পাল্টাপাল্টি অভিযোগ হাফিজ-নুরুন্নবীর
ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসনের বিএনপির প্রার্থী হাফিজ উদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তাঁর কর্মী–সমর্থকদের ওপর হামলা চালাচ্ছেন। হামলার ভয়ে তিনি প্রচার-প্রচারণায় বের হতে পারছেন না, নিজ ঘরে অবরুদ্ধ হয়ে রয়েছেন।
এদিকে এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন অভিযোগ করেছেন, ঘরে বসে হত্যার পরিকল্পনা করছেন হাফিজ উদ্দিন। গত সোমবার রাতে নিজ নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করে দুই প্রার্থী পরস্পরের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, লালমোহন ও তজুমদ্দিন উপজেলায় প্রতি রাতে বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের বাড়িতে হামলা ও লুট হচ্ছে। নেতা-কর্মীদের কুপিয়ে-পিটিয়ে জখমসহ ব্যাপকভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হচ্ছে। নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই। তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানান।
গতকাল মঙ্গলবার মুঠোফোনে হাফিজ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, গত শনিবার তিনি লালমোহনে এসেছেন। বাড়িতে ওঠার পর আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা বিএনপি সমর্থকদের ওপর দফায় দফায় হামলা চালায়, যা গতকাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা বিএনপির নেতা–কর্মীদের নামে মিথ্যা মামলাও দিচ্ছেন। এসব মামলায় নেতা–কর্মীদের আটক করছে পুলিশ। এ অবস্থায় নির্বাচন সামনে রেখে তিনি প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারছেন না। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা শহরে ও আমার বাড়ির সামনে টহল দিচ্ছেন। বাড়িতে অনেকটা অবরুদ্ধ অবস্থায় আছি।’
সোমবার রাতে নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে নুরুন্নবী চৌধুরী অভিযোগ করেন, ‘বিএনপির প্রার্থী হাফিজ উদ্দিন আহমদ রক্ত, হত্যা, খুন ছাড়া নির্বাচন করতে পারেন না। এখানে জাতীয় পার্টির প্রার্থীসহ অন্য প্রার্থীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রচার–প্রচারণা চালাচ্ছেন। নির্বাচনী পরিবেশও শান্ত ছিল। কিন্তু হাফিজ উদ্দিন এলাকায় আসার পরই সন্ত্রাসী কার্যকলাপ শুরু করে পরিবেশ অশান্ত করে তুলেছেন। তিনি ঘরে বসে হত্যার পরিকল্পনা করছেন।’
গতকাল উপজেলার নয়নীগ্রাম নির্বাচনী কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নুরুন্নবী চৌধুরী বলেন, হাফিজ উদ্দিন নির্বাচন করতে নয়, এসেছেন মানুষ হত্যা করতে। তিনি ঢাকা থেকে তিন শতাধিক হেলমেট এনে হেলমেট বাহিনী গড়ে তুলেছেন। ১৫ ডিসেম্বর লালামোহনে সেই হেলমেট বাহিনী দিয়ে আওয়ামী লীগের প্রায় ২৫ জন নেতা–কর্মীকে পিটিয়ে–কুপিয়ে আহত করেছেন।