পা দিয়ে লিখেও বি গ্রেড পেয়েছে অদম্য জসীম

প্রথম আলোকে নির্ভরযোগ্য সূত্র হিসেবে পেতে হলেএখানে ক্লিক করুন
দুটি হাত নেই। তারপরও পা দিয়ে লিখেই জেএসসি পরীক্ষায় বি গ্রেড পেয়ে পাস করেছে জসীম মাতুব্বর। ছবিটি জেএসসি পরীক্ষার সময় তোলা। ছবি:আলীমুজ্জামান
দুটি হাত নেই। তারপরও পা দিয়ে লিখেই জেএসসি পরীক্ষায় বি গ্রেড পেয়ে পাস করেছে জসীম মাতুব্বর। ছবিটি জেএসসি পরীক্ষার সময় তোলা। ছবি:আলীমুজ্জামান

জন্ম থেকেই দুটি হাত নেই। কিন্তু শারীরিক এ প্রতিবন্ধকতা তাকে দমাতে পারেনি। পা দিয়ে লেখা শিখে অদম্য স্পৃহায় এগিয়ে যাচ্ছে সে। পা দিয়ে লিখেই এবারের জেএসসি পরীক্ষায় বি গ্রেডে পাস করেছে ফরিদপুরের নগরকান্দার তালমা নাজিমউদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্র জসীম মাতুব্বর (১৪)।

জসীম জানায়, ‘আমার প্রত্যাশা ছিল, জেএসসি পরীক্ষায় আমি জিপিএ-৫ পাব। কিন্তু আমার অঙ্ক পরীক্ষাটা খারাপ হয়ে যায়। এ জন্য আশানুরূপ ফল হয়নি। তবে আমি হতাশ নই। ভবিষ্যতে আরও ভালো করব। আমি অবশ্যই এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাব।’

নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের কদমতলী গ্রামের মো. হানিফ মাতুব্বর ও তাছিরন বেগমের বড় ছেলে জসীম। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে জসীম সবার বড়। মেজ ভাই রশিদ মাতুব্বর (১৩) সপ্তম শ্রেণিতে, সেজ ভাই আবুল খায়ের (১১) হাফেজিয়া মাদ্রাসায়, ছোট ভাই লিয়ন (৯) কদমতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে এবং একমাত্র বোন হালিমা (৮) মাদ্রাসায় পড়ে।

তালমা নাজিমউদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মজিবর রহমান বলেন, ‘জসীম জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৩.১০ পেয়ে বি গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। আমার প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে জসীম আরও ভালো করবে।’

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পরিমল চন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘পা দিয়ে লিখে বি গ্রেড পাওয়াও কম কৃতিত্বের ব্যাপার নয়। পা দিয়ে লিখলে স্বাভাবিকভাবেই লেখার গতি কমে যায়। এ বছর ফরিদপুর জেলায় বিশেষ ব্যবস্থাপনায় জসীম একাই পরীক্ষা দিয়েছে। দুটি হাত না থাকা সত্ত্বেও লেখাপড়ার প্রতি জসীমের অদম্য স্পৃহা আমাকে মুগ্ধ করে।’

জসীমকে নিয়ে ২০১৩ সালে পিএসসি পরীক্ষা ও চলতি বছর ২ নভেম্বর জেএসসি পরীক্ষা দেওয়ার সময় প্রথম আলোতে দুটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।