নয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতিই সাংসদ
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, একজন সাংসদ তাঁর নির্বাচনী এলাকার চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করতে পারেন। কিন্তু সুনামগঞ্জ-১ আসনের সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেন ওরফে রতন নিজ নির্বাচনী এলাকার নয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সভাপতি।
ধরমপাশা, জামালগঞ্জ ও তাহিরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেন ধরমপাশা ডিগ্রি কলেজ, বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ, জামালগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ, বাদাঘাট ডিগ্রি কলেজ, মধ্যনগর বিপি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বাদশাগঞ্জ পাবলিক হাইস্কুল, গাছতলা উচ্চবিদ্যালয়, জয়শ্রী উচ্চবিদ্যালয় ও আবদুর রশিদ মেমোরিয়াল নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান বলেন, যখন যে দল ক্ষমতায় আসে, সেই দলের প্রভাবশালী লোকজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতির পদ আঁকড়ে থাকেন। তা ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নসহ এলাকার উন্নয়নে সর্বাধিক ক্ষমতা আছে সাংসদদের হাতে। তাই প্রতিষ্ঠানগুলোতে সভাপতির পদে সাংসদকে নির্বাচিত করা হয়। অনেক সময় সাংসদ নিজেও সভাপতি পদে থাকার ইচ্ছা পোষণ করেন। প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন হবে মনে করে তাঁকে (সাংসদ) এ পদে রাখা হয়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সাংসদ শিক্ষক নিয়োগে হস্তক্ষেপ করে থাকেন। অন্য কোনো উপায় না থাকায় তাঁর পছন্দের প্রার্থীকেই নিয়োগ দেওয়া হয়। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোতে মেধাবী শিক্ষকেরা স্থান না পাওয়ায় শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ব্যাহত হয়।
ধরমপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এ বিলকিস বলেন, ‘ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে সাংসদ রতন নয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতির পদ দখল করে রেখেছেন।’
সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জামালগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য রেজাউল করিম ওরফে শামীম বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উন্নয়নের জন্য ওই ব্যক্তিকেই সভাপতি পদে নির্বাচিত করা উচিত; যিনি প্রতিষ্ঠানটির মানোন্নয়নে সার্বক্ষণিক সময় দিতে পারেন। সাংসদকে যেহেতু দেশের উন্নয়ন নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়, সে জন্য মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাঁদের সভাপতির পদে না আসাই সমীচীন বলে আমি মনে করি।’
সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়নের জন্য আমি আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে আমি কখনো কোনো হস্তক্ষেপ করিনি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের স্বার্থে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরাই আমাকে সভাপতির পদে নির্বাচিত করেছেন। চারটির অধিক প্রতিষ্ঠানে সভাপতির পদে থাকা যদি বেআইনি হয়, তাহলে যাঁরা আমাকে এ পদে নির্বাচিত করেছেন—এটি তাঁদের বিষয়।’
সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া বলেন, একজন সাংসদ চারটির বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সভাপতির পদে থাকতে পারবেন না বলে নীতিমালায় সুস্পষ্ট উল্লেখ আছে। এর কোনো ব্যত্যয় ঘটলে বা এ-সংক্রান্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।