প্রবীণদের জন্য সুষম খাবার

বার্ধক্যে বিপাকক্রিয়া কমে যায় বলে খাদ্যের চাহিদাও কমে। ৫০ থেকে ৭০ বছর বয়সী লোকদের দৈনিক চাহিদা ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ২০০ কিলোক্যালরি খাবারের প্রয়োজন হয়। একজন বয়স্ক মানুষের খাবারের দৈনিক চাহিদা নির্ভর করে তাঁর কাজের ধরনের ওপর। তবে খাবারটি হওয়া চাই সুষম। অর্থাৎ খাবারে আমিষ, শর্করা, চর্বি, খনিজ লবণ, ভিটামিন ও পানির আনুপাতিক হার যেন ভারসাম্যপূর্ণ হয়।
সাধারণত ৪০ বছর পার হওয়ার পর থেকেই একজন মানুষের খাদ্য সম্বন্ধে সচেতন হওয়া উচিত। সচেতন না হলে উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ ও কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ এসব রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
বৃদ্ধ বয়সে দাঁত পড়ে যায়, ফলে খাবার ভালোমতো চিবিয়ে খাওয়া যায় না। এ অবস্থায় শক্ত ও আঁশযুক্ত খাবার না খাওয়াই ভালো। পাশাপাশি শর্করা ও স্নেহজাতীয় খাদ্য মেদ বাড়ায় বলে সেসব খাবারও কম খাওয়া উচিত।
বার্ধক্যে কম ক্যালরিযুক্ত খাদ্য খাওয়া উচিত। এ জন্য খাবারে স্নেহ, শর্করা ও প্রোটিনের পরিমাণ কমিয়ে দিতে হবে। ঘি, মাখন, বাটার, বনস্পতি এবং চর্বিজাতীয় ও তেলে ভাজা খাবার বাদ দেওয়াই ভালো। কমাতে হবে লবণের পরিমাণও। পাশাপাশি প্রচুর পানি পান করতে হবে। সঙ্গে প্রতিদিন কিছু ভিটামিন সি–জাতীয় কাঁচা ফল খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।
প্রবীণ ব্যক্তিদের প্রতিদিন সকালে নিয়মমাফিক আধঘণ্টা বা এক ঘণ্টা হাঁটতে হবে। ভাত, রুটি, আলু, চিড়া, খই ইত্যাদি শর্করাজাতীয় খাবারের ওপর থেকে চাপ কমাতে হবে। পূর্ণবয়স্ক ও বৃদ্ধ লোকজনের আমিষের চাহিদা একই থাকে। এই বয়সে উৎকৃষ্ট মানের আমিষের জন্য দুধই সবচেয়ে উপকারী। দুধ আমিষ ছাড়াও ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ করে। এ সময় যাতে রক্তস্বল্পতা দেখা না দেয়, সে জন্য প্রয়োজনমতো লৌহজাতীয় খাদ্য খাওয়া উচিত। খাদ্যতালিকায় মাঝেমধ্যে কলিজা রাখলে লোহার ঘাটতি পূরণ হয়। সবজির মধ্যে কচুর শাক ও কচুর লতিতে এবং ফলের মধ্যে কালোজামে প্রচুর লোহা আছে। প্রবীণ ব্যক্তিদের খাবারে যথেষ্ট পরিমাণ ভিটামিন যেন থাকে। এ জন্য প্রতিদিনের খাবারে অবশ্যই ফল রাখতে হবে।
বয়স্ক লোকজনের খাবারে অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত খাবার রাখা উচিত নয়, সে কথা আগেই বলা হয়েছে। খেয়াল রাখতে হবে, দুপুর ও রাতের খাবারে হাতে বানানো রুটি বা এক কাপ থেকে দুই কাপ ভাত, ২৫০ গ্রাম দুধ, ১০০ গ্রাম কাঁচা বা তাজা ফল, ১২৫ গ্রাম শাকসবজি, পরিমাণমতো মাছ বা মাংস (বিশেষ করে মুরগির মাংস) ও এক দিন অন্তর ডিম যেন থাকে।
প্রধান পুষ্টি কর্মকর্তা
চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতাল