মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব সৃষ্টিতে উসকানি দেয়, এমন বই প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। তিনি বলেন, এমন বই প্রকাশ করা যাবে না। প্রকাশ করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে অমর একুশে গ্রন্থমেলায় পুলিশ নজরদারি করবে।
গতকাল সকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার এসব কথা বলেন। পুলিশের এই নজরদারি মুক্তচিন্তাকে বাধাগ্রস্ত করবে না বলে আশ্বস্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে লেখক-প্রকাশক ও বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ বই পর্যবেক্ষণ করে মেলায় ওঠাবে। পুলিশের নজরদারি মুক্তচিন্তায় বাধা হয়ে দাঁড়াবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘আমরা অবশ্যই মুক্তচিন্তায় বিশ্বাসী। কিন্তু মুক্ত চিন্তা করতে গিয়ে আপনি যদি কোনো মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেন, গোষ্ঠীগত দাঙ্গা সৃষ্টিকে উসকানি দেন, কারও মৌলিক অধিকার হরণ করেন; সেটা মুক্তবুদ্ধির মধ্যে পড়ে না। এ দুটি বিষয়কে গুলিয়ে ফেলা ঠিক হবে না। আমি শুধু বলব, যেটি দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ, এমন কর্ম যদি কেউ করে, তাহলে আইনের বিধানমতেই আমরা ব্যবস্থা নেব।’ এ ছাড়া মেলায় জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, মেলা প্রাঙ্গণে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকবে। প্রেস ব্রিফিংয়ের সময় ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম, যুগ্ম কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়, রমনা বিভাগের উপকমিশনার মারুফ হোসেন সরদারসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অভিজিতের খুনিরা শনাক্ত
ব্রিফিংয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেছেন, লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায়ের খুনে জড়িত সবাইকে চিহ্নিত ও শনাক্ত করা হয়েছে। মূল আসামি মুকুল রানা খিলগাঁওয়ে পুলিশের অভিযানে নিহত হয়েছেন। আট আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিগগিরই আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।