নিজেকে আড়াল করে তথ্য দিলেন ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল আলম

দরপত্র নিয়ে ছাত্রলীগ যুবলীগ সংঘর্ষ
দরপত্র নিয়ে ছাত্রলীগ যুবলীগ সংঘর্ষ

চট্টগ্রামের সিআরবি এলাকায় ছাত্রলীগ-যুবলীগের সংঘর্ষকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে শিশুসহ দুজন নিহত হওয়ার ঘটনায় করা মামলায় ‘নিজেকে আড়াল করে’ পুলিশকে তথ্য দিয়েছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক সাইফুল আলম ওরফে লিমন।গত সোমবার দরপত্র নিয়ে ওই সংঘর্ষ ও নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এ-সংক্রান্ত মামলায় গতকাল শুক্রবার  এক দিনের রিমান্ডে সাইফুল পুলিশের কাছে স্বীকার করেন, ঘটনার দিন তিনি দরপত্র জমা দিতে যান। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কোতোয়ালি থানার পুলিশ সাইফুলকে আবার কারাগারে পাঠিয়ে দিয়েছে।কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মহিউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, সাইফুল ঘটনার দিন সিআরবি এলাকায় গিয়েছিলেন বলে স্বীকার করেছেন। সাইফুলের দাবি, দরপত্র জমা দেওয়ার পর সাতরাস্তার মোড়ে গেলে তিনি গুলির শব্দ শুনতে পান। তবে কারা গুলি করেছে, তা তিনি দেখেননি। নিজেকে আড়াল করেই তিনি এ বক্তব্য দিয়েছেন।মহিউদ্দিন আরও বলেন, ‘সাইফুলের সহযোগীসহ আরও ১৪ আসামি জিজ্ঞাসাবাদে কিছু তথ্য দিয়েছেন। বিশেষ করে সিআরবি এলাকায় টেন্ডারবাজির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নামধাম বলেছেন। আমরা ওই তথ্য যাচাই করে দেখছি।’এদিকে ওই ঘটনায় প্রথম দফায় ১৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর গতকাল অপর ৩৫ জন আসামিকে চট্টগ্রাম কারাগার থেকে কোতোয়ালি থানায় নেওয়া হয়। তাঁদেরও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তবে যুবলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য হেলাল আকবর চৌধুরী ওরফে বাবরসহ পাঁচজনকে আজ শনিবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ তাদের হেফাজতে নেবে। গত সোমবার রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ৯৬ লাখ টাকার দরপত্র জমা দেওয়া নিয়ে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ক্যাডারদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সময় আট বছরের শিশু আরমান এবং যুবলীগের নেতা সাজু পালিত গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এ ঘটনায় সাইফুল আলম ও বাবরসহ ৮৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৩০-৪০ জনকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন পুলিশের একজন উপপরিদর্শক।  পুলিশ ঘটনার দিনই সাইফুলসহ ৫২ জনকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ঢাকার নিকেতন এলাকার একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার হন বাবরসহ আরও ছয়জন। এঁদের মধ্যে শাকিল নামের এক যুবক ঢাকা মহানগর পুলিশের করা এক মামলারও আসামি। পরে তাঁকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়।