প্রতিকার নেই, মামলা করবে না ছাত্রদল

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
ফাইল ছবি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ওপর ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের হামলায় ছাত্রদল মামলা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ছাত্রদলের নেতারা বলছেন, মামলা করলে এ ঘটনার কোনো প্রতিকার পাওয়া যাবে না। উল্টো আরও হামলার আশঙ্কা থাকে। তাই তাঁরা মামলা করবেন না।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে পদ্মা সেতু ইস্যুতে কথা বলেন। এর প্রতিবাদে সারা দেশের মতো গত সোমবার বিকেলে রাজশাহী নগরের অক্ট্রয় মোড় এলাকা থেকে ছাত্রদল বিক্ষোভ মিছিল বের করে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন কাজলা গেটে এসে শেষ করেন। দলীয় কর্মসূচি শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বৃদ্ধিজীবী স্মৃতিফলকের পেছনে ছাত্রদলের কয়েকজন বসে পেয়ারা খাচ্ছিলেন। এমন সময় ছাত্রলীগের ১০-১২ জন নেতা–কর্মী এসে লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা করেন।

পরে সেখান থেকে তাঁরা প্রধান ফটক দিয়ে বের হওয়ার সময় ‘তোরা দৌড়াস না কেন’ বলে আবারও মারপিট করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ তাহের রহমান, সদস্য জাকির রেজোয়ানসহ কয়েকজন আহত হন। ছাত্রদল বলছে, এই হামলায় অংশ নেন ছাত্রলীগের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল শাখার সভাপতি কাবিরুজ্জামান রুহুল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল শাখার সহসভাপতি সাখাওয়াত হোসেন ওরফে শাকিলসহ ছাত্রলীগের ১০-১২ জন।

মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার আলী বলেন, এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি।

আরও পড়ুন

হামলায় আহত হয়ে মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে ফিরেছেন ছাত্রদলের এম এ তাহের। তিনি প্রথম আলোকে বলেল, সেদিন দুই দফা তাঁদের মারধর করা হয়েছিল। ছাত্রলীগের মারধর ও ধাওয়ার পর তাঁরা কেন দৌড় না দিয়ে হেঁটে হেঁটে ক্যাম্পাস পার হচ্ছিলেন, এ কারণে শেষবার মারধর করা হয়। মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, এমনিতেই তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতে পারেন না। একসঙ্গে বসে চা খেতে পারেন না। হলেও থাকতে পারেন না। এখন মামলা করলে হয়তো লেখাপড়াটাই শেষ করতে পারবেন না। আবার হামলার আশঙ্কা থাকে। পরিবারও চায় না এই পরিস্থিতিতে এ ধরনের কিছু করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ বলেন, মামলা করলে বিচার হয় না, প্রতিকার নেই। তাই তাঁরা মামলা করবেন না। এর আগে দলীয়ভাবে অনেক মামলা হয়েছে, সেগুলোর কোনো বিচার হয়নি। তাঁরা মামলা করবেন না। সাধারণ শিক্ষার্থীরাই একদিন বিচার করবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক বলেন, এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ দেয়নি। তিনি নিজে উদ্যোগী হয়ে আহত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন।