দ্বন্দ্ব, ঢাকার সঙ্গে পাবনা-সিরাজগঞ্জের বাস বন্ধ

বাসমালিকদের দ্বন্দ্বের কারণে পাবনা থেকে ঢাকার মধ্যে সরাসরি বাস চলাচল আবারও বন্ধ হয়ে গেছে। তবে এবারের দ্বন্দ্ব সিরাজগঞ্জ ও শাহজাদপুর মালিক সমিতির কয়েকটি নতুন বাস রাস্তায় নামানো নিয়ে। দ্বন্দ্বে পাবনা মোটর মালিক সমিতি জড়িত না থাকলেও শাহজাদপুর মোটর সমিতির লোকজন শাহজাদপুরের ওপর দিয়ে পাবনার সব বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে।

গতকাল সোমবার থেকে শাহজাদপুরের ওপর দিয়ে ঢাকা ও পাবনার মধ্যে সরাসরি বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এ ছাড়া শাহজাদপুর থেকে বেড়া ও পাবনা হয়ে রাজশাহী, খুলনা, কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে এবং পাবনা থেকে শাহজাদপুর হয়ে বগুড়া, টাঙ্গাইল, জামালপুর, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন স্থানে চলাচলকারী যাত্রীবাহী বাস চলাচলও বন্ধ রয়েছে। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের।
তবে পাবনা থেকে ঢাকার বাসগুলো বিকল্প পথে ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার অতিরিক্ত ঘুরে নাটোরের বনপাড়া হয়ে চলাচল করছে।

এর আগে গত ১৩ মে থেকে ১০ দিন পর্যন্ত পাবনা ও শাহজাদপুর বাস মালিকদের দ্বন্দ্বে এই পথে বাস চলাচল বন্ধ ছিল।

শাহজাদপুর মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সিরাজগঞ্জ মালিক সমিতি শাহজাদপুর থেকে বাস চালানোর অন্যায় আবদার করেছিল। সেই আবদার মেনে না নেওয়াতেই তারা আমাদের বাস চলতে দিচ্ছে না। বিষয়টি যাতে সমাধান হয়, এ জন্য এখানকার মালিক ও শ্রমিক সমিতির লোকজন পাবনার বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। এ ছাড়া পাবনার সঙ্গে আমাদের মে মাসের ঝামেলার সমাধান এখনো হয়নি।’

পাবনার বাস মালিক সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক কাফি সরকার বলেন, ‘ঝামেলা বেধেছে সিরাজগঞ্জ আর শাহজাদপুরের মধ্যে। এখানে পাবনার বাস কেন বন্ধ করা হবে? এটা চরম অন্যায়। প্রশাসনের উচিত দ্রুত সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসা।’

সিরাজগঞ্জ বাস, মিনিবাস, কোচ মালিক সমিতির সভাপতি জিন্না আলমাজি বলেন, ‘শাহজাদপুর বাস মালিক সমিতির লোকজন শাহজাদপুরের ওপর দিয়ে প্রায়ই বিভিন্ন অজুহাতে আমাদেরসহ অন্য এলাকার বাস চলাচলে বাধা দেয়। তাদের (শাহজাদপুর) সমস্যা আমাদের (সিরাজগঞ্জ) সঙ্গে। কিন্তু তারা পাবনা মালিক সমিতির বাস চলাচল যেভাবে বন্ধ করেছে, তা অন্যায়।’

শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হুসাইন খান বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আগামী বৃহস্পতিবার স্থানীয় সাংসদ মহোদয়ের সঙ্গে বসব। সেখানে সমাধান না হলে ডিসি স্যার বা কমিশনার স্যার সমাধানের উদ্যোগ নেবেন।’

থানা-পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট দুটি বাস মালিক সমিতির সঙ্গে কথা বলে প্রথম আলোর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ছয় মাস আগে শাহজাদপুর থেকে এম এস পরিবহন এবং উল্লাপাড়া ট্রাভেলস নামে দুটি কোচ রাজশাহী রুটে চালানোর সিদ্ধান্ত হয়। তবে সিরাজগঞ্জ মোটর মালিক সমিতি এর বিরোধিতা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুর রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে এপ্রিলে বিষয়টি সুরাহা করতে সিরাজগঞ্জ সদরের সাংসদ হাবিবে মিল্লাত, উল্লাপাড়ার সাংসদ তানভীর ইমাম এবং শাহজাদপুরের সাংসদ হাসিবুর রহমান বাসমালিকদের নিয়ে ঢাকায় বৈঠক করেন। বৈঠকে সিরাজগঞ্জের মোটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক লিটন পোদ্দারকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের কমিটি গঠিত হয়। কমিটি সিরাজগঞ্জেও কয়েক দফা সভা করে। বাস চলাচলের সূচি নির্ধারণে লিটন পোদ্দারকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন আবদুস সামাদ ও আবদুল ওলিদ খান এম এস পরিবহন ও উল্লাপাড়া ট্রাভেলস নামের দুটি নতুন কোচ রাজশাহী রুটে চলাচলের জন্য সময় ঠিক করে তা স্বাক্ষরের জন্য লিটন পোদ্দারের কাছে জমা দেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও লিটন পোদ্দার স্বাক্ষর না করার একপর্যায়ে উল্লাপাড়া ট্রাভেলস রাজশাহী রুটে চলাচল শুরু করে।

এর কিছুদিন পর শাহজাদপুর থেকে এম এস পরিবহনও রাজশাহী রুটে চলাচল শুরু করে। এমন অবস্থায় গত দুই সপ্তাহ আগে সিরাজগঞ্জের মালিক সমিতির রয়েল ডাচ নামের একটি নতুন বাস শাহজাদপুর থেকে রাজশাহী রুটে চালু করে। এতে উভয় পক্ষের মধ্য দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করে। এর একপর্যায়ে গত সোমবার শাহজাদপুর ট্রাভেলস ঢাকা যাওয়ার সময় কড্ডার মোড় এলাকায় সিরাজগঞ্জের কিছু শ্রমিক কোচটির চালককে মারধর করে এবং কোচটি ফিরিয়ে দেয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে শাহজাদপুরের মালিক-শ্রমিকেরা সিরাজগঞ্জের মালিকদের পাবনা-কুষ্টিয়া-ঢাকাগামী সব ধরনের বাস বন্ধ করে দেয়। সোমবার থেকেই এসব রুটে সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।