ধাওয়া খেয়ে পালালেন পাখি শিকারিরা

বগুড়ার শেরপুরে পরিবেশবাদী কর্মী ও স্থানীয় জনগণের ধাওয়া খেয়ে পাঁচজন পাখি শিকারি শিকার করা মৃত ২২টি পাখি ও একটি বন্দুক (এয়ারগান) ফেলে পালিয়ে গেছেন। গতকাল বুধবার উপজেলার সীমাবাড়ী ইউনিয়নের রানীরহাট সড়কের হঠাৎপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পরে ওই দিন বিকেল পাঁচটায় উপজেলার পরিবেশবাদী কর্মী আবদুর রাজ্জাক স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পাখিগুলো ও বন্দুকটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ কে এম সরোয়ার জাহানের কাছে জমা দেন।
ইউএনও সরোয়ার জাহান বলেন, এ ধরনের উদ্যোগে পাখিগুলো রক্ষা পাবে। পাশাপাশি জনগণের মধ্যেও পাখি রক্ষায় সচেতনতার সৃষ্টি হবে। তিনি বলেন, বন্দুকটি থানার পুলিশের কাছে জমা দেওয়া হবে এবং পাখিগুলো মাটির নিচে পুঁতে ফেলা হয়েছে।
উপজেলার কালিয়াকৈর গ্রামের পরিবেশবাদী কর্মী আবদুর রাজ্জাক বলেন, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার কুন্দাশন গ্রামের মোজাফ্ফর হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচজন গতকাল দুপুরের পর উপজেলার সীমাবাড়ী-রানীরহাট সড়কে বন্দুক নিয়ে পাখি শিকারে বের হন। সংবাদ পেয়ে তাঁরাও প্রতিরোধে বের হন। সড়কের হঠাৎপাড়া গ্রামে তাঁরা শিকারিদের দেখে ধাওয়া করলে শিকারিরা একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে দ্রুত পালিয়ে যান। এ সময় শিকারিরা একটি এয়ারগান এবং মৃত ১০টি বক ও ১২টি ঘুঘু পাখি ফেলে যান।
স্থানীয় আনোয়ার হোসেন বলেন, শিকারি ওই পাঁচজন প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বন্দুক নিয়ে তাঁদের এলাকায় এসে পাখি শিকার করেন। বাধা দিলেও তাঁরা শোনেননি।
এ ব্যাপারে শেরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, পাখি শিকার বন্ধে পুলিশের পক্ষ থেকে শিগগিরই উদ্যোগ নেওয়া হবে। শিকারিদের আটকের পর তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।