নারায়ণগঞ্জে করোনার নমুনা সংগ্রহ কমেছে ৫০ শতাংশ

ছবি রয়টার্স
ছবি রয়টার্স

নারায়ণগঞ্জের করোনাভাইরাস সংক্রমণ (কোভিড-১৯) পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ কমে জুলাইয়ে অর্ধেকের (৫০ শতাংশ) নিচে নেমেছে। গত ১ জুন থেকে ২০ দিনে নমুনা সংগ্রহ করা হয় ৯ হাজার ২৬৬ জনের। কিন্তু ১ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ৪ হাজার ৬১৯ জনের। এ কারণে সংক্রমণের প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না। এতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নগরবাসী।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ১ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৯ হাজার ২৬৬ জনের। সংক্রমণ শনাক্ত হয় ১ হাজার ৭৪২ জনের। ওই সময়ে করোনায় মৃত্যু হয় ২০ জনের। সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ২২০ জন। এদিকে ১ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ৪ হাজার ৬১৯ জনের। কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন ৬০৯ জন। মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ১৮১ জন।

জেলা কোভিড-১৯ প্রতিরোধ কমিটির সদস্যসচিব ও জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইমতিয়াজ প্রথম আলোকে বলেন, বেশ কয়েকটি কারণে নমুনা সংগ্রহ কমেছে। আগে সংক্রমণের ১৪ দিন পর ফলোআপ নমুনা সংগ্রহ করা হতো, এখন সেটি নেওয়া হচ্ছে না। ফি নির্ধারণের কারণেও নমুনা সংগ্রহ কমেছে।

খোঁজ নিয়ে নিয়ে গেছে, শহরের খানপুরে অবস্থিত ৩০০ শয্যা কোভিড-১৯ হাসপাতাল পিসিআর ল্যাবের বুথে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। এর বাইরে জেলার ৫টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ ছাড়া কয়েক জায়গায় সরকারি-বেসরকারিভাবে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তবে ফি ধার্য করার পর থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের কোভিড-১৯ পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ বন্ধ আছে। এতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ওই এলাকার লোকজনকে।

সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা প্রথম আলোকে বলেন, ফি নির্ধারণের পর থেকে সিটি এলাকায় নমুনা সংগ্রহ বন্ধ আছে। তাঁরা টাকা নিয়ে নমুনা সংগ্রহ করছেন না। এর বেশি তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।

গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম কোভিড-১৯ আক্রান্ত তিন রোগীর দুজন নারায়ণগঞ্জের। ৩০ মার্চ করোনায় আক্রান্ত হয়ে এ জেলায় এক নারীর মৃত্যু হয়। গত ৭ এপ্রিল করোনার সংক্রমণের জন্য নারায়ণগঞ্জকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ জেলা হিসেবে চিহ্নিত করে আইইডিসিআর। ৮ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ জেলাকে অবরুদ্ধ ঘোষণা করা হয়। কোভিডে আক্রান্ত হয়ে দুই চিকিৎসক, একজন নার্স, জেলা প্রশাসনের এক কর্মচারীসহ ১২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছিলেন জেলা সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ ১৬ চিকিৎসক, চারজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ ৫ হাজার ৭৫৭ জন। জেলায় মোট নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ২৯ হাজার ৭৮১ জনের। আইসোলেশনে সুস্থ হয়েছেন ৫ হাজার ১৪৩ জন।

কোভিড-১৯ দুর্যোগ উত্তরণ সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি প্রথম আলোকে বলেন, জেলায় আক্রান্ত হওয়ার হার কমে গেছে—এ কথা ঠিক নয়। সরকার দেশে ও বিশ্বে সংক্রমণ কম দেখানোর জন্য পরীক্ষার ক্ষেত্রে যে টাকা নির্ধারণ করেছে, এটি তারই প্রতিফলন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিকল্পিতভাবে নমুনা পরীক্ষা কমিয়ে দিয়েছে। এতে আক্রান্ত কম দেখাবে এবং প্রকৃত চিত্র প্রকাশ পাবে না। কিন্তু এতে কোভিড-১৯ দুর্যোগ দীর্ঘস্থায়ী হবে। আক্রান্তের শতকরা হার বাড়বে এবং মৃত্যুঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে। দুর্যোগ দীর্ঘস্থায়ী হলে অর্থনীতিসহ সবদিক থেকেই ক্ষতি বাড়বে।

এ ব্যাপারে জেলা করোনাবিষয়ক ফোকাল পারসন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ফি নেওয়ার কারণে অযাচিত নমুনা পরীক্ষা কমে গেছে। এখন যাদের উপসর্গ আছে, শুধু তারাই নমুনা পরীক্ষার জন্য দিচ্ছে। সংক্রমণ পরিস্থিতি তুলনামূলক কম। তিনি আরও বলেন, সিটি এলাকার নমুনা সংগ্রহ করলে নমুনা সংগ্রহের হার কিছুটা বাড়ত।