নওগাঁয় মেলার নামে লটারি-বাণিজ্য

নওগাঁ শহরে চলছে মাসব্যাপী শিল্প ও বাণিজ্য মেলা। এতে র্যাফল ড্রর নামে চলছে লটারি-বাণিজ্য। এ লটারির ড্র প্রতিদিন কেবল টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে। ফলে লটারির খবর পৌঁছে যাচ্ছে ঘরে ঘরে।
শহরের কারাগারসংলগ্ন বরুনকান্দি এলাকায় ১৫ ডিসেম্বর মেলা শুরু হয়। চলবে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আমিনুর রহমান। আয়োজক নওগাঁ শিল্প ও বণিক সমিতি। মেলায় বিভিন্ন পণ্যসামগ্রীর ৭০টি দোকান রয়েছে। মেলার শুরুর পরদিন থেকে শুরু হয় লটারি। এ ছাড়া শিশুদের বিনোদনের জন্য রয়েছে মিনি শিশুপার্ক ও সার্কাস। মেলার প্রবেশমূল্য ১০ টাকা। মেলার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় রয়েছে বেনারসি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট।
লটারির টিকিট শুধু মেলা প্রাঙ্গণে নয়, টিকিট বিক্রির জন্য প্রতিদিন ৭০-৮০টি ইজিবাইক ছুটছে সদরসহ আশপাশের উপজেলার বিভিন্ন স্থানে। পুরস্কারের লোভে লটারির ফাঁদে পড়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন রিকশা-ভ্যানচালক, নির্মাণশ্রমিক ও দিনমজুরের মতো শ্রমজীবী মানুষ। এমনকি স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরাও লটারির টিকিট কিনছে।
এদিকে লটারিতে সাধারণ মানুষ সর্বস্বান্ত হওয়ায় ও শিশুদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়ায় লটারি বন্ধের দাবিতে ১৮ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসকের কাছে পৌর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এর পরও লটারি বন্ধে প্রশাসন উদ্যোগ না নেওয়ায় গত শনিবার দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে আবারও লটারি বন্ধের দাবি জানায় পৌর আওয়ামী লীগ।
সরেজমিনে দেখা যায়, মেলা প্রাঙ্গণে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ‘স্বপ্নছোঁয়া র্যাফল ড্র’র নামে লটারির টিকিট বিক্রি হচ্ছে।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন অন্তত এক লাখ টিকিট বিক্রি হয়। প্রতি টিকিটের দাম ২০ টাকা। এতে টিকিট বিক্রি থেকে প্রতিদিন আয় ২০ লাখ টাকা। রাত ১০টায় শুরু হয় র্যাফল ড্র। প্রতিদিন বিভিন্ন কোম্পানির একাধিক মোটরসাইকেল, স্বর্ণালংকার, টিভি, ফ্রিজসহ ৬০টি পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। ড্র অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করা হয় স্থানীয় কেব্ল অপারেটর ‘ড্রিম ওয়াল্ড’ কেব্ল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, পুরস্কার পাওয়ার লোভে দিন এনে দিন খাওয়া মানুষেরা তাঁদের আয়ের বড় অংশ লটারির টিকিট কিনে ব্যয় করছেন। এমনকি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা বাড়ি থেকে চুরি করে টাকা নিয়ে বা টিফিন না খেয়ে টাকা দিয়ে লটারি কিনছে।
পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কাজী জিয়াউর রহমান বলেন, ‘বাণিজ্য মেলার নামে এখানে লটারি-বাণিজ্য চলছে। গুটি কয়েক লোক নামমাত্র পুরস্কার পেলেও আসলে এর আয়োজকেরা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। নিঃস্ব হচ্ছে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। এমনকি স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। এটা বন্ধ করা উচিত।’
জানতে চাইলে বেনারসি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের স্বত্বাধিকারী ফজলুল হক গতকাল রোববার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ ব্যাপারে মুঠোফোনে কোনো কথা বলা যাবে না। কোনো তথ্যের প্রয়োজন হলে মেলা প্রাঙ্গণের অফিস থেকে নিতে হবে।’
জেলা প্রশাসক আমিনুর গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রশাসন বাণিজ্য মেলার অনুমোদন দিয়েছে। র্যাফল ড্রর অনুমোদন দেয়নি। তবে র্যাফল ড্রকে যেহেতু জুয়া হিসেবে গণ্য করা হয় না, সে জন্য এটাকে বন্ধ করা হয়নি। কিন্তু জনগণ যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে অবশ্যই সেটাকে বন্ধ করা হবে। আমি ঢাকায় রয়েছি। ফিরেই মেলা বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দেওয়া হবে।’