বগুড়ায় ৩৫৭ কেন্দ্রে ৭১ হাজার জনকে টিকাদানের প্রস্তুতি
বগুড়ায় পূর্বঘোষণা অনুযায়ী শনিবার করোনাভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচির সব প্রস্তুতি শেষ করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। টিকাদানের এই কার্যক্রম সকাল নয়টা থেকে জেলার ১২টি উপজেলার ৩৫৭টি কেন্দ্রে একযোগে শুরু হচ্ছে।
প্রতিটি কেন্দ্রে ২০০ জন ধরে মোট ৭১ হাজার ৪০০ জনকে সিনোফার্মার টিকা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে জানিয়েছেন।
সার্জনের কার্যালয় বলছে, শনিবারের এই কার্যক্রমে বয়স্ক ব্যক্তি এবং দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষ অগ্রাধিকার পাবেন। অনলাইনে আগে নিবন্ধন না করলেও টিকা পাবেন। সে ক্ষেত্রে কেন্দ্রে জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে যেতে হবে। সেখানে নিবন্ধনের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। টিকাদান কেন্দ্রে লোকজনকে উপস্থিত করার জন্য জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় প্রশাসনের লোকজন নানাভাবে প্রচারণা চালিয়েছেন।
এ বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে বগুড়ায় করোনাভাইরাসের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। এ পর্যন্ত ১ লাখ ৮২ হাজার ৩৪ জনকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা এবং ৯০ হাজার ৮৩৭ জনকে সিনোফার্মের টিকা দেওয়া হয়েছে। অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার প্রথম ডোজ ১ লাখ ৯ হাজার ৮৩৪ জন এবং দ্বিতীয় ডোজ ৭২ হাজার ২০০ জন পেয়েছেন।
অ্যাস্ট্রাজেনেকার মজুত শেষ হওয়ায় এই টিকা দেওয়া আপাতত বন্ধ আছে। প্রথম ডোজ পাওয়া ৩৭ হাজার ৬৩৪ জন মানুষ দ্বিতীয় ডোজের অপেক্ষায় আছেন। অন্যদিকে এ পর্যন্ত সিনোফার্মের টিকার প্রথম ডোজ পেয়েছেন ৯০ হাজার ৮৩৭ জন। শনিবার আরও ৭১ হাজার ৪০০ জনকে সিনোফার্মের টিকা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। কেন্দ্রে কেন্দ্রে টিকা প্রদানের জন্য ইতিমধ্যেই উপজেলা পর্যায়ে টিকা পাঠানো হয়েছে বলেও সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ডেপুটি সিভিল সার্জন মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রতিটি কেন্দ্রে দুজন করে টিকাদান সহকারী এবং দুজন স্বেচ্ছাসেবী দায়িত্ব পালন করবেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসকদের নেতৃত্বে টিকাদান কার্যক্রম ব্যবস্থাপনায় থাকবে ভ্রাম্যমাণ দল। টিকা নেওয়ার পর কোনো কেন্দ্রে কেউ অসুস্থতা বোধ করলে ওই দলে থাকা চিকিৎসকেরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
বগুড়ায় শুক্রবার পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৯ হাজার ৪৮৫ জনের। করোনায় সংক্রমিত হয়ে এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৫৯০ জনের। এর মধ্যে শুক্রবার বেলা ১১টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ১১ জনের। বর্তমানে জেলার করোনা বিশেষায়িত হাসপাতালে ৫১৩ জন চিকিৎসাধীন।