পুলিশের বিরুদ্ধে টাকা আদায়ের অভিযোগ

ঢাকার সাভার ও ধামরাই থানার পুলিশের বিরুদ্ধে নিরীহ লোকজনকে আটক করে নাশকতা মামলায় আসামি করার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
১৮-দলীয় জোটের হরতাল ও অবরোধের সময় যানবাহনে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, বোমা হামলাসহ নাশকতার ঘটনায় প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন থানায় মামলা হচ্ছে। এসব মামলায় জোটের নেতা-কর্মীসহ সাধারণ লোকজনকে আসামি করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, ওই সব মামলায় আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য প্রতিদিনই অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। অভিযানে পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে ব্যর্থ হলেও নিরীহ লোকজনকে ধরে থানায় নিয়ে যায়। পরে তাদের ওই সব মামলার আসামি করার ভয় দেখায় পুলিশ। এরপর মোটা অঙ্কের অর্থ নিয়ে তাদের ছেড়ে দেয় পুলিশ। টাকা নেওয়ার পরও অনেককে আবার ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে।
অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে সাভারের আমিনবাজার এলাকায় গত ২৬ নভেম্বর যানবাহন ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় ২৭ নভেম্বর সাভার মডেল থানায় একটি মামলা হয়।
থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফরিদ উদ্দিন মিয়া ওই মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৩৪৫ জনকে আসামি করা হয়। এদের মধ্যে নাম উল্লেখ করে সুনির্দিষ্টভাবে আসামি করা হয় ১৯৫ জনকে। এদের মধ্যে ১৮৯ ক্রমিকের পিতা অজ্ঞাত দিয়ে আমিনুল নামে একজনকে আসামি করা হয়েছে। আর ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে শুধু ব্যাংক কলোনি।
ওই মামলার সূত্র ধরে ওই (সাভার মডেল) থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দীপক চন্দ্র সাহা গত মঙ্গলবার দুজন কনস্টেবল দিয়ে সাভার সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের নকলনবিশ আমিনুল ইসলামকে ধরে নিয়ে যান। থানায় নেওয়ার পর ওই মামলার আসামি হিসেবে আমিনুলকে থানাহাজতে আটকে রাখা হয়। পরে টাকার বিনিময়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
আমিনুলের মামা আবুল লতিফ জানান, ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে রাত দেড়টার দিকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আমিনুল ২০১০ সাল থেকে সাভার সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে চাকরি করছেন। তিনি মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার খাসেরচর গ্রামের আবদুল হাকিমের ছেলে। থাকেন সাভারের ব্যাংক কলোনির একটি মেসে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাভার সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানান, গত ২৬ নভেম্বর আমিনবাজারে ভাঙচুরের ঘটনার দিন আমিনুল কর্মস্থলেই ছিলেন। তাই ওই দিন আমিনবাজার গিয়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকা আমিনুলের কোনো সুযোগ নেই।
এ বিষয়ে দীপক চন্দ্র সাহা জানান, মামলায় আমিনুল নামের এক আসামির নাম থাকায় নকলনবিশ আমিনুলকে আটক করা হয়। পরে যাচাই-বাছাই করে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে টাকা নেওয়ার কথা তিনি অস্বীকার করেন।
ধামরাই থানার এসআই শহীদুল ইসলাম সরদার ১ ডিসেম্বর ধামরাইয়ের চান্দখালি গ্রামের মোখলেছুর রহমান, কেলিয়া গ্রামের বিল্লাল হোসেন ও জহিরুল ইসলামকে ধরে থানায় নিয়ে যান। এরপর তিনি তাঁদের নাশকতার মামলার আসামি করে আদালতে সোপর্দ করার হুমকি দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন।
মোখলেছের ভাই বিল্টুসহ বিল্লালের স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, বাড়ি থেকে ধরে নেওয়ার পর বিভিন্ন মামলার আসামি করার হুমকি দিয়ে শহীদুল তাঁদের কাছ থেকে এক লাখ ৩৪ হাজার টাকা নেন। এর পরও তিনি তাঁদেরকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করেন। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে শহীদুল অভিযোগ অস্বীকার করে এ বিষয়ে লেখালেখি না করার অনুরোধ জানান।
সাভার মডেল থানার সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মশিউদ্দৌলা জানান, এসব বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।