দেশকে অস্থিতিশীল করতে হাটহাজারীতে হেফাজতের সহিংসতা: পুলিশ
দেশকে অস্থিতিশীল করতে হাটহাজারীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হেফাজতে ইসলাম সহিংসতা চালিয়েছে। এর সঙ্গে জড়িতদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রামের ষোলোশহর ২ নম্বর গেটে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) এস এম রশিদুল হক এ কথা বলেন।
পুলিশ সুপার বলেন, হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক (বিলুপ্ত কমিটি) জাকারিয়া নোমান ফয়েজীকে গতকাল বুধবার বিকেলে কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন, হাটহাজারীসহ সব কটি ঘটনায় তাঁর ইন্ধন ছিল। হাটহাজারীর থানা ভবন ভাঙচুর, ভূমি অফিস ও ডাকবাংলোতে অগ্নিসংযোগ ও হামলার ঘটনায়ও তিনি জড়িত ছিলেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, আসামি স্বীকার করেছেন দেশকে অস্থিতিশীল করতে তাঁরা এসব করেছেন। তাঁদের পেছনে আর যাঁরা আছেন, তাঁদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
থানা, ভূমি অফিসে হামলার আগে পুলিশের কাছে কোনো তথ্য ছিল না কেন, গোয়েন্দা পুলিশের ব্যর্থতা রয়েছে কি না প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার রশিদুল হক বলেন, ‘আমরা তদন্ত করছি। এতে পুলিশের কোনো ব্যর্থতা নেই।’
গ্রেপ্তার হেফাজত নেতা জাকারিয়া নোমান ফয়েজীর দুই থেকে তিনজন নারীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে বলে উল্লেখ করেন জেলা পুলিশ সুপার।
এদিকে গ্রেপ্তার হেফাজত নেতা জাকারিয়া নোমান ফয়েজীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার ইকবালের আদালতে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে হাটহাজারী থানা-পুলিশ। আদালত ভার্চ্যুয়াল শুনানি শেষে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
জেলা পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক প্রথম আলোকে বলেন, হেফাজত নেতা জাকারিয়ার বিরুদ্ধে এজাহারনামীয় তিনটি মামলা রয়েছে। হাটহাজারীতে হওয়া ১০টি মামলার মধ্যে সব কটিতে তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে তাঁকে এসব মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরবিরোধী কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গত ২৬ মার্চ ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদ এলাকায় সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনার জেরে ওই দিনই চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও পটিয়ায় সহিংসতার ঘটনা ঘটে। হাটহাজারীতে পুলিশের সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের সংঘর্ষে চারজন নিহত হন। সে সময় পটিয়া ও হাটহাজারী থানায় হামলা, ভূমি কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে পৃথক সাতটি মামলা হয়। এসব মামলায় ৪ হাজার ৩০০ জনকে আসামি করা হয়।
পরে গত ২২ এপ্রিল হেফাজতের নেতা-কর্মীদের আসামি করে পৃথক তিনটি মামলা করে হাটহাজারী থানা-পুলিশ। এর মধ্যে দুই মামলায় হেফাজতের বিলুপ্ত কমিটির আমির জুনায়েদ বাবুনগরীকে আসামি করা হয়। তিন মামলায় আসামি করা হয় ৩ হাজার জনকে। এর মধ্যে ১৪৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।