমানে কর্মরতদের সুবিধার জন্য প্রথম তিন বছর যোগ্যতার শর্ত প্রমার্জন করা হবে।
পদ উন্নীত করার ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।