পদ্মা-মেঘনা-তেঁতুলিয়ায় দুই মাস মাছ ধরা নিষিদ্ধ
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় আজ ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা এবং ভোলার ভেদুরিয়া থেকে পটুয়াখালীর চর রুস্তম পর্যন্ত তেঁতুলিয়া নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে। এ সময় নদীতে জাল ফেলা, মাছ ধরা এবং বাজারে জাটকা বিক্রি ও পরিবহন বেআইনি হিসেবে গণ্য হবে।
জাটকা রক্ষায় মৎস্য অধিদপ্তর মৎস্য সংরক্ষণ আইন ১৯৫০-এর ১৩ ধারা অনুযায়ী এ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। প্রথম আলোর প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
রামগতি (লক্ষ্মীপুর): নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত ইলিশের অভয়াশ্রমগুলো হচ্ছে চাঁদপুরের ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুরের রামগতির চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত মেঘনা নদীর নিম্ন অববাহিকার ১০০ কিলোমিটার, ভোলার মদনপুরের চর ইলিশা থেকে চর পিয়াল পর্যন্ত মেঘনা নদীর শাহবাজপুর চ্যানেলের ৯০ কিলোমিটার এবং ভোলার ভেদুরিয়া থেকে পটুয়াখালীর চর রুস্তম পর্যন্ত তেঁতুলিয়া নদীর ১০০ কিলোমিটার এলাকা।
রামগতি উপজেলা টাস্কফোর্সের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম শফি কামাল বলেন, মেঘনা নদীর অভয়াশ্রমে মাছ ধরা বন্ধ রাখার জন্য জেলেপল্লিসহ মাছঘাট এলাকা ও উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে সচেতনতামূলক সভা-সমাবেশ করা হচ্ছে। এ ছাড়া বিলবোর্ড, প্রচারপত্র, পোস্টার ও মাইকের মাধ্যমে এলাকায় প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। মাছ ধরা প্রতিরোধের জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালতও পরিচালনা করা হবে।
উপজেলা টাস্কফোর্সের সদস্যসচিব ও উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. খোরশেদ আলম বলেন, মাছ ধরা বন্ধ থাকার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত জেলে পরিবারের জন্য ‘জাটকা সংরক্ষণ, জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান ও গবেষণা প্রকল্প’-এর আওতায় মৎস্য অধিদপ্তরের পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ওই প্রকল্পের আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত জেলে পরিবারের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে ও ভিজিএফ সহায়তা দেওয়া হবে।
চাঁদপুর ও মতলব দক্ষিণ: চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সফিকুর রহমান বলেন, মাছ ধরা নিষিদ্ধ এলাকার মধ্যে চাঁদপুরের নদী সীমানায় রয়েছে ৬০ কিলোমিটার। মার্চ-এপ্রিল দুই মাস জাটকা বেড়ে ওঠার সময়। প্রতিবছর মার্চ ও এপ্রিলে নদীতে জাটকা বেড়ে ওঠে। এ সময় পদ্মা-মেঘনাকে জাটকার পরিচর্যাক্ষেত্র (নার্সিং গ্রাউন্ড) হিসেবে গণ্য করা হয়। যেকোনো মূল্যে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হবে। আজ ১ মার্চ থেকে পরিচালিত হবে জাটকা রক্ষার অভিযান।
সফিকুর রহমান আরও বলেন, এ সময় যদি নদীতে কেউ মাছ ধরেন বা জাল ফেলেন, তা হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।