প্ররোচনাকারীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

টাঙ্গাইলে জেলা সদর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী বিথী রানী পালের (১৫) আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে মাধবচন্দ্র পাল ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে। বিথীর সহপাঠী ও এলাকাবাসী গতকাল বুধবার এ কর্মসূচি পালন করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সকালে ওই মানববন্ধন হয়। এতে বিথীর সহপাঠীরা অবিলম্বে তার (বিথী) প্রেমিক মাধবকে গ্রেপ্তারের দাবি জানায়। বক্তব্য দেন টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাফর আহমেদ, পৌর কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন আলী, ‘নিজেরা করি’র বিভাগীয় সমন্বয়ক খন্দকার শামসুল আলম প্রমুখ। পরে তাঁরা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, দেড় বছর আগে বিথীর সঙ্গে একই এলাকার মাধব পালের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়। মাধবকে বিথী বিয়ে করতে বলে। মাধব বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে গত ১৫ মে বিথী ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়।
১৮ মে বিথীদের বাড়িতে এ ব্যাপারে উভয় পক্ষের মধ্যে বৈঠক হয়। বৈঠকে ২৫ মে তাদের বিয়ের সিদ্ধান্ত হয়। ১৯ মে বিথীকে মাধব ফোন করে জানায়, বিয়ের পর মাধব তাকে (বিথী) শান্তিতে থাকতে দেবে না। মাধব বলে, ‘তুই আমাকে বিয়ে করার চেয়ে ফাঁসিতে ঝুলিয়া আত্মহত্যা করো, সেটাও ভালো হবে।’ বিথী এসব কথা তার মাকে বলে কাঁদতে কাঁদতে তার ঘরে চলে যায়। বেলা ১১টার দিকে বিথীর মা তার ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ দেখে ডাকাডাকি করেন। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে গিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ওড়না প্যাঁচানো বিথীর লাশ দেখতে পান। ওই দিনই বিথীর বাবা সত্যরঞ্জন পাল বাদী হয়ে মাধব ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করেন। সদর মডেল থানার ওসি গোলাম মোস্তফা জানান, আসামিরা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।