পুকুরে ইলিশ চাষ বাণিজ্যিকভাবে সম্ভব নয়

noname
noname

তিন বছর গবেষণার পর বাণিজ্যিকভাবে পুকুরে ইলিশ উৎপাদন সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন মৎস্য বিজ্ঞানীরা। তবে কেউ চাইলে শখের বশে পুকুরে ইলিশের চাষ করতে পারেন।
চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আনিসুর রহমান গত শনিবার এ কথা জানিয়েছেন। জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০১৩ উপলক্ষে চাঁদপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। এ সময় জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রতন দত্তসহ প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন।
আনিসুর রহমান বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে পুকুরে বাণিজ্যিকভাবে ইলিশ চাষ সম্ভব নয়। তবে দীর্ঘদিন পুকুরে ইলিশ রাখা যাবে।’ তিনি জানান, ২০১০ সালের জুলাই থেকে শুরু করে ২০১৩ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছর চাঁদপুর মৎস্য গবেষণাকেন্দ্রের তিনটি গভীর পুকুরে ইলিশ চাষ করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব ইলিশ নদী বা সাগরের ইলিশের মতো হয় না। পুকুরে ইলিশ বাঁচিয়ে রাখতে পারলেও এর বৃদ্ধি, স্বাদ ও বংশবিস্তার কোনোটিই নদীর মাছের মতো হয় না। মেঘনা নদী থেকে ধরা ইলিশের পোনা (জাটকা) ও কিশোর ইলিশ (টেম্পু) বিশেষ পদ্ধতিতে সংগ্রহ করে এসব পুকুরে ছাড়া হয়। কিন্তু প্রকল্প শুরুর এক বছরের মাথায় অধিকাংশ ইলিশ মারা যায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, এক বছরে নদীতে ইলিশ বাড়ে ৩ দশমিক ২ সেন্টিমিটার। আর পুকুরে বাড়ে ২ দশমিক ৯ সেন্টিমিটার। এ ছাড়া পুকুরে ইলিশের ডিম এলেও তা পরিপক্ব হয় না। এ ডিম দিয়ে ইলিশের বংশবিস্তার করা সম্ভব হয় না। তবে বাণিজ্যিকভাবে সম্ভব না হলেও শখের বশে পুকুরে ইলিশ চাষ করা যেতে পারে। এ জন্য কমপক্ষে ১০ ফুট গভীর ও ৫০ শতাংশ আয়তনের পুকুর দরকার হবে। এতে দেড় হাজার পোনা ছাড়া যাবে। এগুলো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বছরে ব্যয় হবে প্রায় তিন লাখ টাকা। গত তিন বছরে এ প্রকল্পে প্রায় চার কোটি ছয় লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।