তেজস্ক্রিয় বর্জ্য নিয়ে আলোচনা স্থগিত

.
.

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিপজ্জনক তেজস্ক্রিয় বর্জ্য রাশিয়া ফেরত নেবে কি না, সে বিষয়ে আলোচনা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। এখন তৈরি করা হচ্ছে প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ের সূচি (ফিন্যান্সিয়াল ক্যালেন্ডার)। অথচ বর্জ্য ফেরত নেওয়া না নেওয়ার বিষয়টিই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, রূপপুর প্রকেল্পের তেজস্ক্রিয় বর্জ্য রাশিয়া ফেরত নেবে কি না, তার ওপর নির্ভর করছে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ। কিন্তু রাশিয়ার পরামর্শ অনুযায়ী সেই আলোচনা স্থগিত রাখা হয়েছে। রুশ কর্তৃপক্ষের পরামর্শ হচ্ছে প্রকল্পের বর্তমান পর্যায়ে অর্থ ব্যয়ের সূচি তৈরি ও চূড়ান্ত করা।
সূত্র জানায়, রূপপুর প্রকল্পের সম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন হবে ৭০০ পর্বে (এপিসোড)। রাশিয়ার দেওয়া ঋণও (প্রকল্প ব্যয়ের ৯০ শতাংশ বা ১ হাজার ১৩৮ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার) এর প্রতিটি পর্বের প্রয়োজন অনুযায়ী ভাগ করে ব্যয় করা হবে। সে জন্য এই সূচি তৈরি করে তা রাশিয়ার জাতীয় বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এ কাজে প্রায় ছয় মাস লাগবে। আর রাশিয়ার বাজেট প্রণীত হয় এপ্রিলে। এ কারণে রাশিয়ার পরামর্শে বর্জ্য ফেরত নেওয়ার আলোচনা স্থগিত রেখে অর্থ ব্যয়ের সূচি তৈরি করা হচ্ছে।
তবে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের একটি সূত্র জানায়, রূপপুরের তেজস্ক্রিয় বর্জ্য বিশেষ বিবেচনায় হলেও ফেরত নেওয়া এবং রাশিয়ায় সংরক্ষণের ব্যাপারে ইতিমধ্যে রুশ কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে অন্যান্য দেশের সঙ্গে চুক্তিতে কী আছে, তা দেখে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে বলে কমিশন ও রূপপুর প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে রাশিয়া।
মন্ত্রণালয় ও পরমাণু শক্তি কমিশনের সূত্রগুলো জানায়, পরামাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য বাংলাদেশ যে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে তার অন্যতম প্রধান কারণ একমাত্র রাশিয়াই পারমাণবিক বর্জ্য ফেরত নিতে রাজি হয়েছিল। রাশিয়া ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রূপপুর প্রকল্প নিয়ে সরকারের আলোচনা হয়। তারা পারমাণবিক বর্জ্য ফেরত নিতে রাজি হয়নি।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, রাশিয়া রূপপুরের পারমাণবিক বর্জ্য ফেরত নেবে না বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সরকার রাশিয়ার সঙ্গে ২০১১ সালে সই হওয়া সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং ২০১৫ সালে সই হওয়া চূড়ান্ত চুক্তি (জেনারেল কন্ট্রাক্ট) পর্যালোচনা করে দেখেছে। রূপপুর প্রকল্পের শুরু থেকে যেসব কর্মকর্তা রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা এবং চুক্তিগুলো সইয়ের প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন, তাঁদের সঙ্গেও সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিরা আলাদাভাবে কথা বলেছেন।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণের পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আবদুল মতিন প্রথম আলোকে বলেন, পারমাণবিক চুল্লিতে ব্যবহারের পর তেজস্ক্রিয় জ্বালানি পানিতে রেখে ঠান্ডা করার জন্য চুল্লির কাছাকাছি স্থানে একটি ‘স্পেন্ট ফুয়েল পিট’ নির্মাণ করা হয়। সেখানে স্পেন্ট ফুয়েল ঠান্ডা হওয়ার পর সেগুলো ইস্পাতের ভারী বাক্সে ভরে পরিশোধনাগারে পাঠানো হয়। পরিশোধনাগারে ওই স্পেন্ট ফুয়েল থেকে পুনরায় ব্যবহারযোগ্য জ্বালানি ও বিভিন্ন মাত্রার তেজস্ক্রিয় বর্জ্য আলাদা করা হয়। সেখান থেকে পাওয়া জ্বালানি (ইউরেনিয়াম ও প্লুটোনিয়াম) পারমাণবিক চুল্লিতে পুনরায় ব্যবহার করা হয়। আর বর্জ্য আলাদাভাবে যুগ যুগ ধরে বিশেষ ব্যবস্থায় সংরক্ষণ করতে হয়। বাংলাদেশের পক্ষে এই ব্যবস্থা করা প্রায় অসম্ভব।