
সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পদত্যাগের আগ পর্যন্ত ২ বছর ৯ মাস ২৫ দিন সময়ে নানা কারণে আলোচিত ছিলেন। তবে গেল বছরের শেষ ভাগে যা ঘটেছে, তা এ দেশের ইতিহাসে প্রথম: প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ।
বিচারপতি সিনহা প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব নেন ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি। তারপর নানা কারণে আলোচিত ছিলেন। শেষ বিতর্ক সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেওয়া তাঁর লেখা রায় নিয়ে। এতে তাঁর বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী, দলীয় নেতা ও সরকারপন্থী আইনজীবীরা। তাঁর পদত্যাগের দাবি ওঠে। পক্ষান্তরে রায়কে স্বাগত জানায় বিএনপি।
২ অক্টোবর তিনি এক মাসের ছুটির কথা জানিয়ে রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দেন, ছুটির মেয়াদ ছিল ১ নভেম্বর পর্যন্ত। তাঁর ছুটিকে কেন্দ্র করে পক্ষে-বিপক্ষে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। সরকারের মন্ত্রী বলেন, প্রধান বিচারপতি ছুটি নিয়েছেন শারীরিক সমস্যার কারণ দেখিয়ে। বিএনপি অভিযোগ করে, তাঁকে ‘গৃহবন্দী’ করে রাখা হয়েছে। ৫ অক্টোবর ছুটিতে থাকা প্রধান বিচারপতি জনসমক্ষে বের হন।
১০ অক্টোবর তিনি ১৩ অক্টোবর বা কাছাকাছি সময়ে বিদেশে যাওয়া এবং ১০ নভেম্বর পর্যন্ত বিদেশে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ১২ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে আইন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের ভাষ্য, বিচারপতি সিনহার ছুটির মেয়াদ ১০ নভেম্বর পর্যন্ত বেড়েছে।
প্রধান বিচারপতি সিনহা ১৩ অক্টোবর রাতে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার সময় তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, তিনি অসুস্থ নন। তিনি অস্ট্রেলিয়া থেকে সিঙ্গাপুরে যান ৬ নভেম্বর। ১০ নভেম্বর সিঙ্গাপুর থেকে কানাডায় যাওয়ার পথে সেখানকার বাংলাদেশ হাইকমিশনে তিনি রাষ্ট্রপতি বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন। রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন ১৪ নভেম্বর।
বিচারপতি সিনহা ছিলেন দেশের ইতিহাসে প্রথম কোনো অমুসলিম প্রধান বিচারপতি। তাঁর চাকরির মেয়াদ ছিল ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। মেয়াদ শেষের ৮২ দিন আগে তিনি পদত্যাগ করেন।