ধসে পড়ল দুবলহাটি জমিদারবাড়ির একাংশ

নওগাঁর দুবলহাটি রাজবাড়ির ভেঙে পড়া অংশ। ছবিটি গতকাল তোলা l প্রথম আলো
নওগাঁর দুবলহাটি রাজবাড়ির ভেঙে পড়া অংশ। ছবিটি গতকাল তোলা l প্রথম আলো

যথাযথ নজরদারি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নওগাঁর ঐতিহ্যবাহী দুবলহাটি জমিদারবাড়ি তার জৌলুশ হারিয়েছে অনেক আগেই। দেয়ালের পলেস্তারা উঠে যাওয়ায় এবং দরজা-জানালা খুলে নেওয়ায় জীর্ণ কঙ্কাল বেরিয়ে এসেছিল ভবনটির। এবার সেই কঙ্কালও আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না। গত কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণে প্রাচীন এই জমিদারবাড়ির একাংশের দেয়াল ধসে পড়েছে। প্রাচীন এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংরক্ষণে সরকারের কাছে অবিলম্বে উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে গতকাল বৃহস্পতিবার দেখা যায়, দুবলহাটি জমিদারবাড়ি ভবনের উত্তর দিকের দ্বিতীয় তলায় ২০ থেকে ২৫ হাত দেয়াল ধসে পড়ে আছে।
কথা হয় ভবনের ধসে পড়া অংশের বাসিন্দা ভূমিহীন আলমগীর হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, গত সোমবার বিকেল থেকে রাতের মধ্যে বেশ কয়েক দফায় ভবনটির দেয়াল ধসে পড়ে। এ সময় তিনি ও তাঁর পরিবারের লোকজন রক্ষা পেলেও তাঁর পালিত ৭৬ জোড়া পায়রা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে মারা যায়।
নওগাঁর স্থানীয় সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন একুশে পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মেহমুদ মোস্তফা রাসেল বলেন, চোখের সামনে এ ধরনের একটি স্থাপনা ধ্বংস হতে দেখে খুবই কষ্ট লাগছে। শুধু যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে স্থাপনাটি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এ জন্য প্রশাসনই প্রধানত দায়ী বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ঐতিহ্যে নওগাঁ নামক স্থানীয় সাপ্তাহিকের সম্পাদক কাজী রাহাত বলেন, ‘দুবলহাটি রাজবাড়িটি নওগাঁবাসীর ঐতিহ্যের অংশ। এটি ভেঙে পড়ায় আমরা একটি সম্পদ হারালাম। এটা রক্ষা করতে না পারা জাতি হিসেবে সংস্কৃতি-ঐতিহ্যের প্রতি আমাদের অসচেতনতা ও অবজ্ঞারই প্রকাশ।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা বলেন, ২০১২ সালের আগ পর্যন্ত বাড়িটি উত্তরসূরিদের দায়িত্বে ছিল। তারপর সরকার বাড়িটিকে অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করে। এ নিয়ে উত্তরসূরিদের সঙ্গে মামলা হয়। সে মামলা এখনো চলছে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রবিউল ইসলাম বলেন, ‘জমিদারবাড়ির সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে বাড়িটির উত্তরসূরিদের সঙ্গে সরকারের একটি মামলা বিচারাধীন। ভবনের স্থাপনার কোনো ধরনের পরিবর্তন বা সংস্কারের ওপর আদালত স্থিতাবস্থা দিয়েছে। এ জন্যই প্রশাসন ভবনটি রক্ষণাবেক্ষণে কোনো উদ্যোগ নিতে পারছে না।’
নওগাঁ শহর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দুবলহাটি জমিদারবাড়িটি। বরেন্দ্র অঞ্চলের ইতিহাস নামক গ্রন্থে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী দুবলহাটির জমিদার বংশ তাহিরপুর, পুঠিয়া ও সাঁতৈল জমিদার বংশের থেকেও পুরোনো। ঐতিহাসিক কালীনাথের মতে, পাল আমলে (৭৫০-১১৫০) এ জমিদারির সূচনা। মোগল আমলে এ জমিদারির রাজস্ব ধার্য করা হয়েছিল ২২ কাহন (১ কাহন= ১২৮টি) কই মাছ। কারণ, এটি ছিল বিল এলাকা। পাঁচ একর এলাকাজুড়ে দুবলহাটি জমিদারবাড়িটি স্থাপিত। গত ২৯ জুন প্রথম আলোতে স্থাপনাটি নিয়ে ‘দুবলহাটি জমিদারবাড়িটির বাঁচার আকুতি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।