নামের মান রাখলেন না উত্তম

স্মার্টওয়াচ ব্যবহার করে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ায় লালমনিরহাট মজিদা খাতুন সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে উত্তম কুমার রায় নামের এক পরীক্ষার্থীকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

আজ বুধবার বিকেলে ওই কেন্দ্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন সম্মান তৃতীয় বর্ষের বিশেষ পরীক্ষা-২০১৬-এর সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাপনা বিষয়ের পরীক্ষা চলাকালে উত্তমকে বহিষ্কার ও ওই সাজার আদেশ দেওয়া হয়। উত্তমের কাছ থেকে মুঠোফোন, স্মার্টওয়াচ জব্দ করা হয়েছে।

সাজাপ্রাপ্ত উত্তম কুমার লালমনিরহাটের আদিতমারীর ভাদাই ইউনিয়নের আদিতমারী গ্রামের দীপক চন্দ্র রায়ের ছেলে। তিনি লালমনিরহাট সরকারি মহাবিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র।

ওই পরীক্ষাকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রের পরীক্ষা কমিটির সদস্য প্রভাষক (ইতিহাস) শফিকুর রহমান ও কেন্দ্রের ২০৩ নম্বর কক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রভাষক আবদুল্লাহ আল ওমর ফারুক উত্তম কুমারকে বারবার তাঁর হাতের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখেন। সন্দেহ হলে তাঁরা উত্তমের কাছে কারণ জানতে চান। এ সময় উত্তম যৌক্তিক কোনো কারণ জানাতে পারেননি। পরে উত্তমকে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নজরুল ইসলামের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি ঘড়িটি স্মার্টওয়াচ বলে স্বীকার করে ক্ষমা চান।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নজরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মমতাজ বেগমকে মুঠোফোনে জানানো হলে তিনি পরীক্ষাকেন্দ্রে এসে উত্তম কুমারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। উত্তম দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চান। পরে তাঁকে পরীক্ষার প্রবেশপত্রে বর্ণিত ৭ ও ৮ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘনের দায়ে দণ্ডবিধির ১৮৬০-এর ১৮৮ ধারায় বর্ণিত সরকারি আদেশ অমান্য করার অপরাধে পরীক্ষা থেকে বহিষ্কার ও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। নজরুল ইসলাম বলেন, নাম উত্তম হলেও সে অধমের কাজ করেছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মমতাজ বেগম বলেন, এর আগে মঙ্গলবার একই পরীক্ষাকেন্দ্রে অন্যের হয়ে পরীক্ষা দেওয়ার অপরাধে ১০ জন পরীক্ষার্থীকে এক বছর করে কারাদণ্ড ও প্রকৃত ১০ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করার কথা জেনেশুনেও উত্তম পরীক্ষা হলে নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক সুবিধা-সংবলিত স্মার্টওয়াচ নিয়ে আসেন। তাঁকে বিধি মোতাবেক সাজা দেওয়া হয়েছে।