ফটিকছড়ির মাইজভান্ডার ওরসে ভক্তদের মিলনমেলা

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারীর ১১১তম বার্ষিক ওরসের শেষ দিনে গতকাল সোমবার হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। জাতি-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন ওরসে অংশ নেন। ভক্তদের পদচারণে মুখর হয়ে ওঠে মাইজভান্ডার দরবারসহ আশপাশের এলাকা। রাতে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ওরস।
ওরসকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি প্রদান, হামদ-নাত প্রতিযোগিতা, শিক্ষক সমাবেশ, সেমিনার, মাইজভান্ডারী তরিকার প্রচার এবং চিত্র প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়। এতে দেশের বাইরে ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের ভক্তরা অংশ নেন। ওরসকে কেন্দ্র করে মাইজভান্ডার দরবারের আশপাশের তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে লোকজ মেলা বসে।
গত শনিবার শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী ওরসকে নির্বিঘ্নœকরতে গাউছিয়া আহমদিয়া মঞ্জিল, শাহ এমদাদীয়া মঞ্জিল, রহমানিয়া মঞ্জিল, হক মঞ্জিল, উপজেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, র্যাব ও পুলিশ সহযোগিতা দেয়। ওরসে আড়াই হাজার স্বেচ্ছাসেবক কাজ করেন।
ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু ইউসুফ মিয়া বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পুলিশের পাশাপাশি র্যাবও দায়িত্ব পালন করে।
ওরসে তিন দিন ধরে চলে জিকির-আজকার ও মিলাদ। গতকাল রাতে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে আখেরি মোনাজাত করা হয়। পৃথকভাবে মোনাজাত পরিচালনা করেন সৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভান্ডারী ও সৈয়দ দিদারুল হক মাইজভান্ডারী।
ওরসে অংশ নিতে ফেনীর দাগনভূঞা থেকে আসা রবিউল হক বলেন, মাইজভান্ডার এক ঐতিহাসিক তীর্থভূমি। সব ধর্মের লোকজন এখানে আসেন।
দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা শিল্পীরা তিন দিন ধরে দরবারের আশপাশে ভান্ডারী ও ছেমা গানের আসর বসান। কক্সবাজারের পেকুয়া এলাকার মাইজভান্ডারী গানের শিল্পী মুহাম্মদ নসির উদ্দিন বলেন, এখানে আসা ভক্তরা সব ভেদাভেদ ভুলে যান।